ভোটারদের মারাত্মক আস্থা হীনতার নির্বাচন গনতন্ত্রের জন্য হুমকী

আওরঙ্গজেব কামাল : রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বিংশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কার্যকরী ছিল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। একবিংশ শতাব্দীতে এসে সে চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর অনেকে দেশে গণতন্ত্র নামেমাত্র কার্যকর রয়েছে। বিংশ শতাব্দীর মতো অনেক দেশে সরাসরি সামরিক শাসন না থাকলেও, অনেক দেশে গণতান্ত্রিক-ভাবে নির্বাচিত সরকারগুলো সামরিক একনায়কদের মতোই আচরণ করছে বলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে বলা হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের ১২৯ টি দেশে গণতন্ত্র ভালো চর্চা হয়। আমরাও তাদের মধ্যে রয়েছি। গণতন্ত্রের মূল বিষয় হচ্ছে নির্বাচন। তবে সে নির্বাচন হতে হবে অবাধ সুষ্ঠ ও স্বচ্ছ। কিন্ত আমাদের দেশরে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি এবং জবরদখল ও নানা বিধ অনিয়মের অভিযোগ যা অধিকাংশ নির্বাচনগুলিতে প্রমানিত। গণতন্ত্রে জনগণের মতামতের প্রাধান্য একটি বড় বিষয়। ভোটারা অনন্দে ভোট কেন্দ্র যাবে পচ্ছেন্দের প্রার্থীকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। কিন্ত বর্তমানে ভোটারা ভোট তেন্দ্রে যেতে চায়না। বা ভোটারদের ভোট দিতে দেওয়া হয়না এমন অভিযোগ প্রতিটি নির্বাচন ঘিরে। শুরু একটি সরকার নির্বাচিত হলেই গণতান্ত্রিক হয়না। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে গণতন্ত্র না থাকলে এবং একনায়কতন্ত্রের আবির্ভাব হলে জনগণের মতামতকে সহিংসভাবে দমনের চেষ্টা করা হয়। এর ফলে জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলে। যে দেশে গণতন্ত্র থাকেনা সেখানে শাসকগোষ্ঠী নিয়মিত নানা ধরণের নির্বাচন অনুষ্ঠান করলেও সেসব নির্বাচনের প্রতি মানুষের কোন আস্থা থাকেনা। ভোটাররা ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। তারা ভোট দেবার জন্য ভোট কেন্দ্রে যেতে চায়না। বর্তমানে সদ্য অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচন পর্যলচনা করে দেখা যায় যেখানে ৮৫.৮২ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে আসেনি । তার মানে এত গনতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরুপ নয় কি? সিরাজগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩২৫ ভোট, বিএনপি ৪৬৮ পেয়েছে। এছাড়া ঢাকা-১৮ আসনে ৮৫.৮২ শতাংশ মানুষ ভোট দেয়নি, তারপরও আওয়ামী লীগ ৭৫ হাজার ৮২০ ভোট, বিএনপি ৫ হাজার ৩৬৯ ভোট। বিষয়টি যেন অনেকে ভিন্ন ভাবে দেখছেন ও নানা বিধ মন্তব্য করেছেন। এমন ফলাফল গনতন্ত্ররে জন্য হয়তো সুফল বয়ে আনবে না। একাধিক আলোচনা সমলোচনা পর্যলচনা করে দেখাযায় এবারে ঢাকা ও সিরাজগঞ্জের উপনির্বাচনেও বিস্ময়কর ফল হয়েছে এবং এ ফলা ফল যেন আর একটি বিতর্কের জন্ম সৃষ্টি হয়েছে। সিরাজগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তানভীর শাকিল জয় পেয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩২৫ ভোট। তার বিপরীতে বিএনপি প্রার্থী সেলিম রেজা পেয়েছেন ৪৬৮ ভোট। অনেকের মনে প্রশ্ন এত বড় একটি বিরোধী দল মাত্র এই কয়টি ভোট। আর ঢাকায় ভোট-বিমুখ মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ঢাকা-১৮ আসনে ৮৫.৮২ শতাংশ মানুষ ভোট দেননি। এ আসনে ভোট পড়েছে মাত্র ১৪.১৮ শতাংশ। তারপরও আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ হাবিব হাসান পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৮২০ ভোট। বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৬৯ ভোট। নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দুই উপনির্বাচনের ফল ও ব্যবধান বিস্ময়কর ও প্রশ্ন বৃদ্ধ এটা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। দিন দিন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। নির্বাচন কমিশন এবং ভোটদান প্রক্রিয়ার ওপরও ভোটারদের আস্থা নেই। এ ছাড়া নির্বাচনে যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকার কারণেই বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম। রাজনৈতিক নেতাদের নিষ্ক্রিয়তা, জনবিচ্ছিন্নতার কারণেও ভোট কেন্দ্রে ভোটার যাচ্ছে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক গতকাল বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এই কমে যাওয়ার জন্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের নিষ্ক্রিয়তাই দায়ী। তারা যদি সক্রিয় হয়ে নির্বাচনে মানুষকে ডেকে আনতেন। তবে এমন হতো না। তিনি বলেন, মানুষের ভোটের প্রতি আগ্রহ থাকবে কেন? মানুষের লাভটা কী? যদি প্রার্থীরা ভোটারদের একটু সম্মান দেখিয়ে নিয়ে যেতেন, তবে হয়তো ভোটারা ভোট কেন্দ্রে যেতেন। তা না হলে কেন তারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন? সাবেক এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, এখন যে ভোট কাস্টিংয়ের হার কম হচ্ছে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যারা সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন। তারা তো তাদের ভোটারদের আনার কথা? একটি এলাকায় যদি ৩ লাখ ভোটার থাকেন, তবে প্রার্থী অন্তত ১ লাখ ভোটার তো আনবেন। তাহলেও তো ৩৩ ভাগ ভোট হয়। সারা দেশে আওয়ামী লীগের ৩০-৪০ ভাগ ভোট আছে। বিএনপিরও ২০-৩০ ভাগ ভোট আছে। বিএনপিরগুলো না হয় এলো না। তারা রাগ করে থাকল। আওয়ামী লীগের প্রার্থী তার ভোটারদের আনে না কেন? এটা তার কর্তব্যের মধ্যে পড়ে না? তিনি যদি উদাসীন হয়ে যান, যে বিনা ভোটেই তো জয়ী হয়ে গেলাম। এ জন্য দল থেকে অনুশাসন দেওয়া দরকার। তারা তো এখনো মিটিং করলে ট্রাকে ট্রাকে লোক আনেন। তো ট্রাকে ট্রাকে ভোটার আনতে পারলেন না? এ জন্য নির্বাচন কমিশনের দায় আছে কিনা- প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাজ হলো ভোটের আয়োজন করা। এ বিষয়ে সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, সিরাজগঞ্জে ভোটের যে ব্যবধান। শুধু বিস্ময়কর নয়, এটা আমাদের জন্য আশঙ্কার বিষয়। এটা যদি সত্য হয় তবে আমাদের দেশে কোনো বিরোধী দল নেই। সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া যেমন গণতন্ত্র হয় না। তেমনি বিরোধী দল ছাড়াও গণতন্ত্র হয় না। এটা আমাদের জন্য অশনি সংকেত। আর যদি এটা (ফল) মিথ্যা হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশন যে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এটা তার প্রমাণ। তিনি বলেন, মানুষের নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্যই মানুষ ভোট দিতে ভোট কেন্দ্রে যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের যে ধরনের ভূমিকা পালন করার কথা- ‘যে কোনো মানুষ কোনো বাধা-বিপত্তি ছাড়াই সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে ভোট দিতে পারবেন।’ কিন্তু নির্বাচন কমিশন তা নিশ্চিত করতে পারেনি। ভোটের ওপর যে আস্থাহীনতা, তা মূলত নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থাহীনতা। এ জন্যই মানুষ ভোট দিতে কেন্দ্রে যাচ্ছে না। তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ ভোটপাগল। কিন্তু এমন অবস্থা হয়েছে যে, মানুষ ভোট দিতে গিয়ে ভোট দিতে পারবে না। ভোট দিলেও সঠিকভাবে গণনা হবে না। ভোট দিলেও কিছু আসে যায় না। এমন সন্দেহ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে। এছাড়া গত ১৭ অক্টোবর ঢাকা-৫ আসনে নির্বাচনে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৭১ ভোটের মধ্যে মাত্র ৪৯ হাজার ১৪১ ভোট পড়েছে। ভোট প্রদানের হার মাত্র ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ নির্বাচনে ৪৫ হাজার ৬৪২ ভোট পান আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী মনিরুল ইসলাম মনু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহম্মেদ পান ২ হাজার ৯২৬ ভোট। এ ছাড়া দেশে করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে ২১ মার্চ ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই আসনের ভোটসংখ্যা ৩ লাখ ২১ হাজার ২৭৫। ভোট পড়ে মাত্র ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ১৫ হাজার ৯৯৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম ধানের শীষ প্রতীকে পান ৮১৭ ভোট এবং জাতীয় প্রার্থীর হাজী মো. শাহজাহান ৯৭ ভোট পান। করোনা সংক্রমণের আগে এ বছর ১৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-৮ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ইভিএমে অনুষ্ঠিত ওই ভোটে ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৪৮৫ ভোটের মধ্যে ২২ দশমিক ৯৪ শতাংশ কাস্ট হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদের উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো কম ছিল। ঢাকায় ভোট পড়েছে ১৪.১৮ ভাগ : ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে ভোট পড়েছে ১৪.১৮ শতাংশ। ঢাকা-১৮ আসনে উপনির্বাচনে ২১৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিব হাসান ৭৫ হাজার ৮২০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৬৯ ভোট। গণফ্রন্টের কাজী মো. শহীদুল্লাহ ১২৬ ভোট, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. ওমর ফারুক ৯১ ভোট এবং প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের মো. মহিবুল্লাহ বাহার পেয়েছেন ৮৭ ভোট। এ আসনের ৫ লাখ ৭৭ হাজার ১১৬ ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৮১ হাজার ৮১৮ ভোট। নির্বাচনী ব্যবস্থা হলো সাংবিধানিক নিয়ম অনুসরণ করে জনগণের মতামত জানাবার ব্যবস্থা। ভোট একটি দেশের জনগনের অন্যতম গণতান্ত্রিক অধিকার। তাহলে কেন মানুষ আজ ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে যাচ্ছেন না। নির্বাচন নিয়ে কেন এত বিতর্ক। তাহলে আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কি লঙ্ঘিত হচ্ছে। যদিও গণতন্ত্র কথাটির অর্থই হচ্ছে “জনগণের শাসন”, কিন্তু কার্যত চিরায়ত প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে নাগরিকদের অংশগ্রহণ বেশ সীমিত থাকে বলেই অংশগ্রহণভিত্তিক গণতন্ত্রে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি অংশগ্রহণ ও বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের পক্ষে বলা হয়। কেউ কেউ মনে করেন আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি যেমন ইন্টারনেট জনগণের কাছে জ্ঞান পৌঁছে দেওয়া ছাড়াও জনগণের রাজনৈতিক মতামত দ্রুত ব্যক্ত করার সুযোগ করে দিতে সাহায্য করতে পারে। কিন্ত কি এধনের নিরপেক্ষ সেবার মধ্যে রয়েছি এ প্রশ্ন এখন সর্বসাধারনের। ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যখন সামরিক শাসক এরশাদের পতন হলো, তখন বাংলাদেশ ‘তৃতীয় পর্যায়ের’ গণতন্ত্রে প্রবেশ করে—এই ‘তৃতীয় পর্যায়’ শব্দবন্ধটি বেশ জনপ্রিয় ছিল। তৃতীয় পর্যায়ের এই নতুন ধাঁচের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মতো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাও মসৃণ হয়নি। গণতন্ত্র সংহতকরণ তো করতে পারেইনি, বরং বাংলাদেশ গণতন্ত্রের মৌলিক ভিতগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ প্রায় প্রায়ই গণতান্ত্রিক পথ থেকে বিচ্যুত হচ্ছে এবং তখন আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো দেশটিকে গণতান্ত্রিক বলে চিহ্নিত করতে সম্মত হচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক সংগঠন ও বৈশ্বিক জরিপগুলো যখন আমাদের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করে, তখন আমাদের অনেকেই উল্টো এই সমালোচকদের দেশের গণতন্ত্রের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু আমি মনে করি, সমালোচকদের যুক্তির বিরোধিতা না করে এবং অন্যান্য দেশের গণতন্ত্রের ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন না তুলে আমাদের প্রথমে এটা মূল্যায়ন করা উচিত

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Comments are closed.

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

ওয়েবসাইট নির্মানে: আইটি হাউজ বাংলাদেশ