কুষ্টিয়ায় করোনামুক্ত জেলা প্রশাসকের কর্মস্থলে যোগদান

মুকুল খসরু, কুষ্টিয়া থেকে : দীর্ঘ ২৩দিনের সংগ্রাম করে করোনাযুদ্ধে জয়ী হয়ে নিজ কর্মস্থলে যোগ দিলেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক। সোমবার বেলা ১০টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ভবনের নিজ অফিস কক্ষে যোগদান কালে সকল সহকর্মী কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উচ্ছসিত খুশিতে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন তাদের প্রিয়জনকে। যদিও আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় তিনি অফিসিয়াল কাজে শারিরীক ভাবে উপস্থিত না থাকলেও ভার্সুয়াল প্রযুক্তির মাধ্যমে সর্বসময় সহকর্মীদের সাথে থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।এসময় করোনামুক্ত জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন তার করোনা জয়ের অনুভুতি প্রকাশ করে বলেন, গত ৬জুন হঠাৎ অসুস্থ্য বোধ করায় তাৎক্ষনিক পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করান এবং কোভিড-১৯ সনাক্তের ফলাফল পজেটিভ আসে। সেদিনই তিনি নিজ সরকারী বসভবনে আইসোলেটেড কক্ষে অবস্থান নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ শুরু করেন। পরে ১১দিন এবং ১৪দিনের মাথায় পর পর দুইদিন নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ আসায় চিকিৎসকরা তাকে করোনমুক্ত ঘোষণা করেন। এই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে মহান আল্লাহর উপর ভরসা এবং কঠোর মনোবল শক্তি বজায় রেখে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরনের পাশাপাশি ঘরোয়া মসলা জাতিয় উপাদান সহ গরম পানির উষ্ণতা নেয়ার সুফল পেয়েছেন বলে জানান।তিনি তার সহকর্মী সহযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, আমার সহকর্মীরা প্রকৃত অর্থেই ঝুঁকি মাথায় নিয়ে কাজ করছেন। করোনা সংকট মোকাবিলায় সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে চিকিৎসকদের পাশাপাশি প্রশাসনিক নানাবিধ কাজকর্ম, সর্বক্ষনিক মনিটরিং ছাড়াও মৃত:দের লাশ দাফনের কাজও তাদের করতে হচ্ছে। তবুও বলি বেশী আতঙ্কিত হবার দরকার নেই, আমরা যেহেতু ধর্ম মানি, সে কারণে মহান সৃষ্টি কর্তার প্রতি আস্থা রেখে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে হবে। প্রত্যেকটা মানুষের আয়ু যেহেতু আল্লাহ তায়ালা নির্ধারন করেছেন, সেটা মাথায় রেখে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে কাজকর্ম করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য কিছু চিকিৎসাগত বিষয় আছে সেটি গ্রহণ করবেন। এছাড়া চিকিৎসার বাইরেও কিছু নিজস্ব চিকিৎসা আছে যেমন গরম পানির ভাপ নেয়া, ফুসফুসের এক্সারসাইজ করা, রোদে থাকা, কিছু মসলা জাতিয় জিনিস দিয়ে গরগরা করা এরকম কিছু টোটকা ব্যবস্থা আছে এগুলি মেডিকেল সাইন্স সাপোর্ট না করলেও এর থেকে উপসমে বেশ ফলপ্রসু মনে হয়েছে। তবে দৃঢ় মনোবল বজায় রাখাটা অতি জরুরী। সেই সাথে প্রয়োজনীয় ক্যালরী বা পুষ্টির যোগানে খাওয়া-দাওয়াটা সঠিক নিয়মে করতে হবে। বিশেষ করে প্রোটিন ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাদ্যসহ টাটকা ও গরম খাবার গ্রহন করতে হবে। এই ভাইরাস আক্রান্তদের যদি মারাত্মক শ^াসকষ্ট না থাকে তাহলে এর থেকে পরিত্রানে খুব বেশী উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন কুষ্টিয়া জেলার করোনা প্রাদুর্ভাব ও আক্রান্ত রোগীদের বিষয়ে বলেন, জেলায় যারা আক্রান্ত রোগী আছে তাদের ক্ষেক্রে অনেক সময় যথাযথ কাউন্সেলিং না থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলা তাদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে উঠেছে। সেজন্য জেলা প্রশাসন চিন্তা করছে একটা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করতে চাই। তারা যাতে ডাক্তারদের পাশাপাশি আক্রান্তদের চিকিৎসাই কি কি করা লাগতে পারে এসব বিষয় সহজবোধ্য করে বিশদভাবে তাদের বুঝিয়ে দেবেন। যদিও দেশের আরও অন্যান্য জেলার তুলনায় হয়ত আক্রান্তের তুলনামুলক ভাবে কম তবুও আমদের আত্মতুষ্ট হওয়ার কোন কারণ নেই। আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো এটিকে জিরো টলারেন্সে নিয়ে আসা। সেজন্য যে যেখানে আছেন সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব সচেতন হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, ভালো থাকুন সুস্থ্য থাকুন।

Comments

comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Comments are closed.

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

ওয়েবসাইট নির্মানে: আইটি হাউজ বাংলাদেশ