ঐতিহাসিক দোসরা মার্চ আজ

প্রকাশিত: ০২-০৩-২০১৭, সময়: ১২:৫৯ |
Share This

আজ ঐতিহাসিক দোসরা মার্চ। একাত্তরের এইদিনেই পূর্ব পাকিস্তানের ভূখণ্ডে উত্তোলন করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা। বাঙালিরা নিজের অধিকার আর অস্তিত্বকে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে তুলে ধরেছিল বিশ্বের সামনে। সেদিন পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর শোষণ আর নিপীড়নের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছিল আম জনতা।

মুক্তিসংগ্রামীরা বলছেন, যে স্বপ্ন নিয়ে বাংলার বুকে পতাকা উড়িয়েছিলেন তারা, তার বাস্তবায়নে আরো অনেক পথ অতিক্রম করতে হবে।

পুরান ঢাকার আব্দুল মান্নান। গত ৩৫ বছর ধরে এভাবেই লাল সবুজের মিশেলে তৈরি করে চলেছেন জাতীয় পতাকা। উৎসবের দিনগুলোতে পতাকা উড়তে দেখলে গর্বে বুকটা ভরে ওঠে তার। পতাকা সেলাইয়ে কখনও লাভ ক্ষতির হিসেব করেননি তিনি। তার কাছে এ শুধু এক টুকরো কাপড় নয়, সবুজে মোড়ানো প্রিয় বাংলাদেশ।

আব্দুল মান্নানের সেলাই করা আজকের এই পতাকার পেছনে রয়েছে অনেক রক্ত আর ত্যাগের ইতিহাস। ১৯৭০ সালের ৭ই জুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলে জোড়ো হন ছাত্রনেতারা। সিদ্ধান্ত নিলেন সবুজ জমিনের উপর লাল সূর্যের মাঝে বাংলার মানচিত্র খচিত পতাকা তৈরির। কেউ আনলো কাপড়, কেউ করল নকশা। এভাবেই তৈরি হলো বাংলার স্বাধিকারের নিদর্শন।

পরে ১৯৭১ সালের দোসরা মার্চ তৎকালীন ছাত্র নেতাদের ডাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের বটতলায় জড়ো হয় লক্ষ জনতা। আর সেখানেই প্রথমবারের মত উত্তোলিত হয় লাল সবুজ পতাকা। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এখনো অর্জিত হয়নি স্বতন্ত্র পতাকার লক্ষ্য।

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ যে চেতনা আর আদর্শের উপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়েছিল সেই চেতরা আর আদর্শকে অনেক সময় দেখা গেছে খামচে ধরা হয়েছে। পতাকার মান পরিপূর্ণভাবে রক্ষা করা হয়েছে এমনটা বলার সপক্ষে কোন যুক্তি আমাদের নেই।’

মুক্তিসংগ্রামীদের মতে আগামী প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে নৈতিকতা, দেশের প্রতি ভালবাসা আর অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তিতে। আর তাহলেই তারা গড়ে তুলতে পারবে মুক্তিসংগ্রামীদের স্বপ্নের বাংলাদেশ।

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে