তেঁতুলিয়ায় দখলে থাকা পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত খাসজমি সুলতান আলী ও তার স্ত্রী সোনাবানুর নামে বন্দোবস্ত

পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড় জেলাধীন তেঁতুলিয়ায় উপজেলায় দখলে থাকা পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত খাসজমি সুলতান আলী ও তার স্ত্রী সোনাবানুর নামে বন্দোবস্ত হয়েছে। তেঁতুলিয়া সদর ইউপির শারিয়ালজোত গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে সুলতান আলী ও তার স্ত্রী সোনাবানু পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার দর্জিপাড়া মৌজার জে.এল.নং-১১এর ১নং খতিয়ানের ৩৫৮৩ দাগে ২৫শতক, ৩৫৮৫ দাগে ২০শতক, ৩৫৯৮ দাগে ২০শতক জমি অন্যান্য অংশীদারদের বাদ রেখে তাদের নামে বন্দোবস্ত করে নেই। জমি সংক্রান্ত এই বিরোধের জের ধরে সোনাবানু কর্তৃক উপজেলার ৩নং ইউপির চেয়ারম্যান ও ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যসহ শারিয়ালজোত গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে তালেব, জামাল, আঃ মালেক, হাবীবুল্লাহ, তালেবের ছেলে ইমান আলী এবং গ্রামবাসি আব্দুল কুদ্দুস, সফর, নুর হোসেনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মূলক বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার দুপুরে উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের শারিয়ালজোত গ্রামে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল মালেকের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শুনান তার স্ত্রী শাহানাজ বেগম। এসময় উপস্থিত ছিলেন এলাকার গন্যমান্যব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন নারী-পুরুষ।
সংবাদ সম্মেলনে জানাগেছে, মৃত আব্দুল খালেক জীবদ্দশায় থাকাকালীন দর্জিপাড়া মৌজার জে.এল.নং-১১এর ১নং খতিয়ানের ৩৫৮৩ দাগে ২৫শতক, ৩৫৮৫ দাগে ২০শতক, ৩৫৯৮ দাগে ২০শতক জমির সম্পত্তি তাহার ছেলেদেরকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে ছিলেন। তিনি তার জীবদ্দশায় থাকাকালীন খাসজমি তাহার নামে বন্দোবন্ত করার প্রয়োজন হয়নি মর্মে সেইভাবে পজিশন ধরে তাহার ছেলেদের বসতবাড়ি করিয়ে দিয়ে পরলোকগমন করেন। মৃত আব্দুল খালেক একজন স্ত্রী ও ছয় পুত্র রেখে পরলোকগমন করেন। আব্দুল খালেক মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া ছয় পুত্রের মধ্যে সুলতান আলীর স্ত্রী সোনাবানু দেওলীয়াবাজ লোকজনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে গোপনে তার ও তার স্বামীর নামে সমুদয় অংশ বন্দোবস্ত করে নেন। এ বিষয়টি অপর অংশিদাররা জানতে পারলে কেন এই কাজটি করা হয়েছে মর্মে বাকি অংশিদারেরা স্থানীয় চেয়ারম্যানের নিকট অভিযোগ দিলে চেয়ারম্যান তাহাদের ৬ভাইকে ১০শতক জমি ভাগ করে দেয়ার পর অবশিষ্টের ৪শতক জমি সোনাবানুকেই দেন। সোনাবানু চেয়ারম্যানের এই সালিশিকে তোয়াক্কা না করে তার ছেলে লিটন ও তার জামাই রিপনকে দিয়ে বিভক্ত করে দেয়া বাঁশ অন্যায়ভাবে কাটতে থাকলে অপরপক্ষ ও গ্রামের লোকজন চেয়ারম্যানকে অবগত করেন। এহাতে চেয়ারম্যান কাটা বাঁশ গুলো তাহার চৌকিদারের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। যা এখনো পরিষদে সংরক্ষিত রয়েছে। কিন্তু সোনাবানু নিজেই বাঁশ কেটে চেয়ারম্যান ও সদস্যসহ ভুক্তভোগীদের নামে মিথ্যা মামলা করেন। জানাযায়, সোনাবানু এভাবে প্রায় ১৪ থেকে ১৫টি মিথ্যা মামলা করেন। বিরোধপূর্ণ এই জমির ভিতর ৪শতক জমি সোনাবানু গ্রামের তারামিয়া নামের ব্যক্তির নিকট নাদাবীপত্রে বিক্রি করেন জানাগেছে। সোনাবানু জানান, তার বন্দোবস্তকৃত জমিতে বিবাদীরা মারামারি করতে যাওয়ায় সে মামলা করেন।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন ওরফে বাবু জানান, সোনাবানু আমাকে ও চেয়ারম্যানের ওপর মিথ্যাভাবে মামলা করেন। সে বর্তমানে মামলাবাজে রুপান্তরিত। সে আমাদের ওপর মামলাকরে আমাদের মানহানি করেছেন। এব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী আনিসুর রহমান জানান, সোনাবানু মেয়েটি আগে ভালই ছিলেন। কে বা কাহাদের বুদ্ধিতে আমাকে বাঁশ কাটা মামলা দেন এবং তাহার দেবর, ভোশুর, ভাতিজা ও গ্রামের লোকদের ওপর মিথ্যা মামলা করেন। মিথ্যা মামলা করায় মামলাটি থেকে আমি খারিজ পেয়েছি অন্যদিকে সে আমার মানহানি করেছে। সে যত মামলা করেছে গ্রামের সবাই স্বাক্ষী দেবে তার প্রতিটি মামলা সাজানো অসত্য। বর্তমানে সোনাবানুর চলাফেরা সন্দেহ জনক বলেও জানান তিনি।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Comments are closed.

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

ওয়েবসাইট নির্মানে: আইটি হাউজ বাংলাদেশ