‘দূষণ ও ভেজাল খাদ্য শিশুর জন্মগত ত্রুটির কারণ’

প্রকাশিত: ০৩-০৩-২০১৭, সময়: ০৮:৩০ |
Share This

পরিবেশ দূষণ, ভেজাল খাদ্য গ্রহণসহ নির্দিষ্ট কিছু কারণে জন্মগত ত্রুটিযুক্ত নবজাতকের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে- জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে নবজাতকের মৃত্যুর জন্য দায়ী প্রধান পাঁচটি কারণের মধ্যে জন্মগত ত্রুটিকেও অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে যা আগে ছিলো না। বিশ্বে প্রতি ৩৩টির মধ্যে একটি শিশু জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মাচ্ছে বলে জানান তারা।

চলছে পাপাইয়ের জন্মদিনের উৎসব। নয় বছর বযসী এই শিশু ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেয়া একজন। জন্মের পর থেকে সমাজের মূল ধারায় কখনই স্থান হয়নি তাঁর।

বিশ্বস্থাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদন বলছে, শারিরীক ত্রুটি নিয়ে জন্মানো শিশুর ৬৫ ভাগই সময় মতো চিকিৎসা দিলে সুস্থ হতে পারে। ২৫ ভাগ শিশু কখনো সুস্থ না হলেও বাকি দশ ভাগের দরকার দীর্ঘ মেয়াদি চিকিৎসা। আর এদেরকে নিয়ে সমাজের বাঁকা চোখ- বরাবরই কষ্টে ভারি করে মা-বাবার বুক।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছে, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়ার মতো রোগের বিপরীতে আমাদের সাফল্য আসলেও দিন দিন আতঙ্ক ছড়াচ্ছে জন্মগত ত্রুটি নেয়া শিশু। যা ম্লান করে দিতে পারে গত সময়ের স্বাস্থ্যখাতে যাবতীয় অর্জন। গর্ভাবস্থায় একটু সচেতন হলেই এড়ানো যেতে পারে এই সমস্যা।

জন্মগত ত্রুটির কারণ প্রতিকার গুলো হল অপুষ্টি, গর্ভকালিন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্ত সর্ম্পকীয় বিয়ে, রক্ত সম্পর্কীয় বিয়ে প্রতিরোধ, ভেজাল খাদ্য দ্রব্য, অ্যালকোহল গ্রহন ও ধুমপান, অপুষ্টি রোধ, অল্প ও অধিক বয়সে মা হওয়া, মাতৃত্ব কালীন সেবার মান বাড়ানো, গর্ভকালিন সুচিকিৎসার অভাব, গর্ভের বাচ্চার শারিরীক ত্রুটি পরীক্ষা

এছাড়া জটিল ত্রুটি নিয়ে জন্মানো শিশুর দরকার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা। যে সেবাটির বেশির ভাগ উদ্যোগই ব্যক্তি নির্ভর। খরচ ও নিবিড় দেখাশুনার প্রয়োজনটাও বেশ জরুরী। সরকারিভাবে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের আওতায় একটি প্রতিষ্ঠান থাকলেও সেটিতে নেই পর্যাপ্ত লোকবল।

২০১৫ সাল থেকে ৩ মার্চকে ‘বিশ্ব জন্মগত ত্রুটি’ দিবস ঘোষণা করেছে বিশ্ব-স্বাস্থ্য সংস্থা।

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে