জলঢাকায় কৃত্রিম চুল কারখানায় অর্ধ শতাধিক শ্রমিক আহত

প্রকাশিত: ২৬-০৯-২০২১, সময়: ১৩:১০ |
Share This

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর জলঢাকায় একটি কৃত্রিম চুল কারখানায় প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর ৭জনকে জরুরী ভিত্তিতে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। জানা যায়, পৌর শহরের প্রাণ কেন্দ্র মাথাভাঙ্গা এলাকায় টিনশেড ভাড়া বাসায় সম্প্রতি মিলিয়ন গোল্ড লিমিটেড ইউনিট-১ নামে একটি কৃত্রিম চুল কারখানা চালু করা হয়। সাইনবোর্ড বিহীন কারখানাটিতে কর্মরত শ্রমিকেরা নারী শিশু। এদের মধ্যে অনেকেই বর্তমানে ৫ম হতে ১০ম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী। স্বাস্থ্যবিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকাসহ নানাবিধ অসঙ্গতির মাঝে চালু করা কারখানায় কাজ করছে প্রায় ছয় শতাধিক নারী ও শিশু শ্রমিক। এলাকাবাসীরা জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় কারখানাটিতে আকস্মিক চিৎকারের শব্দ শোনা যায়। চিৎকার শুনে এগিয়ে গেলে দেখা যায় ,সেখানে কর্মরত মেয়ে শিশু শ্রমিকেরা চিৎকার করে চারিদিকে ছুটাছুটি করছে। একপর্যায় বিদ্যুৎ চলে যায়। পরে সজ্ঞাহীন অবস্থায় কয়েকজন পড়ে থাকায় তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কারখানায় কর্মরত শিশু শ্রমিক জেরিন, সোহাগী,নুরনাহারসহ অনেকেই জানান, কেউ বলছে কারখানার দেয়াল ভেঙ্গে পড়ছে,কেউ বলছে কারখানায় আগুন লেগেছে, কেউবা বলছে একজনের চুল ফ্যানের সাথে আটকে গিয়ে একটি মেয়ে মারা যাচ্ছে। এতে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। নিজের জীবন বাচাতে গিয়ে দ্রুত কারখানা হতে বের হতে চেষ্টা করি। এসময় বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে পায়ের নীচে পড়ে অনেকেই আহত হয়। ছোটাছুটির কারনে বিভিন্ন জায়গায় ধাক্কা খেয়ে আহত হয়। আহতদের মধ্যে অনেকেই স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়ে চলে গেলেও আমাদেরকে মানুষজন হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। আর এখন (রাত ১২.৩০মিনিটে) একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রংপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলো। আমাদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য মালিকপক্ষ এখনও কোন টাকা-পয়সা দেননি। ফ্যানের সাথে মাথার চুল আটকে যাওয়া আহত শিশু শ্রমিক মিতালীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে জানায়, আমি গাবরোল তহশীলদারপাড়া স্কুলে ৮ম শ্রেণিতে পড়ি। শনিবার ফ্যানের সাথে আমার চুল আটকে গেলে আহত হই। চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে আসি। আমি অসুস্থ্য তাই কাজে যেতে পারি নাই। কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত কারখানার ভিতরে শ্রমিকদের ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা আছে জানিয়ে কারখানাটির এডমিন নিয়ামুল ইসলাম,এইচ আর সফিকুল ইসলাম, মোস্তাকুর রহমান, আব্দুস ছালাম জানায়, কারখানা কিংবা আমাদের সম্পর্কে কোন তথ্য জানতে চাইলে আমাদের জিএম মেজর (অবঃ) ফেরদৌস স্যারের সাথে কথা বলেন। বিষয়টি নিয়ে মিলিয়ন গোল্ড লিমিটেড ইউনিট-১ এর জিএম মেজর (অবঃ) ফেরদৌস এর (০১৮৪৭২২৮৪০০) নম্বরে একাধিক বার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।এবিষয়ে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আরিফ হাসনাত বলেন, আমি ডিউটিতে আসার আগে রোগিগুলো ভর্তি হয়েছে। দীর্ঘ চার ঘন্টা শারমীন নামে এক রোগির জ্ঞান না ফিরলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কারখানাটি শিশু শ্রমিক দিয়ে এখনো চলছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুব হাসান শিশু শ্রমিক দিয়ে কেউ যদি কোন কারখানা পরিচালনা করে সেটি বে-আইনী। অভিযোগ আসলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে