করোনার দুটি ওষুধের একটিতে আশার আলো, অন্যটিতে শঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্বজুড়ে কভিড-১৯ চিকিৎসায় দুটি ওষুধ নিয়ে ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। একটি এন্টিভাইরাল ওষুধ ‘রেমডেসিভির’ অন্যটি ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রথম ওষুধটিতে আশার আলো তৈরী হলেও দ্বিতীয় ওষুধটিতে মারাত্বক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।
রেমডেসিভির : বায়োটেক কম্পানি গিলিয়েড সায়েন্সেস গত শুক্রবার একটি বিশ্লেষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে। এতে বলা হয়, কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মারাত্বক অসুস্থ হওয়া ৫৩ রোগীর ওপর রেমডেসিভির ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। এতে ৫৩ রোগীর মধ্যে ৩৬ জনের অবস্থার উন্নতি হয়, ৮ জনের অবস্থার অবনতি হয় এবং ৭ জন মারা যান। বিশেষকরে ভেন্টিলেটর বা লাইফসাপোর্টে থাকা ৩০ জন রোগীর মধ্যে ১৭ জনকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। গবেষক বলছেন, এ ওষুধ প্রয়োগকৃত সিরিয়াস রোগীর মৃত্যুর হার দেখা গেছে ১৩ শতাংশ। যা চীনে মৃত্যুর হার ১৭-৭৮ শতাংশ এর কম।এ গবেষণাটিতে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, এটি সঠিকভাবে প্রমাণিত নয়। তবুও এ গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন রেমডেসিভির নিয়ে আশার আলো পাওয়া গেছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপ ও জাপানেও এ ওষুধের ব্যবহার সিমীত আকারে হয়েছে, যা থেকে ভালো ফল পাওয়া গেছে।এ বিশ্লেষণের মূল গবেষক সেডার্স-সিনাই মেডিক্যাল সেন্টার ইন লস অ্যাঞ্জেলস এর হসপিটাল এপিডেমিওলোজির পরিচালক জনাথন গ্রিয়েন বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে আসছি না এ ডাটা থেকে। তবে আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে এ ওষুধ প্রয়োগ করে আশার আলো পাওয়া গেছে।এ বিষয়ে বার্মিংহামে ইউনিভার্সিটি অব আলাবামার সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ পল গয়েপফার্ট ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত এটি একটি সম্ভাবনাময় ওষুধ, যদিও কার্যকরভাবে এখনো প্রমাণিত হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘এটি থেকে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হচ্ছে এ ওষুধ কিন্তু কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরী করে না।’
হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন : ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিকোরোকুইন নিয়ে সম্প্রতি একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফ্রান্স। দেশটির ওষুধ নিরাপত্তা সংস্থা এএনএসএম প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনকে কভিড-১৯ চিকিৎসায় সম্ভাব্য মিরাকল ভাবা হলেও এটি হার্টের রোগীদের ক্ষেত্রে মারাত্বক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরী করে। তাই মেডিক্যাল ডাক্তারের তত্ত্বাবধান ছাড়া এটি ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিবেদনে বলা হয়, রোগীর হৃদযন্ত্রে সমস্যা হচ্ছে এমন ৪৩টি ঘটনায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন এর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক গবেষণা বলছে, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন বিশেষত কার্ডিওভাসকুলারের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরী করে। কভিড-১৯ এর রোগীদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি আরো বেশি। তাই এ ওষুধ ব্যবহার করা হলেও তা অবশ্যই হাসপাতালে ব্যবহার করতে হবে ডাক্তারদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন বলছেন এটি কভিড-১৯ এর জন্য সম্ভাব্য চিকিৎসা তখন এর পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই যে এটি কভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে কাজ করে বা এটি ব্যবহার নিরাপদ। তাই চিকিৎসা বিজ্ঞনীরা এটিকে কার্যকর ওষুধ হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তারা বলছেন, কিনিক্যাললি এটা এখনো প্রমাণিত নয় যে এটি কভিড-১৯ এর চিকিৎসায় কাজ করে।
কভিড-১৯ এ আক্রান্ত যারা একেবারে শেষ পর্যায়ে তাদের জন্য হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন শেষ অবলম্বন আখ্যা দিয়ে কাইজের ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের বৈশ্বিক স্বাস্থ্যনীতি বিষয়ক সহকারী পরিচালক জশোয়া মিখাউদ বলেন, ‘এ ওষুধ বিপুল সংখ্যক মানুষ নেয়ায় আমি উদ্বিগ্ন। করোনার লক্ষণ বেশি বা কম হোক সবাই এ ওষুধ নিচ্ছে। অথচ এ ওষুধটি কভিড-১৯ চিকিৎসায় কার্যকর প্রমাণিত নয়, বিপরীতে এর মারাত্বক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Comments are closed.

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

ওয়েবসাইট নির্মানে: আইটি হাউজ বাংলাদেশ