আশুলিয়ায় পৃথক দুই যুবকের লাশ উদ্ধার ও এক নারীকে এসিড নিক্ষেপ

হেলাল শেখঃ ঢাকার সাভারে দিনে দুপুরে মিলন (২০) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্প্রতিবার ৩ ডিসেম্বর সাভার পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ জামসিং এলাকায় একটি পুকুরের পাশে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত মিলন একই এলাকার ফজলুল হকের ছেলে।
এ বিষয়ে নিহত মিলনের বাবা ফজলুল হক জানান,গত কয়েকদিন যাবৎ বাড়ির পাশে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় একটি পুকুরে বাশ দিয়ে বেড়া তৈরি করছিলো পুকুরের মালিক ইমন ও মিলন। বৃহস্প্রতিবার সকাল ১১টার দিকে মিলন বাসা থেকে বের হয়ে গেলে সেই পুকুরে রক্তাক্ত অবস্থায় মিলনের মরদেহ দেখতে পান তিনি। পুলিশকে খবর দেয়া হয়, এ ঘটনার পর থেকে মিলনের সাথে থাকা ইমনকে পালিয়েছে।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত মিলনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রের আঘাত দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। এছাড়া এই হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে আশুলিয়ার ইউসুফ মার্কেট এলাকার চিশতিয়া বেকারীর কর্মচারী মুরসালিন (১৮) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছেন আশুলিয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে ওই বেকারীর মালিক আশরাফ মোবাইল ফোন বন্ধ করে পালিয়েছে। মুরছালিনের সাথে কাজ করতেন আব্দুল রহমান (১৫), শামীম (১৯), ও ফাহিম (১২)। তারা জানিয়েছে, মুরছালিন ৪ মাস আগে এই বেকারীতে কাজ নিয়েছে। নিহত মুরছালিন সুনামগঞ্জ এলাকার আজমল হোসেনের ছেলে। মুরছালিন একই এলাকার মোছাঃ মুনমনি (১৬) নামের এক কিশোরীর সাথে প্রেম করতেন, বিষয়টি পরিবারের লোকজন জানাজানি হলে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে আশুলিয়ার ইউসুফ মার্কেট চিশতিয়া বেকারীতে কাজ নিয়ে ভালোই কাজ করতেন বলে তার সহযোগীরা জানান।
বৃহস্প্রতিবার সকাল ৯টার দিকে এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার (এস আই) আল মামুন কবির গণমাধ্যমকে বলেন, চিশতিয়া বেকারীর বাহিরে একটি গাছের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় মুরছালিন নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজধানী ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হবে। আর নিহতের পরিবারের লোকজনকে খবর দেয়া হয়েছে তারা সুনামগঞ্জ থেকে আসতেছে। তবে বেকারীর মালিকের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে আশুলিয়ায় ডিভোর্সের প্রায় ৪মাস পর মোছাঃ দোলনা আক্তার রিমা (১৮) নামের এক পোশাক শ্রমিককে এসিডে ঝলসে দিয়েছে তার সাবেক স্বামী রঞ্জু (২৫)। এসময় স্থানীয়রা সাবেক স্বামী রঞ্জু মিয়াকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।
বুধবার (২ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১০টার দিকে পোশাক কারখানা ছুটির পর বাসায় ফেরার পথে আশুলিয়ার জামগড়া বালুর মাঠ এলাকায় তাকে এসিড নিক্ষেপ করা হয়। এসময় সাংবাদিক মোকাম্মেল মোল্লা সাগর এর মেয়েসহ আরও ২-৩ জনের শরীরে এসিড ছিটে পড়ে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা করা হচ্ছে। কিন্তু দোলনা আক্তার রিমার চোখ, মুখ, হাত ও বুকে এসিডে ঝলসে যাওয়ায় তাকে দ্রæত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ভর্তি করা হয়েছে। এসিডে ঝলসে যাওয়া নারী ও পুরুষ আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার ড্রেস এন্ড দি আইডিয়াস পোশাক কারখানার শ্রমিক। দোলনা আক্তার রিমা ও রঞ্জুর গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলার মেলান্দহ এলাকায়। এসিড নিক্ষেপ এর বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, এসিড নিক্ষেপকারী অভিযুক্ত রঞ্জু মিয়াকে আটকের পর থানায় আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে।
বিশেষ করে ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় প্রায়ই নারী ও পুরুষের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ, সেই সাথে এসিড সন্ত্রাস ও মাদক সন্ত্রাস এবং মাদক ব্যবসা জমজমাটভাবে চলছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতেই কিশোর গ্যাং সদস্য ও মাদক সন্ত্রাসীরা এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও খুন করছে। সূত্র জানায়, আশুলিয়া থেকে গত ২০১৭ইং সালে ১১মাসে ১২৩ জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ঢাকার “আশুলিয়া ডেথ জোন ও আতংকের জনপদ হিসেবে পরিণত হয়েছে” বলে অনেকেই অভিমত প্রকাশ করেছেন। জনগণ সচেতন হলে অপরাধমূলক কর্মকান্ড কমে যাবে বলে অনেকেই দাবি করেন। রাজধানীর নিকটবর্তী শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং সন্ত্রাস ও মাদক ব্যবসা যেন অনেকটাই স্বাভাবিক ঘটনা। গত ৯ জানুয়ারি ২০১৭ইং একটি সংবাদপত্রের সূত্রঃ (ডেথ জোন আশুলিয়া), দেখা যায়, ১১মাসে ১২৩টি লাশ উদ্ধার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। আবারও অপরাধমূলক কর্মকান্ড (ক্রাইম) বাড়ছে আশুলিয়ায়, কিছু পুলিশ সদস্য নিজেদের দোষ আড়াল করতে সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষকে আসামী
করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে জনমনে।
জানা গেছে, ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া আহছানউল্লাহ মাদবর এর বাড়ি ও জিরাবো কোন্ডলবাগ পুকুরপাড় এলাকার ফজল হক কাজির বাড়িতে দুধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, এক সপ্তাহের মধ্যে দুইটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। গত ১১অক্টোবর ২০২০ইং আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের মোল্লা বাড়ির সাইফুল ইসলাম মোল্লার বাড়ির ভাড়াটিয়া ১৪ বছরের এক তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়, এ ঘটনায় জড়িত ৪ জনের নাম উল্লেখ করে ধর্ষণের পর অপহরণ করার অপরাধে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল আজিজ। বাদী জানায়, এই ঘটনার ৯দিন পর এই মামলার আসামীরা ভিকটিমকে পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে রেখে পালিয়েছে। এর পর ভিকটিমকে পুলিশ উদ্ধার করেছেন, এবং আদালতে ভিকটিম বলেছেন, তাকে দুই যুবক ধর্ষণ
করেছে। এ মামলার একজন আসামীকেও গ্রেফতার করতে পারেননি পুলিশ। গত শনিবার ১৭ অক্টোবর ২০২০ইং দুপুরে কাঠগড়া রোডের চিত্রশাইল ওহাব আলী মোল্লার বাড়ি থেকে মোছাঃ শাহিনুর (২১) এর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আশুলিয়ায় খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানারকম অপরাধমূলক কর্মকান্ড সংঘটিত হচ্ছে কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে থানায় মামলা হয় না, আর মামলা হলেও বেশিরভাগ আসামী গ্রেফতার হচ্ছে না। এদিকে ১৭ অক্টোবর ২০২০ইং সারাদেশের ন্যায় আশুলিয়ায় ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বিরোধী বিট পুলিশং সভা করেছেন পুলিশ ও সচেতন মহল জনগণ, কোনো ভাবেই বন্ধ হচ্ছে না অপরাধমূলক কর্মকান্ড।
অন্যদিকে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকার মানুষ বর্তমানে প্রভাবশালী মাদক সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং বাহিনীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকান্ড করেও প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে অপরাধীরা। ভুক্তভোগীরা ভয়ে থানায় মামলা করতে সাহস পায় না, আর অভিযোগ ও মামলা করলেও বেশিরভাগ আসামী গ্রেফতার হয় না।
দেশের ৬৪ জেলার মানুষ কাজের সন্ধানে আশুলিয়ায় আসেন, এখানে বেশিরভাগ মানুষ বহিরাগত, ভুল নাম ঠিকানা দিয়ে অনেকেই শিল্প কারখানায় চাকরি বা কাজে যোগদান করেন, বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে অপরাধীরা খুব সহজেই পালিয়ে যেতে পারে।
যেমনঃ আশুলিয়ার রূপায়ন আবাসন ১নং গেটের পাশে হানিফের মেয়ে মাহফুজা আক্তার নাজমা (১৬), গণধর্ষণের পর মৃত্যু হয়।
বিষয়টি রহস্যজনক-ফাঁসি নিয়ে আত্মহত্যা না কি হত্যা? এ ব্যাপারে তদন্তে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংবাদ কর্মীদের অনেকই হয়রানির শিকার হয়েছেন, এর কারণ হচ্ছে ভুল তথ্য দিয়ে চাকুরি নিয়ে ছিলেন নাজমা। আশুলিয়ায় ৬ বছরের শিশুর ধর্ষণের বিচার চেয়ে ধর্ষিতার মা বাদি হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন, মামলা নং ৩৫/৮৪৬, তারিখঃ ১৭/১০/২০১৯ইং। ধারা- ৯ (১) ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩: ধর্ষণ করার অপরাধ। নার্সারী ক্লাসে পড়ুয়া ওই ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করার পর এই ঘটনা জানাজানি হলে পরিবার নিয়ে পালিয়েছে ফরিদপুরের এক হিন্দু নরপশু।
ওই ধর্ষণকারীর নাম ঠিকানা কেউ বলতে পারেনি, তবে তার স্ত্রীর নাম শ্রী অঞ্জনা রানী। এ ঘটনাটি ঘটেছে ২৮/০৯/২০১৯ইং, সকাল ৮ টার দিকে। এখানেও নাম ঠিকানা ভুল।
অন্যদিকে আশুলিয়ায় গার্মেন্টস কর্মী-মা, বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন, তারা আশুলিয়ার ধনাইদ, ইউসুফ মার্কেট এলাকার মৃতঃ হাবিবুর রহমান হবি’র ছেলে মোঃ হেলাল উদ্দিন মন্ডল (৩৬) এর বাসায় ভাড়া থাকতেন। ওই ভাড়াটিয়া স্বামী /স্ত্রী বাসায় না থাকায় তাদের মেয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর স্কুল পড়–য়া ছাত্রীকে হেলাল উদ্দিন তার নিজের বাসার রুমে ডাকিয়া নিয়া রুমের দরজার ছিটকারী লাগাইয়া দেয়, তার রুমে থাকা খাটের উপর শোয়াইয়া মেয়েটির পায়জামা খুলিয়া তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে মেয়েটি জানায়। এ ব্যাপারে (৮) বছরের মেয়ে ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন, মামলা নং ৩৬/৮৪৭, তারিখঃ ১৭/১০/২০১৯ইং।

বাদী জানান, তার মেয়েকে হেলাল উদ্দিন ধর্ষণ করেছে। তিনি বলেন, আমার মেয়ের ধর্ষণকারীর কঠিন শাস্তি চাই। স্থানীয়রা জানান, গত ১৩/১০/২০১৯ইং সকাল ১১টার দিকে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে, এলাকার লোকজন বলছেন, বিবাদী হেলাল উদ্দিন স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস করেনা, এ ঘটনাটি মিমাংসা করার চেষ্টা করে বাদী পক্ষকে বিভিন্ন ভাবে ভয় দেখায় হেলাল উদ্দিন। স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি রহস্যজনক, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ধর্ষণের এ বিষয়ে মিমাংসার জন্য চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় গত৫ জানুয়ারি ২০১৯ইং তারিখ সন্ধ্যাা ৭টার দিকে মোছাঃ মাহফুজা আক্তার নাজমা (১৬) ইয়ার্গী বাংলাদেশ লিঃ গার্মেটস ফ্যাক্টরী থেকে অফিস ছুটির পর তার পরিচিত চাচা রহিম নামের একজন তাকে ডেকে নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে ৪-৫ জনের এক দল ছিনতাইকারী তাদেরকে একটি বাউন্ডারীর ভিতরে নিয়ে যায়, সেখানে আরও বিবাদীদয় পূর্ব থেকে অবস্থান করে, তারা নাজমার গলায় থাকা সোনার চেইন, কাছে থাকা কিছু টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে একাধিক ব্যক্তি নাজমাকে গণধর্ষণ করে বলে এমন অভিযোগে নাজমা নিজে বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় প্রথমে অভিযোগ করেন, আশুলিয়া থানায় এ অভিযোগের প্রথম তদন্ত করেন এসআই মোঃ বদরুজ্জামান, ওই দিন মামলা রেকর্ড করেন না পুলিশ, বিচার না
পেয়ে ধর্ষিতা নাজমা দুইদিন পর ফাঁসি নিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে অনেকেই জানান। নাজমার বাবা ও তার পরিবারের লোকজনের দাবি, গণধর্ষণের ঘটনায় অসুস্থ্য হয়ে নাজমার মৃত্যু হয়েছে। অনেকেই জানান, নাজমার বাবা একজন অর্থলোভী মানুষ, কম বয়সী কিশোরী মেয়েকে পোশাক কারখানায় কাজে দিয়ে সে নিজেও অপরাধ করেছেন। সেই সাথে ইয়ার্গী বাংলাদেশ লিঃ পোশাক কারখানায় শিশু শ্রম আইনকে অমান্য করে নাজমার চাকুরি দিয়ে অপরাধ করেছে।

নাজমার অভিযোগসূত্রে জানা যায়, নাজমা সুইং অপারেটর হিসাবে কর্মরত ছিলেন। (১৬) বছরের নাজমা অপারেটর হয়েছিলেন। তাহলে ১৩-১৪ বছরে সে কাজে যোগদান করেন। অনেকেরই প্রশ্নঃ কম বয়সের মেয়েটির কি অপরাধ ছিলো যে, কাজ করতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হতে হলো? কেন অকালে মৃত্যু হলো তার?, এর জন্য দায়ী কারা? নাজমার মৃত্যুর পর এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানায় মামলা রেকর্ড হয়, ৩ জনের নাম উল্লেখ করে ৫ জনকে আসামী করা হয়। রহিম নামের একজনকে জনতায় আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন এবং রিপন নামের একজনের লাশ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ বিরুলিয়া এলাকা থেকে। তাকে হত্যা করা হয়েছে না কি পুলিশ বা র‌্যাব পিটিয়ে মেরেছে? তা এখন পর্যন্ত কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না এই মৃত্যুর কাহিনী। এরপর র‌্যাব-১ এর বিশেষ একটি দল শিপন নামের এক জনকে আটক করে আশুলিয়া থানায় সোপর্দ করে। নাজমার বাবার নাম আবু হানিফ, কিন্তু কিভাবে নাজমুল নাম হলো? নাজমার চাকরির বয়স দুই বছর, মৃত্যুর সময় বয়স (১৬), তাহলে পুরো বিষয়টি আবার তদন্ত করা হলে কেচু খুঁজতে সাপের সন্ধ্যান মিলবে বলে অনেকেই জানান। এ ব্যাপারে ঢাকার আশুলিয়া থানার মামলা নং ১০। তারিখঃ ৭/০১/২০১৯ইং।
গত ১ জুলাই ২০২০ইং আশুলিয়ার খেজুরটেক হালিমা (২৭), এর মেয়ে (১৩) সুন্দরীকে স্থানীয় গেদু মিয়ার ছেলে আব্দুল কাদের (২৫) বিয়ের কথা বলে ধর্ষণ করে, এতে অন্তঃসত্ত¡া হলে আবার হুমকির মুখে পেটের বাচ্চা নষ্ট করা হয়। এ ঘটনার বিচার করার জন্য অভিযুক্ত কাদেরের মামা জুয়েল রানা ওরফে রহিম ও তার ভাগিনা এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে যা খুশি তাই করছে। এরকম গণমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায়,স্কুল কলেজের ছাত্রীসহ বিভিন্ন নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের ঘটনা ঘটছে, আশুলিয়ায় প্রায়ই লাশ উদ্ধার করছে পুলিশ। বাগান বাড়ীর অন্তঃসত্ত¡া হনুফার লাশ উদ্ধার, আসামী খোরশেদকে র‌্যাবের হাতে
গ্রেফতার, এরপর পুকুর থেকে রেবেকা বেগমের লাশ উদ্ধারের পর র‌্যাব-১ এর অভিযানে আসামী গ্রেফতার। পুলিশ ও র‌্যাবের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে আর অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদেরকে আটক করবে, তাদের দাবি অপরাধী সে যেইহোক না কেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।
গত ২১ নভেম্বর ২০২০ইং আশুলিয়া থানার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আশুলিয়ার ঘোষবাগ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির মালিক মোঃ ছানোয়ার হোসেন তার প্রতিষ্ঠানে ১৪ বছরের দুই কিশোরীকে প্রতিদিন কিস্তির আদায় করতে দেয়, কম বয়সী মেয়েরা কিস্তির টাকা হারিয়ে ফেলে বা খরচ করে, এরপর ওই প্রতিষ্ঠানে তাদেরকে আটক করে মারধর করে ছানোয়ার। এরপর ছানোয়ারের লোকজনের মাধ্যমে বিভিন্ন হুমকির কারণে ভয়ে মেয়ে দুইটি নরসিংদী পালিয়ে যায়। এদিকে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগে পুলিশ, র‌্যাব ও বিভিন্ন মিডিয়া মেয়ে দুইজনকে খুঁজতে মাঠে কাজ শুরু করেন। এক পর্যায়ে ২৪ নভেম্বর ২০২০ইং ওই নিখোঁজ দুই কিশোরীকে উদ্ধার করার পর তাদের দুই পক্ষের কথা মতো আশুলিয়া থানায় বসে মিমাংসা করে দেন স্থানীয় লোকজন ও আশুলিয়া থানার (এসআই) জয়ন্ত মজুমদার। উক্ত বিষয়ে পুলিশ ও র‌্যাবের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Comments are closed.

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

ওয়েবসাইট নির্মানে: আইটি হাউজ বাংলাদেশ