কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও মেগাপ্রকল্পে দুর্নীতিসহ নানা অনিয়ম

মুকুল খসরু, কুষ্টিয়া থেকে : শিক্ষক নিয়োগ, মেগাপ্রকল্পে দুর্নীতি, অবৈধভাবে ডে লেবার নেয়া, স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অনিয়মের খবর এখন কুষ্টিয়ার আকাশে-বাতাসে ভাসছে। গত আড়াই বছরে এসব খবর প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় খুব গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত, প্রচারিত হলেও শীর্ষ কর্তৃপক্ষের কোন গাত্রদাহ নেই। এত সব ঘটনা-রটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার শীর্ষ কর্তৃপক্ষ এবং বর্তমান প্রশাসনের কোন গাত্রদাহ নেই। বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছেন সব কিছু। দক্ষিণ-পশ্চিামাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। অভিযোগ উপাচার্যের মদদপুষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একটি সিন্ডিকেট গত তিন বছর ধরে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে। এ সিন্ডিকেটের প্রধান হোতা সাবেক প্রক্টর বহু অপকর্মের নায়ক মাহবুবর রহমানসহ প্রায় এক ডজন শিক্ষক-কর্মকর্তা।
জানা যায়, বর্তমান ভিসি দায়িত্বে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রগতিশীল শিক্ষক, ছাত্র সংগঠন তাকে সার্বিক সহযোগীতা করে। এর প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন, মেগাপ্রকল্প অনুমোদনসহ নানা উন্নয়ন কর্মকান্ড শুরু হয়। কিন্তু আড়াই বছরের মাথায় একটি অন্ধকার বলয়ের মধ্যে প্রবেশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভিসি। এমন অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক প্রবীণ শিক্ষকের। বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য, মেগা প্রকল্পের আড়ালে দুর্নীতি আর বিধি লঙ্ঘণ করে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-কর্মিসহ প্রায় দুই শতাধিক লোককে ডে-লেবার হিসেবে নিয়োগদেয়ার ঘটনা এখন বহুল আলোচিত। শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য বিষয়ে একাধিক ফোনালাপের অডিও ক্লিপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকসহ কুষ্টিয়ার সাধারণ মানুষের হাতে হাতে।
বর্তমান উপাচার্যের আমলে ঘটে যাওয়া সকল অনিয়ম, দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত দাবির পাশাপাশি কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক সংগঠন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও কর্মকর্তা সমিতি থেকে শুরু করে সর্বস্তুরের শিক্ষকরা। এসব সংগঠন ইতিমধ্যে এসব লুটপাট ও অনিয়মের প্রমাণসহ প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে। ওই অভিযোগপত্রে উপাচার্যের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি আর সেচ্ছাচারিতার বর্ণনা রয়েছে।
শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য :
বর্তমান উপাচার্যের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ৬৫ জন আর নিয়োগ হয়েছে ৬৩ জনের। তথাকথিত নিয়োগ কমিটির চাহিদা পুরণে ব্যর্থ হওয়ায় বাকি ২ জনের নিয়োগ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়োগে বড় অংকের ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। গত ৪ বছরে নিয়োগ বাণিজ্যের ব্যাপারে ফোনালাপের অন্তত ৫ টি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়েছে। এর প্রতিটির সাথে উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ জন বলে পরিচিত ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক শিক্ষক ড. রুহুল আমিন, ইলেক্ট্রনিক বিভাগের শিক্ষক এস এম আব্দুর রহিম ও সাবেক প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমানের সম্পৃক্ততা এসেছে। ফাঁস ফোনালাপের অডিও ক্লিপে তাদের কথোপকথন উঠে এসেছে। এছাড়া ভিসির আপন ভগ্নিপতিসহ আরো ১০ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা এ সিন্ডিকেটে থেকে নানা অপকর্ম করছে। যাদের বেশির ভাগের বাড়ি উত্তরাঞ্চলে।
প্রতিজন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ২০ লাখ থেকে শুরু করে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। সর্বশেষ শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার কথা বলে আরিফ হানাস খান নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর কাছে এই তিন শিক্ষক ২৮ লাখ টাকা চেয়ে পরে দাবি করে ১৮ লক্ষ টাকা এ চক্র। শিক্ষক রুহুল আমিন, আব্দুর রহিম ও সাবেক প্রক্টর তাদের বাসায় ডেকে এ অর্থ দাবি করেন। রুহুল আমিন পরে দাবি করা অর্থের পরিমান কমিয়ে ১৮ লাখ টাকা করা হয়। ফাঁস হওয়া ফোনালাপ থেকে এমনটিই জানা যায়। প্রতিকার ও বিচার চেয়ে আরিফ তিন পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভিসিসহ প্রধানমন্ত্রী বরাবর। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আরিফ হাসান হাসান খান নামের ওই প্রার্থীকে তার সব যোগত্য থাকার পরও পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়নি। এই ফোনালাপ ফাঁস হলে তদন্ত টিম গঠন করেন উপাচার্য। সেই তদন্ত টিমের প্রধান ছিলেন বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সরওয়ার মুর্শেদ রতন। পরে সাবেক প্রক্টরসহ অন্যদের চাপে তিনি পদত্যাগ করেন। এতে থেমে গেছে তদন্ত কমিটির কাজ। পরে আরিফ হাসান খান বিচার চেয়ে তিন পৃষ্টার একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে উপাচার্য বরাবর। এ বিষয়ে আরিফ খান বলেন,‘ আমার চাকুরির জন্য সব যোগ্যতা ছিল। কিন্তু রহুল আমিন স্যার, রহিম স্যার ও সাকেব প্রক্টর মাহবুবর রহমান আমার কাছে সর্বশেষ ১৮ লাখ টাকা দাবি করেছিল। আমি অর্থ দিতে না পারায় অন্যদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা করে নিয়ে চাকুরি দিয়েছে। আমি লিখিত অভিযোগ দিলেও শুধুমাত্র তারা ভিসির আস্থাভাজন ও কাছের লোক হওয়ায় উপযুক্ত বিচার পাচ্ছি না।’ এসব অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড, হারুন-উর-রশিদ আসকারি বলেন,‘ আমার সময়ে শিক্ষক নিয়োগে যত ফোনালাপের অডিও ফাঁস হয়েছে তার জন্য তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত টিমের সুপারিশ অনুযায়ী কঠোর শাস্তি দেয়া হয়েছে এমন নজির রয়েছে। তবে আরিফের বিষয়টি জানার পর তদন্ত টিম করেছিলাম। সেই কমিটির প্রধান পদত্যাগ করলে আরেকজনকে প্রধান করা হয়েছে। সেটি তদন্ত চলছে। তদন্তে কোন পক্ষপাতিত্ব ও চাপ সৃষ্টির বিষয়টি ঠিক নয়। আর আমি যতদুর জানি ওই শিক্ষার্থী কাডই পায়নি বলেও তিনি জানান। বিশ্ব বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্য : সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজে ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে গেছে। তবে কাজেও হরিলুট কারবার চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বড় দুটি টেন্ডার ঘিরে ইবির প্রধান প্রকৌশলী অালিমুজ্জামান টুটুলকে হুমকি দেন সাবেক প্রক্টর মাহবুবর রহমান ও ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রাকিব। তারা একটি বড় কাজ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতাকে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। কাজ না দিলে পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠিয়ে হুমকি দেয়া হয়। এ ঘটনার পর প্রধান প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান টুটুল পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন। পাশাপািিশ তিনি প্রধানমন্ত্রী সব কিছু জানিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন। এ ঘটনায়লে তোলপাড় সৃষ্টি হলে ওই প্রকৌশলীর বাসায় গোপনে এসে দেখা করেন এ বিষষ নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য চাপ দেন সাবেক প্রক্টর মাহবুবর রহমান। এ বিষয়ে উপাচার্য তদন্ত টিম গঠন করলেও শুধুমাত্র তার ঘনিষ্টজনের জড়িত থাকায় তদন্ত থেমে আছে। এ ব্যাপারে সাবেক প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন ব্যক্তির যে কোন সমস্যা হলেই আমি ছুটে যাই। ইঞ্জিিিনয়ার টুৃটুল একজন ভালো মানুষ, সৎ মানুষ। আমি সেই ভালোবাসা থেকে ছুটে গিয়েছিলাম, কোন ম্যানেজ করার জন্য নয়। এর পাশাপাশি প্রতিটি কাজ থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ভিসিপন্থী কয়েকজন শিক্ষক নেতার বিরুদ্ধে। ঠিকাদারদের জিম্মি করে মেগা প্রকল্প থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি প্রতিটি কাজ থেকে শতকরা ১০ পার্সেন্ট কর্মিশন নিচ্ছে ইবি প্রশাসন। এর বাইরেও নানা ভাবে অর্থ হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। একই ভাগে বর্তমান প্রক্টর পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ ৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্পে কাজ না করেই বিল তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইউসিজি থেকে তদন্ত করার কথা বলা হলেও আজো এ বিষয়টি আমলে নেয়া হয়নি। এমনকি নিজের পিএস রেজাউল কমিম রেজা মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকুরি পেলেও গত ১০ বছর সনদ জমা না দিয়ে চাকুরি করছে। বিষয়টি জানাজানি হলে তিন মাস আগে তাকে সনদ জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। তারপরও তিনি সনদ জমা দেননি। ভিসি এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ না নিযে সময়ক্ষেপন করছে। এ বিষয়ে উপাচার্য বলেন,‘ প্রধান প্রকৌশলীকে হুমকির বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কোন কিছু বলেননি। এরপর আমি কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। তদন্ত টিম করেছি। করোনার কারনে টিম কাজ করতে পারছে না। আর রেজাকে সনদ জমা দেয়ার কথা বলা হলেও এখনো জমা দিতে পারেনি। তাকে নোটিশ করা হবে।’ তবে অভিযোগ ঘটনার সাথে জড়িত ভিসির আস্থাভাজন হওয়ায় কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিষয়টি ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ডে-লেবার নেয়ায় ঘাপলা : উপাচার্যসহ তার তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্রলীগের বড় একটি অংশ নানা অভিযোগ ও দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলনে নামে। এর মধ্যে বড় একটি ২৩৫ জন ডে-লেবার নিয়োগ। অতি সম্প্রতি ছাত্রলীগের কিছু সাবেক নেতা-কর্মি, উপাচার্য ও সাবেক প্রক্টরদের ঘনিষ্টজনদের ডে-লোবার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। যাদের অর্ধেক ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-কর্মি। এর মধ্যে ইবি থেকে পাশ করা ছাত্রলীগের অনেক সাবেক নেতা-কর্মি রয়েছে। এদের বেশির ভাগই কাজ না করেই প্রতি মাসে বেতন নিচ্ছেন। এদের অবৈধ ভাবে নিয়োগ দিয়ে এদের রাজস্ব খাত থেকে বেতনভাতা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদের নিয়োগ দিতেও দুই থেকে তিন লাখ টাকা করে নেয়া হয়েছে বলে অনেকের অভিযোগ। অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের প্রধান সাইফুল ইসলাম ডে-লেবারদের প্রতিজনের নাম বিল তোলেন সাড়ে ৯ হাজার টাকা। আর তাদের পেমেন্ট দেন সাড়ে ৫ হাজার টাকা করে। বিষয়টি জানানানি হলে উপাচার্য একটি লোক দেখানো একটি তদন্ত টিম করেন। স্টেটেট অফিসার সাইফুল ইসলাম বিপুল পরিমান অর্থ তছরুফ করেছে বলে প্রমান পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে উপাচার্য ডা. হারুন-উর-রশিদ আসকারি বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসা একটি তদন্ত টিম করেছি। তারা এখনো রিপোর্ট দেয়নি। আমি তাদের তাগাদা দিয়েছি দ্রুত রিপোর্ট দেয়ার জন্য। শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনে বিভাজন সৃষ্টি : শিক্ষকদের অভিযোগ, সুকৌশলে সাবেক প্রক্টর ড. মাহবুব রহমান উপাচার্যকে ভুল বুঝিয়ে শিক্ষক সমিতিসহ সব সংগঠনের মাঝে বিভেদ তৈরি করে রেখেছে। ইবিতে শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, কর্মকর্তা সমিতি, কর্মচারী সমিতি ও ছাত্রলীগের মাঝে বিভেদ তৈরি করা হয়েছে। ভোটে হেরে উপাচার্যপন্থীরা রাতারাতি জামায়াত-বিএনপি ও জাসদের লোকজনকে সামনে এনে তাদের দিয়ে পাল্টা কমিটি করেছে। বঙ্গবন্ধু পরিষষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যায় শাখার সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক নেতা প্রফেসর ড. মাহাবুবুল আরেফিন বলেন, উত্তরাঞ্চলের একটি সিন্ডিকেট ভিসি হারুন-উর-রশিদ আসকারীকে গ্রাস করেছে। সেই সিন্ডিকেটের কয়েকজন বিতর্কিত শিক্ষক ভিসিসহ গোটা বিশ্ববিদ্যালয়কে তাদের ইশারায় পরিচালনা করে আসছে। ভিসির নানা দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে সিন্ডিকেটের মূল হোতা সাবেক প্রক্টর মাববুর রহমান, নিয়োগ বানিজ্যে জড়িত দুই শিক্ষক রহুল আমিন, আব্দু রহিম, ভিসির দুই ভগ্নিপতিসহ একডজন শিক্ষক জড়িয়ে পড়েন নিয়োগ বানিজ্য, মেগা প্রকল্পের আড়ালে হরিলুট, ডে-লেবার নিয়োগে দেয়ার নামে অর্থ লুটপাটে জড়িয়ে পড়েন। যার প্রমান গত চার বছরে ৫টি অডিও ফাঁস হয়েছে। এরা সবাই ভিসি ও সাবেক প্রক্টরের ডান হাত হিসেবে পরিচিত। নাম মাত্র তদন্ত কমিটি হলেও তারা সবাই বহাল তবিয়তে আছেন। কর্মকর্তা সমিতির সাধারন সম্পাদক মীর মুর্শেদুর রহমান বলেন, ইবি ভিসি হারুন-উর-রশিদ আসকারি ও খালেদা জিয়ার মধ্যে ভীষন মিল রয়েছে। তারা নির্বাচন পছন্দ করেন না। নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসলেই ভিসি ও সাবেক প্রক্টর জামায়াত-বিএনপি আর জাসদকে নিয়ে এসে পাল্পা কমিটি গঠন করে দেন। ৪টি বছর ইবিকে তলানিতে নিয়ে গেছেন তারা। উন্নয়নের আড়ালে কোটি কোটি টাকা তারা হাতিয়ে নিয়েছেন। শিক্ষক নিয়োগ, ডে-লেবার নিয়োগ, কেনাকাটায় কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। যার বহু প্রমান রয়েছে।’ ইবি শাপলা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র শিক্ষক প্রফেসর ড. মুঈদ রহমান বলেন,‘ আসকারি আমার ঘনিষ্ট বন্ধু। ৩০ বছর আমি ও একসাথে ছিলাম। ভিসি হিসেবে আসার পর একটি বছর ও ভাল ছিল। এরপর সে একটি সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। কেন সে জিম্মি হয়ে পড়লো সেই ভালো বলতে পারবে। প্রথম বছর তাকে সবাই সমর্থন দিয়েছিল। আর এখন, তাকে ৭০ ভাগ লোক পছন্দ করে না। সে মন্দ লোক বলেই তাকে পছন্দ করে না। তিনি আরও বলেন, ধরে নিলাম এতসব অভিযোগ সত্য নয়, মানুষ বিশ্বাস করছে এটা বলতে পারি,।
এরপর শিক্ষক নিয়োগ অনিয়ম, মেগা প্রকল্পে দুর্নীতিসহ নানা বিষয় সামনে এসেছে। শিক্ষক রাজনীতি কুলষিত হয়েছে। জামায়াত-বিএনপি আগের থেকে মাথাচাড়া দিচ্ছে। অর্থ যেখানে থাকে সেখানে অনর্থ ডেকে আনবে এটাই বড় কথা। আদর্শের জায়গাটি আর নেই।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Comments are closed.

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

ওয়েবসাইট নির্মানে: আইটি হাউজ বাংলাদেশ