খুলনা সিটি মেডিকেল হাসপাতালের সামনে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন

প্রকাশিত: ০৬-১১-২০২১, সময়: ০২:২৩ |
Share This

খুলনা থেকে শেখ আব্দুল মজিদ : খুলনার সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বেআইনীভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, এ্যাম্বুলেন্স, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ি পাকির্ং করছে। ফলে হাসপাতালটির সামনের সড়ক দিয়ে অন্যান্য যানবহনের ও চলাচলকারীদের দারুন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সেখানে বেআইনীভাবে প্রধান সড়কে পার্কিং থাকায় উক্ত সড়ক দিয়ে পর্যাপ্ত যাতায়াতের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকাতে প্রতিনিয়ত যানজট ঘটছে। বিশেষ করে সকাল ৯ টার পর থকে উক্ত সড়ক দিয়ে চলাচল করতে দুর্বিষহ পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হচ্ছে জানা গেছে। জনসাধারনের এ ভোগান্তি দিনে দিনে প্রকট রূপ ধারণ করছে। এমনকি খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপরীতে আহছান উল্যাহ কলেজের সামনেও প্রধান সড়কে বেআইনী ভাবে পার্কিং করছে কিছু এ্যাম্বুলেন্স। জানা যায়, উক্ত এ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপতালে রুগী আনা নেওয়া করা হয়। হাসপাতালটির পর্যাপ্ত পার্কিং না থাকায় আগতরা এভাবে প্রধান সড়কের উপর গাড়ি মটরসাইকেল পার্কিং করছে বলে অনেকে জানায়। এমনকি এ্যাম্বুলেন্স পার্কিং করার পর্যাপ্ত জায়গা হয়তবা নেই, বিধায় প্রধান সড়কের উপর খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আহছান উল্যাহ ডিগ্রী কলেজের সামনেও পার্কিং করছে। তাতে করে কলেজ কর্তৃপক্ষও নাখোশ। কিন্তু কোন ভাবেই এই সমস্যা লাঘোবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেহই নজর দিচ্ছে না বলে জানা গেছে। যার জন্যই সমস্যাটি প্রকট রূপ ধারন করেছে। পর্যাপ্ত পাকির্ং স্থান না রেখে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বহুতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মান করে যানজট সৃষ্টি করে জনসাধারনের যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করছে বলে অনেকে জানায়। এমনকি উক্ত হাসপাতালটির সামনে র‌্যাম অনেক বেশি ঢালু থাকায় ফুটপাত দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় পথচারীদের পড়ে গুরুত্বর আহত হওয়ার পরিস্থিতি ছিল। সাম্প্রতি সেখানে ফুটপাতের টাইলস উঠিয়ে ঢালু কমানোর কাজ চলছে বলে জানা গেছে। সে বিষয়ে পত্র পত্রিকায় বেশ কয়েকবার সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তা হয়ত কর্তৃপক্ষর নজরে পড়ে। বিধায় ফুটপাত ভেঙ্গে সেখানে র‌্যামের ঢালু অনেকটা সামঞ্জাস্যপূর্ণ করার কাজ চলছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি হাসপাতালটির সামনে বেআইনীভাবে পার্কিং মোটরসাইকেল, গাড়ি ও রাস্তার বিপরীতে আহছান উল্যাহ কলেজের সামনে ও পাশে একাধিক সংখ্যক এ্যাম্বুলেন্স পার্কিং থাকার বিষয়েও পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু সে বিষয়ে কোন ব্যাবস্থা গ্রহণ হচ্ছে না বলে অনেকে বলেন। বিধায় বেআইনী পাকির্ং বন্ধ হচ্ছে না। বর্তমানে স্কুল কলেজসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ছাত্র ছাত্রীদের লেখাপড়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর লেখাপড়া শুরু হওয়াতে উদ্যমের সাথে প্রায় সকল ছাত্র ছাত্রীরা নিয়মিত কলেজ প্রাঙ্গনে আসছেন। তাছাড়া দেশের সকল ছাত্রছাত্রীদের করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া হয়নি। তাছাড়া ভ্যাকসিন নিলেই যে করোনা হবে না তার কোন নিশ্চয়তাও নেই। উক্ত হাসপাতালের উপরিতলায় করোনা ইউনিট রয়েছে। সেখানে করোনাসহ বিভিন্ন ধরনের রোগীদের বহনরত এ্যাম্বুলেন্সগুলো কলেজের প্রাঙ্গনে রাস্তার উপর বেআইনীভাবে পার্কিং থাকাতে ছাত্র ছাত্রী ও শিক্ষকবৃন্দদের স্বাস্থ্য ঝুকির সম্ভাবনা থাকছে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে। উক্ত স্থানে এ্যাম্বুলেন্সগুলো পার্কিং থাকা অবসথায় তার দরজা খুলে রেখে গাড়ির স্টাফরা আ্ড্ডারত থাকার চিত্র ঘটছে প্রায়ই। তাতে করে রোগ জীবানু উক্ত কলেজ প্রাঙ্গনে ছড়ানোর সম্ভাবনা বিরাজ করছে অনেক বেশি। এ সংক্রান্তে পদক্ষেপ গ্রহনের বিষয়ে মেট্রোপলিটন ট্রাফিক পুলিশের নিকট কয়েকদফা জানতে চাইলে জানিয়েছেন, সেখানে রাস্তার উপর পার্কিং করার জন্য বেশ কয়েকবার জরিমানা করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও তারা বলেছে বলে জানিয়েছেন। কেএমপি ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তার এ বক্তব্য আলোচ্য সংক্রান্তে পত্রিকায় সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তারপরেও সেখানে পার্কিং নিয়ন্ত্রনে থাকছে না। অনেকে বলেন হয়তো বা ট্রাফিক পুলিশের চেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর ক্ষমতা অনেক বেশি। যার জন্যই দুএকদিন আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করেই আবার চুপ হয়ে যান। সড়কের উপর বেআইনী পাকির্ং করার জন্য পুলিশের রেকার রয়েছে। তা দিয়ে সড়কের উপর বেআইনী পার্কিংরত গাড়ি গুলোকে জব্দ করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে ট্রাফিক পুলিশ। কিন্তু তারা তা করছে না। বিধায় সেখানে হুশ আসছে না কারও। বরং দেখা যায়, সড়কের উপর উক্ত বেআইনী পার্কিংরত মোটরসাইকেল গাড়ি গুলোর পরে সারিতে যাত্রীদের জন্য অপেক্ষারত ইজিবাইকগুলোর পাশে দাড়ানো রয়েছে উক্ত হাসপাতালের দারোয়ান। অনেকে বলেন, হয়তো বা এই দারোয়ান রাখা হয়েছে রাস্তার উপর পার্কিংরত মোটরসাইকেল গাড়িগুলোর পাহারা দেবার জন্য। অনেকে বলেন, এরা যাতায়াতের প্রধান ব্যাস্ততম সড়কটিকে নিজেদের পার্কিং প্লেস হিসাবে ব্যবহার করছে । অথচ এই হাসপাতালটির পাশেই ময়লাপোতা মোড়ে রয়েছে পুলিশ বক্স। উক্ত মোড়টি ডবল লেন বিশিষ্ট চারমুখি। অর্থাৎ শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট উক্ত মোড়টি। সেখানে চারটি দিক মুখি সড়কের ডবল লেন বিশিষ্ট মোড়। এতটা গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের পাশেই প্রধান সড়কের উপর পার্কিং থাকছে বেআইনীভাবে। সেখানে ট্রাফিক পুলিশ ও সার্জেন্ট সার্বক্ষনিক কর্মরত থাকলেও তারা সেগুলোর দিকে কোন নজরই দেয় না বলে দাবি করেন অনেকে। বর্রং সে অবস্থার পাশেই তারা ডিউটি করছে। এ বিষয়ে কয়েকদফা পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও যাচ্ছে তাই পরিস্থিতি থেকে যাচ্ছে। প্রশাসনের উর্দ্ধতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষন করে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না বিধায় প্রধান সড়কের উপর এধরনের বেআইনী পার্কিং দিনকে দিন বেড়েই চলেছে বলে অনেকে মন্তব্যে জানিয়েছেন। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার জন্য এবং দুর্ঘটনা রোধের জন্য ট্রাফিক আইনে নতুন কিছু গৃহিত আইনি পদক্ষেপ হিসাবে জরিমানা বাড়ানোসহ আরো কিছু সংযোজন হয়েছে। অনেকে

বলেন তার কোনটাই উক্ত হাসপাতালের সামনে ট্রাফিক পুলিশ হয়তো বা প্রয়োগ করছে না। আইন জোরদার হলেও যারা প্রয়োগ করবে তাদের ঢিলে ঢালা দ্বায়িত্ব পালনের জন্যই খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপতালের সামনে বেআইনী পার্কিং বন্ধ হচ্ছে না বলে অনেকে দাবি করেন। এ বিষয়ে অনেকে বলেন খুলনার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রতি মাসে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু হাসপাতালটির সামনে বেআইনী ভাবে পার্কিং বিষয়টি দেখে অনেকে বলেন আইন শৃঙ্খলার মিটিং ই শুধু হয়। কিন্তু প্রসঙ্গত স্থানে ট্রাফিক আইন শৃঙ্খলার কোন উন্নতি হয় না বলে অনেকে বলেন। আলোচ্য বেআইনী পার্কিং বিষয়ে কঠোর ভূমিকা পালনের জন্য খুলনা জেলা প্রশাসক মহোদয়কে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে বিশেষ ভাবে হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে