বিএসইউএম এর শিক্ষা সফর

প্রকাশিত: ০২-০৩-২০১৭, সময়: ০৫:৩০ |
Share This

কুয়ালালামপুর থেকে

রাজধানী কুয়ালালামপুরের আকাবাঁকা পাহাড়ি পথ ধরে ছুটে চলেছে আমাদের বাস।সকাল সাড়ে দশটায় কুয়ালালামপুরের অভিজাত এলাকা বুকিত বিনতাং থেকে ইউনিভার্সিটি মালয়া হয়ে যাত্রা শুরু হলো দক্ষিণ চীন সাগরের কোল ঘেষা কোয়ান্তানের তেলুক ছিম্পেডাক সমুদ্র সৈকত অভিমুখে।

দু’দিনের এই সফরের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে মালয়েশিয়ায় অধ্যায়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ স্টুডেন্ট ইউনিয়ন মালয়েশিয়ার সভাপতি মো: রবিউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া। বাৎসরিক এ সফরকে শিক্ষা সফর বলছেন সংগঠনটির নেতারা। ইউনিভার্সিটি মালয়া, ইউনিভার্সিটি সাইন্স ইসলাম মালয়েশিয়া, ইউসিএসআই, ইউএসআইএম, ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া, লিংকন ইউনিভার্সিটিসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী রয়েছেন এই সফরে।

মোহনা টিভি’র মালয়েশিয়া প্রতিনিধি শামসুজ্জামান নাঈমের উপস্থাপনায় চলন্ত পথেই শুরু হলো কৌতুক, গান আর কথোপকথনে আমাদের আড্ডা।

চার ঘন্টার সফর শেষে আমরা পৌঁছালাম কোয়ান্তানের তেলুক ছিম্পেডাক সমুদ্র সৈকতে।পাহাড়ের পাদদেশের এই সৈকতের পাশেই একটি কটেজে ব্যাবস্থা হলো রাত কাটানোর। এবার সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার পালা।

পড়ন্ত বিকেলে হেলে পড়া সূর্যটার তীর্যক আলোয় চিক চিক করছে সৈকতের বালু। সৈকতে আছড়ে পড়া ঢেউ দেখে এক মূহূর্তের জন্য আপনি হারিয়ে যেতে পারেন কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত ভেবে। মালয়েশিয়ার অন্যান্য সৈকতে আপনি হয়তো এমন ঢেউ পাবেন না। ঘন্টাখানেক পরেই এই সৈকতে শুরু হলো আমাদের বীচ ফুটবল খেলা। খেলা শেষে কিছু সময় চললো বালু দিয়ে শহীদ মিনার তৈরীর চেষ্টাও।

সন্ধা আগত। লাল সূর্যের আভা ছড়িয়ে পড়েছে নীল সমুদ্রে। সান্ধ্য সমুদ্র দেখতে সৈকতে জড়ো হয়েছে কয়েক’শ মানুষ। যাদের প্রায় সবাই মালয়েশিয়ান। বলে রাখা ভালো এ সমুদ্র সৈকতে বিদেশীদের আনাগোনা নেই বললেই চলে। নেই প্যারাস্যুট, ব্যানানা বোট, স্পীড বোট কিংবা অন্য কোন জলযান।তবে সমুদ্রের কোল ঘেষে বসেছে বিশাল বাজার যেখান থেকে স্বস্তায় অনেক কিছু কিনতে পারেন আপনি। আছে কেএফসি, ম্যাকডোনাল্ডস্, স্টারবাক কিংবা সাবওয়ের মতো খাবারের রেস্টুরেন্ট। শুধু যারা সমুদ্র সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান তারা ঘুরে আসতে পারেন এই সৈকতে। তবে সমুদ্র স্নানে আগ্রহীদের সাবধানতা অবলম্বন করতেই হবে। কারন সৈকতের ঢেউ আর সমুদ্রে পানির অবস্থান-ই বলে দিচ্ছে এর ভয়বহতা কতটুকু।এখন মধ্যরাত।সমুদ্রের গর্জন ভেসে আসছে। বারবিকিউ পার্টি শেষে ঝুম ঝুম বৃষ্টিতে আটকে গেলো মধ্যরাতের সমুদ্র দর্শন।

দু’দিনের সংক্ষিপ্ত সফরের শেষ দিন । সাড়ে বারোটায় হোটেল থেকে চেক আউট করার আগে শেষবারের মতো সমুদ্রে ছুটলাম। সকালের ঝলমলে সূর্যের আলোয় উত্তাল সমুদ্র আরো বেশি উচ্ছল। পাহাড়ের কোল ঘেষা কাঠের সেতু পার হয়ে সামনে এগুচ্ছি আমরা। এই সেতুর আশপাশে বেশ কিছু বানর রয়েছে যা আপনাকে নানাভাবে বিরক্ত করতে পারে।সমুদ্রের কিনারায় ফেলে রাখা পাথরখন্ডের উপরে কিছু ছবি উঠানো শেষে আমরা ফিরলাম হোটেলে।

এখান থেকে আবার যাত্রা শুরু। কোয়ান্তান শহরে দেখার মতো খুব বেশি কিছু নেই। তবে শহরের মাঝে শাহ সুলতান আহমেদ শাহ স্টেট মসজিদটি অসাধারণ একটি স্থাপনা। এই মসজিদটি দেখে আমাদের যাত্রা শুরু হলো ঝর্ণা অভিমুখে। সৈকত থেকে চল্লিশ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত রংধনু ঝর্না (রেইনবো ওয়াটারফল)। সকাল এগারো টা থেকে বারোটার মধ্যে গেলে আপনি দেখতে পাবেন রংধনু। তবে দুর্গম রাস্তার কারনে রংধনু ঝর্ণার(রেইনবো ওয়াটারফল) পরিবর্তে আমরা পার্শ্ববর্তি সুংগাই পান্দান ওয়াটার ফলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।

অসাধারণ এই ঝর্ণা প্রথম দেখায় আপনার ভালো লেগে যাবে। গেট দিয়ে ঢুকেই চোঁখে পড়বে একটি ঝুলন্ত ব্রীজ আর ব্রীজের পরেই বিশাল আকৃতির ঝর্ণা যেখান থেকে অঝোরে নামছে পানির ঢল। মনমুগ্ধকর এই স্থানে এসে স্বচ্ছ পানির স্রোতধারায় নিজেকে না ভিজালে অনেক কিছুই আপনার অপূর্ণ থেকে যাবে।

মনোরম সমুদ্র সৈকতের পর মনমুগ্ধকর ঝর্ণা— দু’দিনের সফরের পরিপূর্ণতা পেলো। সঙ্গে যোগ হলো এক মালয়েশিয়ান মুসলিম রমনির সততার দৃষ্টান্ত। সহকর্মী নাঈমের ফেলে আশা ক্যামেরা ফিরিয়ে দিয়ে যিনি অনেকদিন থেকে যাবেন আমাদের মানষপটে।

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে