লোহাগড়ায় করোনার প্রভাবে ব্যস্ততা নেই কামার পাড়ায়

জহুরুল হক মিলু , লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি : পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে নড়াইলের লোহাগড়ায় ব্যস্ততা বাড়িনি কামার পাড়া গুলোতে। হাতুড়ি পেটানো ঠুক-ঠাক শব্দে এখন আর মুখর নেই কামারপাড়ায়। বিশ্বে মহামারি করোনা প্রকোপ থাকার কারনে দেশের প্রতিটি স্তরের মানুষদের জীবন পরিচালনা করা অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মরনব্যাধী করোনা ভাইরাস এক নিমিষে বদলে দিয়েছে প্রতিটি মানুষের জীবন চলার গতিকে। করোনা ভাইরাস যেমন পুরোবিশ্বকে গ্রাস করে আছে বন্ধ করে দিয়েছে মানুষের স্বাধীনতা আর তখনি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘূর্ণিঝড় আম্পান পাল্টে দিয়েছে তাদের দৈনন্দিক জীবনধারাকে।
জীবন কেড়ে নেওয়া করোনা ভাইরাস ও পথে বসিয়ে দেওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্পান আর এরি মধ্যে সামনে চলে আসল মুসলমানদের সবচেয়ে বড় খুশির দিন ঈদ-উল আযহা। কিন্তু এই মর্মান্তিক পরিবেশে কারো মুখে কোন খুশির আবছায়া নেই। আর নেই কামারদের সেই ঠুক-ঠাক শব্দ। মনে হয় এক নিমিষে স্তব্ধ হয়ে গেছে কামাররা, বাতাসে হারিয়ে গেছে লোহার দা, ছুরি, চাকু, কোদাল, চাপাতি ইত্যাদি এইসব জিনিসপত্র বানানোর সময় সেই ঠুক-ঠাক শব্দটি। সোমবার সরেজমিনে উপজেলার লোহাগড়া বাজার, লক্ষীপাশা বাজার, দিঘলিয়া বাজার, ইতনা বাজার, মানিকগঞ্জ বাজার, লাহুড়িয়া বাজার, কলাগাছি বাজার, এড়েন্দা বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এসব বাজারে ঠিক এমনিভাবে নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। অনেকেই আবার এই পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশাকে বেছে নিয়েছে। বর্তমানে এই কামারপাড়া এলাকাটিতে নেই কোন কাজ, নেই কোন শব্দ। কয়েকমাস আগের কথা, যখন কামারদের এই ঠুক-ঠাক শব্দের কারনে উক্ত এলাকার মানুষজন ঠিক করে ঘুমাতে পারতো না। আর এখন কেমন এক শান্ত পরিবেশে নিঝুম হয়ে আছে কামারপাড়া এলাকাটি। ঈদ-উল আযহা আসার প্রায় ১ থেকে দেড় মাস আগে থেকে কামারপাড়া এলাকাটি প্রায় দিন-রাত ২৪ ঘন্টায় এক অদ্ভুদ তরঙ্গে সময় কাটাতো এমনকি কামাররা দুবেলা খাওয়ারও সময় পেত না। কিন্তু এই মরনব্যাধী করোন ভাইরাসের কারনে লোহাগড়া এলাকায় বেশিরভাগ মানুষ কোন পশু কোরবানী দিচ্ছে না। লোহাগড়ার কামারপাড়া এলাকার কয়েকজন শেখর, উতপাল, শ্রীবাস হাজারী, প্রবাস কর্মকারের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আমাদের বাপ দাদা সকলে এই কাজ করে আসছে। আর আমরা বংশ্বধর হওয়ায় নিজেদের এই বংশ পরস্পরা এগিয়ে নেওয়ার জন্য ছোটবেলা থেকে আমরা এই কাজ করে আসছি। আমাদের এই কামারপাড়া এলাকাটিতে রাত দিন ২৪ ঘন্টায় চলে লোহার ঠুক-ঠাক শব্দ। এমনকি শব্দের কারনে এই এলাকার মানুষরা ঠিকমত ঘুমাতে পারতো না এমন অভিযোগ দিয়েছে অনেকেই। কিন্তু এ বছর সেই ব্যস্ততা, ঠুক-ঠাক শব্দ আর নেই। করোনায় তাদের মুখের হাসিও ফুরিয়ে গেছে। অথচ সারা বছরের ধার-দেনা পরিশোধের সময়টাতেই আজ তারা অলস সময় পার করছেন। শেখর বলেন, আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও প্রতি বছরই কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠতো এ শিল্প। তাই তো আমরা প্রতিবছরই কোরবানীর এই সময়টার অপেক্ষায় থাকি। কারন এই সময়ে সারা বছরের ধার-দেনার পরিশেধের সুযোগ থাকে। কিন্তু এবার করোনায় আমাদের সব আশা শেষ হয়ে গেছে। কামারপাড়ার কারিগর প্রবাস কর্মকার বলেন, প্রায় ১০/১৫ বছর ধরে এই পেশায় আছি। প্রতি বছর এই সময়টায় অনেক ব্যস্ত থাকি। যত দিন গড়াবে ব্যস্ততা বাড়বে। সকাল ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত। ঈদের আগের দিনে অনেক অর্ডার ফেরত দিতে হয়। ঈদের আগের রাত গভীর পর্যন্ত কাজ করতে করতে সকাল হয়ে যায়। কিন্তু এখন করোনা সব থামিয়ে দিয়েছে।

Comments

comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Comments are closed.

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

ওয়েবসাইট নির্মানে: আইটি হাউজ বাংলাদেশ