তেঁতুলিয়ায় প্রতিবন্ধীর জমি জবর দখল করে সর্বনাশ করছে বিবাদীগণ

মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় প্রতিনধিঃ পঞ্চগড় জেলাধীন তেঁতুলিয়া উপজেলায় প্রতিবন্ধীর প্রাপ্ত জমি জবর দখল করে সর্বনাশ করার অভিযোগ উঠেছে। দেখার কেউ নেই। সুষ্ঠ বিচারের দাবি প্রতিবন্ধী আজিজার রহমানের। যার বই নং- ৪৫৩, ব্যাংক হিসাব নং- প্রতি-৬৭ তেঁতুলিয়া সমাজসেবা কার্যালয়, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়।
ঘটনাটি তেঁতুলিয়া উপজেলার ৪নং শালবাহান ইউপির বালাবাড়ি গ্রামের প্রতিবন্ধী আজিজার রহমান(৫০) পিতা- মৃত ইসমাইল হকের সহিত ঐ একই গ্রামের বিবাদী হকিকুল ইসলাম(৪৫), আমিরুল ইসলাম(৪০), আবজল(৩৫) সর্ব পিতা- সনে আলী, আঃ লতিফ(৫০), লুৎফর(৪৫), রফিকুল(৪২) সর্ব পিতা- মৃত আসাব উদ্দিন এবং ইব্রাহীম পিতা- মৃত ইউসুফ আলী @ ভক্কর, গ্রাম- গবরাগছ সর্ব থানা- তেঁতুলিয়া, জেলা-পঞ্চগড় এর নিকট ঘটেছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রতিবন্ধী আজিজার একজন অসহায় গরীব। অপরদিকে বিবাদী হকিকুলেরা প্রভাবশালী ব্যক্তি হইতেছেন। বাদী আজিজারের সহিত প্রভাবশালী ব্যক্তিগণের দীর্ঘদিন ধরে মামলা মোকদ্দমা চলছে। আজিজার গরীব অসহায় ব্যক্তি হওয়ায় একাধিক বার বিভিন্ন অফিসার সরেজমিনে তদন্ত আসলে কোন সুষ্ঠ বিচার পাচ্ছেননা জানান এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী আরোও জানান, প্রতিবন্ধী আজিজারের বাবা মৃত ইসমাইল হকের অনেক জমা-জমি ছিলেন। তার বাবার মৃত্যের পর আজিজারকে ভোগদখলীয় জমি থেকে বে-দখল করা হচ্ছে বলে জানাযায়।
এতে সুষ্ঠু বিচার ভুক্তভোগী আজিজার রহমান জানান, জেলা-পঞ্চগড়, থানা- তেঁতুলিয়া, মৌজা- বালাবাড়ি, জে.এল.নং- ১৮, এস.এ খতিয়ান নং- ৬৮ রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন, গোপালস্বরী দাস্যা চার আনা হিস্যায়, গোবিন্দ দাস চার আনা হিস্যায়, আঃ করিম এক আনা পনের গন্ডা হিস্যায়, ইসমাইল এক আনা পনের গন্ডা হিস্যায়, আসাবদ্দিন মোহাম্মদ এক আনা আট গন্ডা হিস্যায়, সমে আলী মোহাম্মদ এক আনা পনের গন্ডা হিস্যায়, আমেনা খাতুন চৌদ্দ গন্ডা, সুরাতন নেছা এক আনা হিস্যায় মালিক ছিলেন।
পরবর্তীতে রেকর্ডীয় মালিকগণ তাঁহারা তাদের হিস্যাগত জমা-জমি ভোগ দখল করিয়া আসিতে থাকাকালীন রেকর্ডীয় মালিকগণ সরকার বাহাদুর বরাবরে যথারীতি খাজনাদি পরিশোধ করিতে না পারিলে উক্ত রেকর্ডীয় মালিকগণের বিরুদ্ধে জেলা-দিনাজপুর, মোকাম তেঁতুলিয়া থানার সার্টিফিকেট আদালতে পূর্ব পাক সরকার পক্ষে ডিসি বাহাদুর দিনাজপুর ১৯৬১ সালের ৬২-৪২ সি নং মোকদ্দমা আনয়ন করেন। উক্ত মোকদ্দমা রায় ঘোষণা পূর্বক উক্ত মোকদ্দমায় ১৯৬২ সালের ১২মাসের ২২তারিখের ডিক্রী জারীতে উক্ত রেকর্ডীয় মালিকের ১৭.০৬ একর জমা-জমি নিলামের ঘোষণা পূর্বক মোঃ আজিজার রহমান ছয় আনা হিস্যা বরাবরে নিলাম কৃত ৬.২৪ একর জমা-জমি ১৯৬৪ সালের ৯ মাসের ১২ তারিখের দখল বুঝাইয়া দেন। আজিজার রহমান উক্ত নিলামে ৬.২৪ একর জমা-জমি প্রাপ্ত অন্তে নিজ নিবুঢ় স্বত্ত্বে বিবাদী তথা অপর সকলের জ্ঞাতসারে উক্ত জমা-জমি মৌসুমি ফসলাদি ফলাইয়া শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোগ দখল করিয়া আসিতে থাকেন এবং সরকার বাহাদুর বরাবরে সন সন যথারীতি খাজনাদি পরিশোধ করিয়া দাখিলা ডিসি.আর প্রাপ্তে ২০৫ নং খারিজ খতিয়ান খুলিয়া লয়েন। বর্তমান আর.এস জরিপ কালে অত্র প্রতিবন্ধী আজিজার রহমানের নামে আর.এস খতিয়ান প্রস্তুত হইয়া বলবৎ আছেন।
সরেজমিনে গিয়ে ও অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, আজিজার রহমান নিলাম ও ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত জেলা-পঞ্চগড়, থানা- তেঁতুলিয়া, মৌজা- বালাবাড়ি, জে.এল.নং- ১৮, এস.এ খতিয়ান নং- ৬৮ মোট জমির পরিমান ৬.২৪একর। এস.এ দাগ নং- ৪২৮, ৪৩০, ৬৬৭, ৬৭২, ৬৭৭, ৬৭৯, ৬৮০, ৬৮১, ৬৮৩, ৬৮৫, ৬৮৬, ৬৮৭, ৬৯০, ৬৯১, ৬৯২,৭০১,৭০২ বিরোধীয় দাগ হইতেছেন। আজিজার রহমান নিলাম ও ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত হইয়া ভোগদখল করিয়া আসিতে থাকাকালীন উল্লেখিত দাগ সমূহের মধ্যে ৬৮৫ নং দাগের জমিতে প্রচুর পাথরের সন্ধান পাইলে বাদী আজিজার রহমান- নুরুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, রুহুল আমিন ও আব্দুল বারেক গংগনের নিকট ৪৩,৮৪,০০০/-(তেতাল্লিশ লক্ষ চুরাশি হাজার) টাকা স্থির করতঃ পাথর উত্তোলনের চুক্তিপত্র ৩০০/- (তিনশত) টাকার নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র করে গত ইং ৩১/১২/২০১৭ তারিখে সহি সম্পাদন করেন। পাথর উত্তোলন চুক্তিপত্রের সংবাদ পাইয়া গত ইং ২১/০৩/২০১৮ তারিখে সকাল ১০:০০ ঘটিকায় অত্র খতিয়ানের বিরোধীয় জমির মালিক বাদী আজিজারকে বে-দখল করিবার হুমকি প্রদর্শন করিলে বাদী আজিজার গত ইং ২৫/০৩/২০১৮ তারিখে এম.আর ৬৮/১৮ নং মামলায় ১৪৪ ধারা মতে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পঞ্চগড়ে আনয়ন করেন। এতে বিজ্ঞ আদালতের আদেশক্রমে থানা কর্তৃপক্ষ বিবাদীগণকে স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করিলে উক্ত নোটিশ অমান্য করে গত ইং ২৯/০৩/২০১৮ তারিখে বাদীর ভোগদখলীয় জমিতে অনধিকার প্রবেশ করেন। পরে উক্ত মামলার স্বাক্ষীগণের বাধা নিষেধের কারণে বিবাদীগণ ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। সেদিনের বাধা নিষেধের পর বিবাদীগণ এক জোট হয়ে শলাপরামর্শে গত ইং ০৪/০৪/২০১৮ তারিখে রোজ বুধবার ভোর অনুমান ৪:০০ঘটিকা হইতে সকাল ১০:০০ ঘটিকা বিবাদীগণের হাতে ছোড়া বল্লম, লাঠি, লোহার রড ইত্যাদি মারাত্মক অস্ত্রে সস্ত্রে সু-সজ্জিত হয়ে অপরিচিত প্রায় ১০০জন লোক, ১৫টি মহেন্দ্র ট্রলি ও অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বাদির ভোগদখলীয় জমি দখল করে পাথর উত্তোলনের পাঁয়তারায় লিপ্ত হন। ইহাতে বাদী আজিজার রহমান (প্রতিবন্ধী) বিজ্ঞ কগনিজেন্স ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৪, পঞ্চগড় এ বিবাদী হকিকুল ইসলাম(৪৫), আমিরুল ইসলাম(৪০), আবজল(৩৫) সর্ব পিতা- সনে আলী, আঃ লতিফ(৫০), লুৎফর(৪৫), রফিকুল(৪২) সর্ব পিতা- মৃত আসাব উদ্দিন এবং ইব্রাহীম পিতা- মৃত ইউসুফ আলী @ ভক্কর, গ্রাম- গবরাগছ সর্ব থানা- তেঁতুলিয়া, জেলা-পঞ্চগড়সহ অপরিচিত আরো ১০০ জনের বিরুদ্ধে ১৪১/২০১৮ নং পিটিশন মামলা আনয়ন করেন। যা বিজ্ঞ আদালতের গত ইং ০৫/০৯/২০১৮ তারিখের প্রসেস নং- ১১০/২০১৮ মোতাবেক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে তদন্ত প্রতিবেদনের দায়িত্ব দিলে তিনি স্মারক নং ৩১.৪৭.৭৭৯০.০০০.১৩.০২৮.১৮-৫৮১ এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত প্রতিবেদন বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন। যা ওই প্রতিবেদনে বাদী, বিবাদী ও স্বাক্ষীগণের জবানবন্দির কপিসহ লিখিত দেয়া হয়েছে। উক্ত প্রতিবেদনে সহকারী কমিশনার ১নং বিবাদীর জবানবন্দি শ্রবণে ও লিখিত আকারে প্রেরণে ইসমাইল হকের মৃত্যুর পর তার পুত্র আজিজার রহমান গত ইং ২৯/০৫/২০০৪ তারিখে ১৭৮৪নং দলিলমূলে মোট আট দাগে ০.৬৭৫০ একর জমি বিক্রয় করে হস্তান্তর করেন কথাটি অসত্য কেননা ইসমাইল হক মৃত্যু বরণ করেন গত ইং ১৪/১১/২০১২ তারিখে যার মৃত্যু সনদ পত্র রয়েছে তাহলে পিতা থাকতে পুত্র জমি বিক্রি করেন কিভাবে প্রশ্ন আজিজার রহমানের।
এছাড়াও বাদী আজিজার রহমান বিবাদীগণের কার্যকলাপে বিভিন্ন সমস্যায় বিভিন্নভাবে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।
এতে ভুক্তভোগী আজিজার রহমান আরোও জানান, আমি ইতোপূর্বে বিবাদীগণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে সাহায্য সহযোগিতার জন্য আবেদন করলেও দপ্তরাধীন অফিসারেরা কোনভাবেই তার কথা শুনা হয়নি। আজিজার বিলাফ করে বলেন, বিবাদী হকিকুলেরা আমার প্রায় ৪,০০,০০,০০০/- (চার কোটি) টাকার পাথর উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। এখন আমি নিরুপায় কুল কিনারা খুজে পাচ্ছিনা, এলাকায় ত্রাস সৃষ্টিকারী হকিকুল মাষ্টার ও আমিরুল মাষ্টারের কি বিচার হবেনা? তারা কি বিচারের উর্ধ্বে!বিবাদীপক্ষে আমিরুল ইসলাম জানান, আমরাই জমির মালিক আজিজার এক ডিসমাইল জমিও পাবেননা। অনেক বার এ বিষয়ে বসা হয়েছে তারা কোন সিদ্ধান্তই মানছেন না। এ ব্যাপারে শালবাহান ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার জানান, জমিটি নিলাম হয়েছিল, নিলাম হওয়ার পর আজিজার নিলাম সূত্রে প্রাপ্ত। তার নামে আমাদের অফিসে খারিজ খতিয়ান রয়েছে। এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে জামাজমি নিয়ে বিরোধ। ইতোপূর্বে আমার থানায় অভিযোগ করলে আমি সুষ্ঠ তদন্ত করেছি।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Comments are closed.

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

ওয়েবসাইট নির্মানে: আইটি হাউজ বাংলাদেশ