করোনা ভাইরাসের মধ্যে এবার বাঙালি জাতির জীবনে ২৬ মার্চ নিবরতা ভাবে পালিত

আওরঙ্গজেব কামাল : করোনা ভাইরাসের মধ্যে এবার বাঙালি জাতির জীবনে ২৬ মার্চ নিবরতা ভাবে পালিত হলো। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস যা ২৬শে মার্চ তারিখে পালিত বাংলাদেশের জাতীয় দিবস হিসাবে। মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যগড়ার শপথ গ্রহণের মধ্যদিয়ে জাতি মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করে একে বারে নিরব ভাবে।এ বছর আমাদের মহান স্বাধীনতার দিবসটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে কারন আমরা করোনা ভাইরাস নামক আর এক যুদ্ধে উপনিত হয়েছি। এই যুদ্ধে জিততে হলে প্রয়োজন জনসচেনতা । আমরা বাঙ্গালী আমরা পারবো আল্লাহর রহমতে এই যুদ্ধ জয়ী হতে। সে দিন ২৬ মার্চ পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত/ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে/নতুন নিশান উড়িয়ে/দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক/এই বাংলায় তোমাকে আসতেই হবে হে স্বাধীনতা।’ সত্যিই বাংলায় এসেছে সেই মহার্ঘ্য স্বাধীনতা। তেমনি আমরা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করবো।
হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্বের বুকে স্বাধীন অস্তিত্ব ঘোষণা করেছিল বীর বাঙালি।বাঙালি জাতির জীবনে ২৬ মার্চ দিনটি একই সঙ্গে গৌরব ও শোকের। বাঙালির ওপর পাকিস্তানি শাসকেরা শোষণ এবং ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর যে আগ্রাসন চালিয়েছিল, এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধিকারের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বাঙালিরা। তারা ২৫ মার্চ মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উঠে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও দেশ স্বাধীন করার শপথ গ্রহণ করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে প্রতিটি বাঙালির মনে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের বীজ রোপিত হয়। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। মৃত্যুপণ লড়াই ও রক্তসমুদ্র পাড়ি দিয়ে বীর বাঙালি জাতি ছিনিয়ে আনে জাতীয় ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মহান স্বাধীনতা। প্রতিবছর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে দিবসটি উদ্যাপন করে গোটা জাতি। বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করে স্বাধীনতার জন্য আত্মদানকারী দেশের বীর সন্তানদের। শ্রদ্ধা জানায় মহান স্বাধীনতার রূপকার বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক জাতীয় নেতা, নৃশংস গণহত্যার শিকার লাখো সাধারণ মানুষ এবং সম্ভ্রম হারানো মা-বোনের প্রতি। কিন্তু এবারের স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উদ্যাপিত হচ্ছে। কিন্তু করোনার কারনে দেশে মহাধুম ধামে দিবসটি পালিত হচ্ছেনা। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গোটা বিশ্ব এখন বিপর্যস্ত। ধনী বা দরিদ্র, উন্নত বা উন্নয়নশীল, ছোট-বড় সব দেশই আজ কমবেশি নভেল করোনানামক এক ভয়ংকর ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত। বাংলাদেশও এ সংক্রমণ থেকে মুক্ত নয়। ফলে এবার স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সব কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। তবে দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাণীতে তারা দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধু সবসময় রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি একটি সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, জাতির পিতার নির্দেশে পরিচালিত ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন। এ অর্জনকে অর্থবহ করতে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে। স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করতে হবে। প্রজন্মে থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দিতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশি নাগরিকদের উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি বলেন, জাতিসংঘের প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রেরই স্বতন্ত্র সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে।এ বৈচিত্র্যতা আমাদের সংস্থা ও বিশ্বকে সমৃদ্ধ করেছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক এজেন্ডায় আপনার দেশের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবার জন্য একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে তিনি বাংলাদেশের জনগণের অংশগ্রহণ ও সমর্থন কামনা করেন।এ ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশি নাগরিকদের উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসে নয়, বিশ্বেও ছিল সাড়া জাগানো একটি ঘটনা। শুধু মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়নি। এ জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ এ পথপরিক্রমায় বঙ্গবন্ধু দুঃসাহসিক ভূমিকা পালন করেন। মৃত্যুকে তুচ্ছ ভেবে তিনি এগিয়ে গেছেন অবিচল চিত্তে। এ জন্যই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রাণপুরুষ। ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’, ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’, ‘বাঙালির স্বাধিকার’, ‘জয় বাংলা’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’- যাই বলি না কেন এগুলোর অপর নাম ‘বঙ্গবন্ধু’। লাল-সবুজের পতাকায় তিনি হয়ে আছেন চিরস্মরণীয়। আজ বিশ্বব্যাপী যেখানেই মুক্তির সংগ্রাম, সেখানেই অনুপ্রেরণা বঙ্গবন্ধু। তার নির্ভেজাল স্বদেশী চিন্তা-চেতনা থেকে তারা শিক্ষা নেন। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা লাভ ও বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মৌলিক ধারণা ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা, শোষণহীন সমাজ গঠন ও গনতান্ত্রিক মূলোবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা। যে নীতি অনুসরণ করে তার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এগিয়ে চলছেন। নতুন প্রজন্মকে বলছি- ইসলামের ধারণা সম্পূর্ণই নিহিত রয়েছে গঠনতন্ত্রে এবং শোষণহীন সমাজ গঠনের সকল উপাদান রয়েছে সেখানে। শুধুমাত্র সঠিকভাবে অনুধাবনের মাধ্যমে আমাদেরকে একটি বৈষম্যহীন শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন করতে হবে। দেশের জনসাধারনের জীবন বাঁচাতে আমারা কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাট ধৌত করবো, নোংরা হাত দিয়ে নাক, চোখ ও মুখমণ্ডল ধরবো না,আক্রান্ত ব্যক্তি হতে দূরে কাকবো, সকলে বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যাবো না,সুস্থ হওয়া না পর্যন্ত নিজের ঘরে থাকতে হবে। অন্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এড়িয়ে চলবো, হাঁচি বা কাশি দেয়ার সময় নিজের মুখ ও নাক কভার করে রাখবো,বাড়িতে বা কর্মক্ষেত্রের স্থানগুলো পরিষ্কার রাখবো,- এটাই হোক স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার। করোনা ভাইরাস নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হবেন না। কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলে এই ভাইরাসের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।জ্বর,সর্দি,কাশি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।বারবার হাত ধুতে হবে।প্রয়োজন ছাড়া জনবহুল এলাকা এড়িয়ে চলাই ভালো।

Comments

comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Comments are closed.

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

ওয়েবসাইট নির্মানে: আইটি হাউজ বাংলাদেশ