বঙ্গবন্ধুর দেয়া সনদ ও চেক থাকার পরও স্বীকৃতি মেলেনি মুক্তিযোদ্ধা শহীদ লোকমান আলীর

মোস্তফা মহসিন,(নোয়াখালী) : দেশ ব্যাপী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপনের ক্ষণ গনণা চলছে তখনও বঙ্গবন্ধুর দেয়া ম্মৃতিচিহৃ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের আবদুল্যাহপুর গ্রামের শহীদ লোকমান আলীর স্বজনরা। প্রশাসনের ধারে ধারে ঘুরলেও স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৯ বছরেও রাষ্ট্রিয় স্মীকৃতি মেলেনি এই মুক্তিযুদ্ধার। অর্থের অভাবে মুক্তিযোদ্ধা লোকমান আলীর স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী দুই নাতি ধুকে ধুকে মরছেন। জরাজির্ন একটি ঘরে কাটাচ্ছেন মানবেতন জীবন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী ও শহীদের স্বজনরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
জানা গেছে, লোকমান আলী পাকিস্তান আমলে দিনাজপুর পানী উন্নয়ন বোর্ডে কর্মরত ছিলেন। সেই সুবাধে তিনি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ভাইয়ের বাড়িতে থাকতেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বিভিন্ন স্থানে সম্মুখযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। একই সালের ৯ ডিসেম্বর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী ইউনিয়নের সটিবাড়ি হাট এলাকায় তিনি পাক বাহিনীর হাতে গণহত্যার শিকার হন। সেখানকার গণকবরে তার নাম রয়েছে। ১৯৭২ সালের ৬ এপ্রিল লোকমান আলীর আত্মদানের কথা স্বরন করে স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাক্ষরিত একটি সনদপত্র ও ২ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। বঙ্গবন্ধুর দেয়া সনদ ও চেক থাকলেও স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৯ বছরে এই মুক্তিযোদ্ধার নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকা ভূক্ত হয়নি। ফলে লোকমান আলী পরিবারের সদস্যরা সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। প্রশসনের বিভিন্ন দপ্তরে ধরর্না দিয়েও কোন লাভ হচ্ছেনা। বর্তমানে ফাইলটি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে লাল পিতায় বন্ধি থাকায় হতাশ এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যারা।এদিকে স্বামীর মৃত্যুর পর শোকে অল্প কয়দিনের মধ্যেই স্ত্রী বেলাতুন নেছা স্ট্রোক করে প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী দুই নাতীসহ তারা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে।এমতাবস্থায় লোকমান আলীকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভূক্ত করন ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের যথাযথ মর্যাদা প্রদানের দাবী জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী ও স্বজনরা। আবদুল্যাহপুর গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম দোলন, এম এ হাসানসহ অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতের সই করা সনদ ও চেক রয়েছে সেখানে আর কি ডকোমেন্ট থাকলে লোকমান আলী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভূক্ত হবে। আমরা প্রশাসনের এমন কর্মকান্ডে হতাশ। আশা করি বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন। বঙ্গবন্ধুর দেয়া চেক ও সনদ থাকার পরও কোন সহযোগীতা না পাওয়ায় হতাশ লোকমান আলীর স্ত্রী বেলাতুন নেছা জানান, ঢাকা, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি কিন্তু কোন সহযোগীতা পাইনি। পিতার আত্মার শান্তির জন্য হলেও রাষ্ট্রিয় স্বিকিৃতি দাবী করে পুত্র নুরুল হুদা বলেন, আমাদের ফাইলটি বর্তমানে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে রয়েছে। ফাইলটির এখন কি অবস্থা আমাদের জানা নেই। আমরা এখন বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তপেক্ষ কামনা করছি।
কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম হিরন ও ইউপি সদস্য নুরুল হুদা আলমগীর জানান, কাগজপত্র ও সার্বিক বিষয়ে পর্যালোচনা করে আমরা যা বুঝেছি ও শুনেছি তাতে মনে হয়-মুক্তিযোদ্ধা লোকমান মিয়া একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার নাম তালিকাভূক্ত করা দরকার। স্বাধীনতার স্ব-পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকাকালে একজন মুক্তিযোদ্ধার পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়ীত্ব। আমরা সব সময় তাদের পাশে থাকবো এবং যে কোন প্রকার সহযোগীতা আমরা করবো। বেগমগঞ্জ উপজেলরা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল হোসেন বাঙ্গালী জানান, কাগজপত্র যাচাই বাছাই ও ডিমলায় গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করে লোকমান আলী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে তাই তিনি তালিকাভূক্ত হওয়ার যোগ্য বলে আমি মনে করি। বেগমগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক বাদশা জানান, জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া চেক ও সনদ থাকার পরও লোকমান আলী কেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকভূক হয়নি তা খতিয়ে দেখা হবে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের পরিবার হিসেবে শহীদ লোকমান আলীর পাশে দাঁড়াবে উপজেলা পরিষদ। আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগীতা থাকবে। মুজিবশতবর্ষ উদযাপনের প্রাক্কালে জাতীর পিতার দেয়া স্মৃতিচিহৃ বহনকারী মুক্তিযোদ্ধা লোকমান আলীর পরিবারের পাশে দাড়াবে এবং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভূক্ত করার উদ্যোগ নেবে সরকারসহ সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ, এমনটাই সবার প্রত্যাশা ।

Comments

comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Comments are closed.

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

ওয়েবসাইট নির্মানে: আইটি হাউজ বাংলাদেশ