আশুলিয়ায় পানি বন্দী হাজারো পরিবার, স্থায়ী সমাধান চাই এলাকাবাসী

আওরঙ্গজেব কামাল : ঢাকা জেলার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে শত শত ঘরবাড়ী তলিয়ে গেছে ময়লা দূগন্ধ কেমিকেল মিশ্রিত পানিতে। প্রচন্ড শীতে অতি কষ্টে রাত্রী যাপন করছে হাজারো পোশাক শ্রমিক ও স্থায়ী বাসিন্দারা। এলাকাবাসি জানায়,বহু দিন থেকে অনন্ত পোশাক কারখানার মধ্য দিয়ে এলাকার বাসাবাড়ীর পানি সরবরাহ হতো। এর পর ঐ ড্রেনে বিভিন্ন পোশাক কারখানা ও থ্যাই কারখানার পানি সরবরাহ করে। কিন্ত বেশ কিছুদিন পূর্বে অনন্ত পোশাক কারখানা তার মধ্যে থাকা এলাকার এক মাত্র পানি সরবরাহের রাস্তাটি বন্ধ করে দিলে এলাকায় জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বর্তমানে অনন্ত পোশাক কারখানা বালী দিয়ে ভরাট করে ফেলেছে এক মাত্র পানি সরবরাহের রাস্তা। এই এলাকায় রয়েছে একাধিক পোশাক ও অনন্য কারখানা । সেই সব কারখানায় প্রতিনিয়ত কাজ করে হাজার হাজার শ্রমিক। সেই শ্রমিক এলাকা কিভাবে দির্ঘদিন ধরে পানিতে তলিয়ে থাকে এই প্রশ্ন স্থানীয় জনসাধারনের। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানাযায়, আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার অন্বেষা গলি ও তার আশেপারের এলাকার পানি নিষ্কাশনের একটি ড্রেই আটকে দেয় অনন্ত পোশাক কারখানা। ফলে এখানেই দীর্ঘদিন ধরে পানি বন্দী হয়ে পড়ে শ্রমিকসহ স্থায়ী বাসিন্দারা। বাসা বাড়ি ও কয়েকটি পোশাক কারখানার পানি জমে ঘরে উঠেছে ময়লা দুগন্ধ পানি। স্যালো ম্যাসিনের মাধ্যমে পানি অপসারনের চেষ্টা করলেও কোন ফল পাচ্ছে না এলাকাবাসী । গত কাল সকালে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার অন্বেষা গলি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দূষিত পানিতে তলিয়ে গেছে অলিগলি ও রাস্তা মহল্লা। বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেছে দূষিত পানি। বাসার টয়লেটের পানি উঠছে ঘরে। ভাড়াটিয়াসহ বেশ কয়েকজন বাড়ির মালিক উঠেছেন অন্য ভাড়া বাসায়। পানি বন্দি বাড়ির মালিক মজিবার বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে আমার ঘরে দূষিত পানি ঢুকছে। প্রতিদিন সকালে উঠে পানি সেঁচ দিয়ে শুকিয়ে নিয়ে রান্না করতে হয়। বাড়ীর সামনে হাটু পানি যেন ঘর থেকে বের হওয়ার উপায় নেই। পোশাক শ্রমিক সাবিনা বলেন আমরা অতি কষ্টে এখানে বসবাস করছি। পোশাক কারখানায় কাজ শেষে বাসায় এসে রান্না করতে পারিনা না। ঘরের মধ্যে ময়লা পানি। গন্ধে ঘুমাতে পারিনা। দুপুরে খাওয়ার জন্যও বাসায় আসতে পারি না। আমরা খুব কষ্টে আছি। বাসা ছেড়ে দিয়েও যেতে পারছি না। ভাড়াটিয়া ফরিদ বলেন বলেন, আমি এখানেই একটি বাসা ভাড়া নিয়ে গাড়ীর বডি তৈরী করে জিবিকা নির্বাহ করি । তবে অনন্ত গার্মেন্টস তাদের ভিতরে থাকা পচা দূগন্ধ যুক্ত ময়লা আমার বাসা ও কারখানার ভিতরে দিয়ে আমার জীবিকার পথ বন্ধ করেছে এবং আমার থাকার যাইগা একেবারে নষ্ট করেছে। এ বিষয়ে ভূক্তভোগী এনামুল বলেন আমি একজন মুদি ব্যবসায়ী । আমার বাসা ও দোকান পানিতে তলিয়ে গেছে। অবশেষে বাসা ছেড়ে অনত্রে বাসা নিয়েছি। তবে দোকানের অনেক মালামাল নষ্ট হয়েছে। বাড়িওয়ালা শাহাদাত হোসেন বলেন, আমি একজন গ্যারেজ ব্যাবসায়ী । অনন্ত ময়লা পানি ও দূগন্ধ যুক্ত বর্জ আমার গ্যারেজ তলিয়ে গেছে এবং আমার দোকানের মালামাল ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই মাসে আমি কিভাবে কিস্তি দেবো ভেবে পাচ্ছি না। আমি বাড়িওয়ালা হয়েও আজ অসহায়। ভাড়াটিয়ার জন্য কিছু করতে পারছিনা। আমরা সবাই খুবই দূরাবস্থায় আছি। কে দেখবে আমাদের? এ বিষয় নিরাশনের জন্য আওয়ামীলীগ,যুবলীগ নেতৃবৃন্দ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে দুইটি স্যালো পাম্পের মাধ্যমে ২৪ ঘন্টা পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। তবুও দূরঅবস্থা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না ভূক্তভোগীরা। এ বিষয়ে স্থানীয় ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আবু তাদের মৃধা বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করা প্রয়োজন রয়েছে এ বিষয়ে গত বছর আমি কাজ করেছি। তকে কারখানার কারনে এই সমস্যা তৈরী হয়েছে। আপনারা কারখায় গিয়ে বলেন তারা পানি নিষ্কাশনের কি ব্যবস্থা করেছে। আর ওই এলাকায় মাদবর বেশি, ওখানে কথায় কোন কাজ হয় না। সরেজমিনে যেয়ে দেখা যায় বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত সংবাদ প্রকাশ করছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা এই প্রতিবেদককে জানাই আমরা সংবাদ প্রচার করেও এলাকাবাসীর দূর্ভোগ লাঘব হচ্ছে না। বিষয়টি নিরাসনের জন্য এলাকাবাসীর জোর দাবী জানিয়েছেন।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Comments are closed.

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

ওয়েবসাইট নির্মানে: আইটি হাউজ বাংলাদেশ