আশাশুনির গুনাকরকাটি হাইস্কুলে চারতলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনির গুনাকরকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চারতলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপনের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের গুনাকরকাটি শাহ্ মোহাম্মদ ইয়াহিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপনের উদ্বোধন করেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ আ.ফ.ম রুহুল হক এমপি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিউল্লাহ বাদশা’র সভাপতিত্বে ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন উপলক্ষে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শম্ভুজিৎ মন্ডল, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছেত আল হারুন চৌধুরী, সাবেক মেম্বার আবু সাইদ, শিক্ষকবৃন্দ, ম্যানেজিং কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আশাশুনির শ্রীউলায় সকল জল্পনা-কম্পনার অবসান ঘটিয়ে বিকল্প রিং বাঁধের কাজ সম্পন্ন’র পথে

আহসান হাবিব, আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনির শ্রীউলায় সকল জল্পনা-কম্পনার অবসান ঘটিয়ে বিকল্প রিং বাঁধের কাজ সম্পন্ন হতে চলেছে। রিং বাঁধের কাজ শেষ হলে শ্রীউলা ইউনিয়নের বৃহত্তর এলাকাসহ আশাশুনি সদর ইউনিয়ন প্লাবনের হাত থেকে সাময়িকভাবে রক্ষা পাবে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে এলাকার খোলপেটুয়া নদীর অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ও অবিরাম বৃষ্টিপাতে উপজেলা সদরের দয়ারঘাট, শ্রীউলা ইউনিয়নের হিজলিয়া-কোলা, হাজরাখালি ও প্রতাপনগর ইউনিয়নের হরিষখালিসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পাউবো’র বেড়ী বাঁধ ভেঙ্গে প্রবল ¯্রােতে লোনা পানি ভেতরে প্রবেশ করে। এতে প্রথমেই শ্রীউলা ইউনিয়নের ২২ টি গ্রাম, আশাশুনি সদরের ৯ টি গ্রাম ও প্রতাপনগরের ২ টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে একাকার হয়। পরবর্তীতে জোয়ার ভাটার তোড়ে প্রতাপনগরের প্রায় সব গ্রাম, শ্রীউলা ইউনিয়নের শ্রীউলা, মহিষকুড় গ্রাম বাদে প্রায় সব এলাকা পর্যায়ক্রমে ডুবে প্লাবিত হয়। সরকারি নির্দেশনায় সেনা বাহিনী দায়িত্ব নিয়ে বিকল্প বাঁধ নির্মানে কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু বিধি বাম, সঠিক সিদ্ধান্ত আর পরিকল্পনার অভাবে বাঁধের বেশ কিছু কাজ করলেই গোনে পানির চাপে তা ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। ফলে তিন মাস অতিবাহিত হলেও বাংলাদেশ সেনা বাহিনী গত ঈদ-উল-আজহার আগেই সকল কার্যক্রম তাৎক্ষনিকভাবে বন্ধ করে দিয়ে ব্যারাকে ফিরে যায়। এরপর গত অমাবশ্যা গোনে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মাড়িয়ালা-হাজরাখালি সড়ক ও স্বেচ্ছাশ্রমে করা ওই সড়কে বিকল্প রিং বাঁধ ভেঙ্গে নতুন করে ইউনিয়নের মহিষকুড়, শ্রীউলা, পুইজালাসহ আশাশুনি সদরের হাড়িভাঙ্গা, বলাবাড়িয়া, গাইয়াখালি, শীতলপুর, কোদমন্ডা, আদালতপুরসহ বেশ কিছু গ্রাম পানিতে ডুবে প্লাবিত হয়। বাড়ী ছাড়া হয় কয়েক হাজার পরিবার। বানভাষি মানুষের হাহাকার শুরু হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাজার হাজার একর মৎস্য ঘের, গ্রহপালিত পশু, আর বসবাসের ঘরবাড়ি, পুকুর। মানুষ, শিশু আর গা খাদ্যের প্রচন্ড অভাব দেখা দেয়। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, এনজিও সুশিলন ও ব্যক্তি উদ্দ্যোগে ত্রানের ব্যবস্থা করলেও চাহিদার তুলনায় অত্যান্ত অপ্রতুল। সর্বশেষে বিভাগীয় কমিশনার, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে এলাকার বৃহত্তর অংশকে রক্ষার্থে মাড়িয়ালা থেকে কোলাগামী সড়কের উপর দিয়ে রিং বাঁধ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু বাঁধ নির্মানের উদ্যোগ নেওয়া হলে কিছু মানুষ বিশেষ করে রিং বাঁধের বাইরে থাকা মানুষের একটি অংশ কাজে বাধ সাধেন। অবশেষে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অসহায় মানুষের দুঃখ দুদর্শার কথা বিবেচনা করে আশাশুনি সদর ও শ্রীউলা ইউনিয়নের মানুষকে নাকতাড়া বাজারে একত্রিত করে আলোচনান্তে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করে বিকল্প বাঁধের উদ্দ্যোগ নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিল। এখবরে দীর্ঘদিনের পানি বন্ধি সহায় সম্বল হারা মানুষের মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে আসে। উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতি এবিএম মোস্তাকিমের আশ্বাস ও সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার ঘোষনা এবং সদর ইউপি চেয়ারম্যান সম সেলিম রেজা মিলনেরও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগীতার আশ্বাসে শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিল মাড়িয়ালা টু ঘোলা মেইন রোড ও মাড়িয়ালা মোড় টু হাজরাখালি সড়কের উপর দিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে ও স্থানীয় ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগীতায় বিকল্প রিং বাঁধ শুরু করেন। আবুহেনা সাকিলের তত্ত্বাবধানে আশাশুনি সদর ও শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগীতায় প্রত্যাহ কয়েক হাজার মানুষ বাশের পাইলিং আর প্লাস্টিকের বস্তায় মাটি ঢুকিয়ে তা দিয়ে বিকল্প রিং বাঁধ শুরু করেন। দ্রুত গতিতে দিন রাত জোয়ার-ভাটার সাথে লড়াইকরে কাজ করে বাধের কাজ প্রায় শেষ হওয়ার পথে। এ ব্যাপরে আবু হেনা সাকিল এ প্রতিবেদককে জানান, আগামী গোনের আগেই রিং বাঁধের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। ফলে বাঁধের বাইরে হিজলিয়া, কোলা, ঘোলা, মাড়িয়ালা ও হাজরাখালি এলাকায় মোট প্রায় দুই হাজার মানুষ আপাতাত পানি বন্দি থাকবে। মেইন বাঁধ সম্পন্ন হলে তারাও স্বাভাবিক ভাবে বাড়ী ফিরতে পারবেন। এপাতাত পাউবো’র ভেড়ী বাঁধ, সাইক্লোন শেল্টারসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় আশ্রায় নিয়েছে বা থাকবে এসব প্লাবিত এলাকার মানুষ। তিনি আরও বলে সরকারভাবে বিভিন্ন আশ্বাস দিলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন আর্থক সহযোগীতা পাওয়া যায়নি। এমনকি পাউবো কর্মকর্তাগন বাঁশ ও বস্তা সরবরাহের আশ্বাস দিলেও তা দেয়া হয়নি। গতকাল পর্যন্ত বিকল্প রিং বাঁধ নির্মানে প্রায় ৫০ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়েছে বলে তিনি জানান। বাকী কাজ সম্পন্ন করতে আরও প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হবে বলে কাজের সাথে জড়িত একাধিক ব্যক্ত জানান। এলাকায় বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন ও সুপেয় পানি সরবরাহে জেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন এনজিওদের জরুরী হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহবান জানান। এ ব্যাপারে ভক্তভোগী এলাকাবাসিসহ শ্রীউলা ও আশাশুনি ইউপির কাজের সাথে জড়িত জনপ্রতিনিধি ও নেতৃত্বদানকারীরা অনতি বিলম্বে আর্থিক সহযোগীতা করার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Comments

comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Comments are closed.

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

ওয়েবসাইট নির্মানে: আইটি হাউজ বাংলাদেশ