১০ টাকার চাল বরাদ্দে অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ০২-১০-২০২১, সময়: ০৬:২১ |
Share This

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ঃ ঝালকাঠির রাজাপুরে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির দশ টাকা কেজির চাল বরাদ্দে অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে উপজেলার উত্তমপুর বাজারে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে প্রায় তিন শতাধিক বঞ্চিত হতদরিদ্র সুবিধাভোগীরা অংশ নেয়। ৫নং বড়ইয়া ইউনিয়নের বঞ্চিত ও আগের তালিকার সুবিধাভোগীরা এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন।জানাগেছে, গত ১০ আগস্ট উপজেলা খাদ্য অদিধপ্তর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকা হালনাগাদ করতে ইউপি চেয়ারম্যানদের নোটিশ প্রদান করা হয়। নোটিশের আলোকে চেয়ারম্যান ইউপি সদস্যদের সাথে আলোচনা করে নোটিশ তৈরির কথা থাকলেও আলোচনা না করেই পুরাতন তালিকায় থাকা অস্বচ্ছল, দুস্থ, প্রতিবন্ধী সুবিধাভোগীদের নাম বাদ দিয়ে নতুন করে তালিকা তৈরি করেন চেয়ারম্যান। নতুন তালিকায় চেয়ারম্যান তার নিজের আত্মীয় স্বজন,অনুসারীসহ মৃত, প্রবাসী, ব্যবসায়ীদের নাম অন্তর্ভূক্ত করেন। এছাড়াও একই পরিবারে একাধিক নামও অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে তালিকায়। আবার অনেকের নামে ভিজিডি লিষ্টে থাকা সত্তে¡ তাদেরকেও খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। এসব অনিয়মের অভিযোগে দেলোয়ার, তরিকুল ও নাসিরসহ পাচজন ইউপি সদস্য গত ২৭ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও খাদ্য অদিধপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছেনা। অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যানের দেয়া নতুন তালিকা যাচাই-বাছাই না করেই ঐ তালিকায় প্রত্যেকের নামে কার্ড ইস্যু করে গত ২৯ সেপ্টেম্বর চাল বিতরণ শুরু করেছে খাদ্য বিভাগ।বক্তরা তাদের বক্তব্যে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাহাব উদ্দিন সুরু মিয়া যাচাই-বাছাই না করে তালিকা থেকে অস্বচ্ছলদের নাম বাদ দিয়ে তার নিকটআত্মীয়, প্রতিবন্ধী, মৃত, স্বচ্ছল, প্রবাসী ব্যক্তিকে নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছে। খেটে খাওয়া এই মানুষগুলো করোনার মধ্যে হঠাৎ চাল না পেয়ে অর্ধহারে অনাহারে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। তাদের অধিকার ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর কাছেও তারা আকুতি জানিয়েছেন।এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাহাব উদ্দিন সুরু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কারো নাম বাদ দেই নি। তড়িঘড়ি করে তালিকা করায় তালিকায় একজন মৃত ব্যক্তির নাম এসেছে যা বাদ দেওয়া হবে। এছাড়া ইউপি সদস্যদের দেয়া তালিকাই রাখা হয়েছে। এদের পিছনে উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরউজ্জামান ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা আক্তার লাইজু এই দুই জন ইন্দন যোগাচ্ছে এবং তারাই ঝামেলা তৈরি করছে।উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা আক্তার লাইজু বলেন, এটা সুরুর ইউনিয়নের ব্যপার তিনি আমার নামে মিথ্যা দোষারোপ করছেন।রাজাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. মনিরউজ্জামান বলেন, আমি কিছুই জানিনা, এটা ইউনিয়ন পরিষদের আভ্যন্তরীণ বিষয়। এরমধ্যে বাহিরের কারো কথা বলার সুযোগ নেই। আমার জানামতে উপজেলা আওয়ামীলীগ তাদের নিয়ে একটা বৈঠক করেছে। আশাকরছি শীঘ্রই এর সমাধান হবে।

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে