মাষ্টার মোবারক হোসেনের প্রতারনা ও দূর্ণিতিতে এইচ. এম. এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা হুমকির মুখে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : মাষ্টার মোবারক হোসেনের প্রতারনা ও দূর্ণিতিতে এইচ. এম. এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা হুমকির মুখে এমনি অভিযোগ করেছেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার হরিহরনগর এলাকাবাসী। মাষ্টার এম এম মোবারক হোসেন উপজেলার হরিহরনগর এইচ. এম. এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ১৯৯৬ সালের ০১ এপ্রিল মোবারক হোসেন সহকারী শিক্ষক হিসাবে অত্র স্কুলে যোগদান করেন। পরে ২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর তাকে প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক হয়েই শিক্ষক নিয়োগ বানিজ্য, পুরাতন বই খাতা বিক্রয়, উপবৃত্তির টাকা, পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ফিস আদায়সহ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাত থেকে রশিদ ছাড়া অর্থ আদায় করে ৫০ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মিলেছে। এসকল অর্থ আত্মস্বাত করে করেছেন বিলাশবহুল বাড়ী। এছাড়া এলাকার সুধিজনসহ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাথে করে চলেছেন অসাধু আচারনও। এসকল ঘটনা নিয়ে ইতোপূর্বে একই এলাকার আলহাজ¦ শাহাদাৎ হোসেন গোলদার ও মুক্তিযোদ্ধ আব্দুল গফুর গোলদার বাদী হয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর তার দূর্ণিতির ফিরিস্তি তুলে ধরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মর্মে অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। সুষ্ঠ্য তদন্ত হলে বেরিয়ে আসবে তার অপকর্মের সকল তথ্য।
অনুসন্ধান করতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধ আব্দুল গফুর গোলদারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ১৯৯৬ সালের ০১ এপ্রিল মোবারক হোসেন সহকারী শিক্ষক হিসাবে অত্র স্কুলে যোগদান করেন। পরে ২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর তাকে প্রধান শিক্ষক হিসায়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার পরে তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এসম ম্যানেজিং কমিটি, স্কুল শিক্ষক, চতুর্থ শেণীর কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের সহিতও তিনি লাগাম ছাড়া আচারন করতে শুরু করেন। বছর শেষে বিদ্যালয়ের লাখ লাখ টাকা রশিদ ছাড়া আদায় করে নিয়ে গেছেন নিজের বাড়ীতে করেননি কোন দিন ব্যাংক হিসাব পরিচালনা। সকল অর্থ আত্মসাৎ করে গড়ে তুলেছেন নিজে বিলাশবহুল বাড়ী। এছাড়া প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়ের কোন কমিটি কার্যকর হতে দেননি মাষ্টর মোবারক হোসেন। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে অবকাঠামো উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়েছে এবং ৮ শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে। এসময় তিনি অফসোস করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম দেশকে স্বাধীন হলে সুশৃঙ্খল ভাবে দেশ চলবে জাতি শিখতে জানতে পারবে কিন্তু সে সেক্টর থেকে ভবিশ্যৎ প্রজন্ম তৈরি হবে সেখানে যদি দূর্ণিতির আখড়া হয় তাহলে ৭১ এর যুদ্ধ কি বিফলে গেল? এসময় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গফুর গোলদারসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ দূর্ণিতিবাজ মাষ্টারের বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দূর্ণিতিমুক্ত করতে শিক্ষামন্ত্রনালয় সহ সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরের উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।কেচো খুড়তে বেরিয়ে অসছে সাপ এব্যাপারে মাষ্টার মোবারক হোসেনের কাছে তার মুঠো ফোনে ফোন দিলে রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোনটি কেটে দেন। অসংখ্য বার ফোন দিলেও তিনি আর রিসিভ করেননি। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি প্রভাষক রাজিব হোসেন রাজু জানান, অনিয়ম হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা বসাবসি করে সমাধান করার চেষ্টা করছি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান জানান, বিষয়টি তদন্ত করে অনেকটা সত্যতা মিলেছে। মোবারক সাহেবের কাছে কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে কিছু দিয়েছে এখনও কিছু বাকী আছে। সকল কাগজপত্র বুঝে পেলে ঈদের পরে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Comments are closed.

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

ওয়েবসাইট নির্মানে: আইটি হাউজ বাংলাদেশ