রাজধানীর হাটগুলো পশুতে ভরে উঠছে ক্রেতা শূন্য

এবিএম জাহাঙ্গীর আলম স্বপন : রাজধানী ঢাকার কোরবানি পশুর হাটগুলো গরু ছাগলে ভরে উঠতে শুরু করেছে কিন্ত এখনো তেমন কোন ক্রেতার দেখা পায়নি ব্যাবসায়ীরা। ব্যাবসায়ীরা বলছেন করোনা ও বন্যার কারনে ঈদের গরুর হাট এখনো জমে উঠেনি। দু এক জন ত্রেতা আসলেও তারা গরুর মুল্য অনেক কম বলছে। খোঁজ নিয়ে যানাযায় ঈদের দিনসহ পাঁচ দিনের জন্য হাটের ইজারা দেয়া হলেও কয়েক দিন আগে থেকেই হাটগুলোতে পশু আনা হচ্ছে। বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। রাজধানীর কয়েকটি হাট ঘুরে দেখা গেছে, অস্থায়ী কোরবানি পশুর হাট পশুতে ভরতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা এখন ক্রেতাদের দিকে চেয়ে আছেন। উৎসুক ব্যক্তিরা পশু দেখতে আসছেন তবে তেমন বিক্রয় লক্ষ করা যায়নি। এছাড়া ক্রেতাদের কাছে বেশি দাম হাঁকছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের চাহিদার আলোকে ব্যবসায়ীরা দাম কমানো বা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেবেন। ফলে এখনো বিক্রয় হতে দেখা যায়নি। গতবারের মতোই এবারও পশুর দাম হাঁকা হচ্ছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে দাম ওঠানামা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কেউ কেউ বলছেন, রাজধানীতে এবার গরুর হাটের সংখ্যা কম হওয়ায় গরুও কম উঠবে। এ কারণে শেষ দিকে গরু সংকটে দাম বেড়ে যেতে পারে। কেননা, হাট বসানো নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল শুরু থেকেই। এজন্য মৌসুমি অনেক ব্যবসায়ী এবার গরু আনছেন না। নানা কারণে গরু সংকটের আশঙ্কা কারও কারও। সরেজমিন রোববার আফতাব নগর হাট ঘুরে দেখা গেছে, এ হাটে অন্তত তিন হাজার গরু উঠেছে। প্রতি বছরের মতো এবারও উৎসুক লোকদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। অনেককে হাটে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। ২-৩ জন করে একত্রে গরু দেখছেন, দাম শুনছেন। স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে মাইকিং করা হলেও ব্যবসায়ী, ইজারাদার প্রতিনিধি বা ক্রেতাদের কমই তা মানতে লক্ষ করা গেছে।
জামালপুরের ব্যবসায়ী ইমরুল কায়েস জানান, হাটে তিনি তিনটি ষাঁড় নিয়ে এসেছেন। দেশীয় প্রজাতির প্রতিটি ষাঁড়ের দাম তিনি হেঁকেছেন এক লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা। উৎসুক ক্রেতাদের একজন ইমান আলী বলেন, আমার বাসা বনশ্রী। এ হাট থেকে গরু কেনার চিন্তা করছি। এজন্য হাটের পরিস্থিতি বোঝার জন্য এসেছি।
সরেজমিন মেরাদিয়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক থেকে দেড় হাজার গরু উঠেছে এ হাটে। গরুর পাশাপাশি কয়েক হাজার ছাগলও দেখা গেছে। এখানেও আফতাব নগরের মতোই চিত্র লক্ষ করা গেছে। বিক্রি নেই, ক্রেতারা ঘোরাঘুরি করে দাম শুনে চলে যাচ্ছেন।জানা গেছে কমলাপুর, খিলগাঁও, শাহজাহানপুর, ডেমরার আমুলিয়া মডেল টাউন, ডুমনি, মৈনারটেক এবং উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টর হাটেও অনেক গরু উঠেছে। এসব হাটেও ক্রেতারা আসছেন, ঘুরে ঘুরে দেখছেন, দাম জানছেন।কোনো কোনো হাটে স্বল্পপরিসরে বিক্রিও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। দনিয়া হাটে শুক্র, শনি এবং রোববার পশু বিক্রির কথা জানা গেছে। আর দেশের সর্ববৃহৎ গাবতলী কোরবানি পশুর হাটেও প্রতিদিন পশু বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।হাট ঘুরে বের হওয়ার পর শাহজাহানপুরের বাসিন্দা মো. সাইফুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, দুই থেকে তিন হাজার গরু উঠেছে হাটে। মাঝারি আকৃতির গরুর সংখ্যা বেশি। বেশির ভাগ পশুর দাম ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত হাঁকানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধির কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই।এ বিষয়ে অনেকে বলেন, গ্রামের খেঁটে খাওয়া মানুষের করোনা হবে না, এ রোগ শহরের সাহেব-বাবুদের।ডেমরার আমুলিয়ার হাট ঘুরে যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, অনেক গরু উঠেছে। তবে বিক্রি শুরু হয়নি।সোমবারের মধ্যে পশুহাট কানায় কানায় ভরে উঠবে বলে আশা করছেন হাট পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। রাজধানীর পশু ব্যবসায়ী মো. সাফায়েত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, অন্যবারের চেয়ে এবার গাবতলী হাট, হাজারীবাগ হাটে গরু কম উঠেছে। এ কারণে চাহিদা বাড়লে শেষ দিকে গরুর সংকট এবং দাম বাড়তে পারে বলে মনে হয়।এছাড়া গেল বছরও এই হাট অনেকটা ভারতীয় গরুর দখলে থাকলেও এ বছর দেশি গরু, ছাগলে ভরপুর। তবে করোনায় খাদ্য দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থকষ্টে ব্যবসায়ীরা গরু, ছাগলগুলোকে খুব একটা স্বাস্থ্যবান করতে পারেনি।

Comments

comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Comments are closed.

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

ওয়েবসাইট নির্মানে: আইটি হাউজ বাংলাদেশ