ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

কুড়িগ্রামের সেই সাংবাদিক পেটানো ডিসি সুলতানা পারভীনের সহযোগী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা নিজের স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন। দফায় দফায় স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন তিনি। মেঝেতে ফেলে তার বুকে ও শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে কিল ঘুষি লাথি মারেন রিন্টু। তার গলা টিপে ধরেন। এমনকি রিন্টুর আঘাত থেকে বাদ যায়নি নিজের ছয় বছরের শিশুকন্যাও।এ রকম রোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা উঠে এসেছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের স্ত্রীর দেওয়া আর্জিতে। এরই মধ্যে ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়েছে। এতে পিতার নির্যাতনের রোমহর্ষক বর্ণনা আছে শিশু কন্যার জবানীতেও। নারী নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমার বিরুদ্ধে। পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক মো. আবু তাহের এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
বাদী আর্জিতে বলেন, মাটিরাঙ্গা ডিগ্রি কলেজে প্রথম বর্ষে পড়ার সময় ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ রিন্টু বিকাশ চাকমার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এরপর থেকে নানা অজুহাতে যৌতুক না দেওয়ায় পারিবারিকভাবে তাকে নির্যাতন ও লাঞ্ছনা গঞ্জনা সহ্য করতে হয়। একপর্যায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে মারতে চাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এত কিছু সত্ত্বেও ২০১৪ সালের ১৮ জুলাই তাদের ঘরে কন্যা সন্তান আসে। রিন্টু বিকাশ চাকমা দীর্ঘদিন বেকার থাকায় শ্বশুর বাড়ি থেকে বিভিন্ন অঙ্কের যৌতুক নেন। বিসিএস ভাইভার আগে চাকরির জন্য ঘুষ দেওয়ার কথা বলে পাঁচ লাখ টাকা চাইলে দুই লাখ টাকা দেন শ্বশুর বাড়ির স্বজনেরা। স্ত্রী-কন্যার ঠিকমতো ভরণপোষণ না দেওয়া, মারধর করা এবং কুড়িগ্রামে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় বিভাগীয় মামলা ও ওএসডি থেকে খালাস পেতে পাঁচ লাখ টাকা চেয়ে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরে ইতিপূর্বে সংশ্লিষ্ট সচিবকেও অভিযোগ জানানোর কথা উল্লেখ করেন নির্যাতিতা স্ত্রী। সামাজিকভাবে সমঝোতার চেষ্টা বিফল হলে শেষ পর্যন্ত আদালতে মামলা করা হয় বলে আর্জিতে উল্লেখ করেন রিন্টুর স্ত্রী। এ ঘটনা প্রসঙ্গে বাদীপক্ষের আইনজীবী তুতুল বাহার জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমার (৩৬) বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তেও ঘটনার সত্যতা উঠে এসেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে গত ১ নভেম্বর বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন খাগড়াছড়ির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (১ম আদালত) মো. মোরশেদুল আলম। এই প্রতিবেদনের আলোকে আদালতে মামলা পরিচালনাকালে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। আদালত তা মঞ্জুর করে। আসামি রিন্টু বিকাশ চাকমা পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির গুইমারা গ্রামের অক্ষয়মণি চাকমার পুত্র। বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে নির্যাতিতা তার জবানবন্দিতে বলেন, ‘সাংবাদিক নির্যাতনের মামলায় আসামির বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও ফৌজদারি মামলা থাকায় আসামিকে ওএসডি করা হয়। ওএসডি থেকে খালাস পেতে পাঁচ লাখ টাকা দরকার জানিয়ে যৌতুক হিসেবে এই টাকা চান আসামি রিন্টু বিকাশ চাকমা। টাকা না দেওয়ায় আসামি তার স্ত্রীকে গত ৭ অক্টোবর কিল ঘুষি মারেন এবং যৌনাঙ্গে লাথি মারেন। পাঁচ লাখ টাকা না দিতে পারলে ঘর থেকে বের হয়ে যেতেও বলেন। তদন্ত প্রতিবেদনে শিশু কন্যাসহ ৯ সাক্ষীর বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরেন বিচার বিভাগীয় তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া খাগড়াছড়ি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (১ম আদালত) মো. মোরশেদুল আলম। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘যৌতুকের জন্য মারধর করার উপাদান সাক্ষীদের বক্তব্যে বিদ্যমান থাকায় অভিযোগের প্রাথমিকভাবে সত্যতা আছে বলে আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয়েছে।’
এদিকে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে গত ১৩ মার্চ রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে ‘বিবস্ত্র’ করে নির্যাতন করা হয়। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাকে এক বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে নিয়ে এমন ‘বিবস্ত্র’ করে নির্যাতনের ঘটনায় কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে সে সময় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। আরিফুলকে আটকের অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Comments are closed.

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

ওয়েবসাইট নির্মানে: আইটি হাউজ বাংলাদেশ