জলঢাকায় ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ এ-র অভিযোগ

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান জলঢাকা,নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারীর জলঢাকায় কৈমারী ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা মজিবর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতি ও অর্থ আত্নসাত সহ দিনের পরিবর্তে বেশীরভাগ সময় রাতে অফিস করার অভিযোগ উঠে। জমির কাগজ সংক্রান্ত বিষয়ে সেবা নিতে আসা ইউনিয়নের জনসাধারন দিনের বেলা ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তালার দিকে ঘন্টার পর ঘন্টা তাকিয়ে অপেক্ষা করতে হয়।তাছাড়া ভুমি কর্মকর্তা মজিবর জমি খারিজের নামে বাড়তি টাকা নিয়ে থাকেন। এক খারিজের জন্য অনেক দিন অপেক্ষায় থাকতে হয় ভুক্তভোগীদের ।গতকাল কৈমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।অভিযোগে জানা যায়,কৈমারী বাড়াইপাড়ার মৃত বসেতুল্লার ছেলে আব্দুল হামিদ (৬০) (ভূমিহীন) সরকারি খতিয়ান ভুক্ত ৩২ শতাংশ জমি বন্দবস্ত লিজ নিয়ে বসতভিটা তৈরী করে ভোগদখল করে বসবাস করে আসছেন। এ ভিটায় তার বাপ দাদার কবরস্থানও আছে। এই জমি পুনরায় বন্দোবস্থ করার অজুহাতে তহশিলদার মজিবর রহমান আব্দুল হামিদের কাছে পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে ব্যর্থ হলে অন্য সচ্ছল মানুষের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা বিনিময়ে তাকে (হামিদ) ভিটে মাটি ছাড়ার হুমকী,ভয়ভীতি ও গালিগালাজ করে। অপর এক অভিযোগে জানা যায়,ওই ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের আবেদ আলীর ছেলে সাদেকুল ইসলামের ক্রয়কৃত জমি আপোষ মীমাংসার কথা বলে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেয়। টাকা ফেরত চাইতে গেলে সাদিকুল কে গালিগালাজ করে অফিস থেকে বের করে দেয় এবং টাকা নেয়া বিষয় অস্বীকার করে। গতকাল দুপুর ২টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,কৈমারী ইউনিয়ন তহশিলদার অফিস কক্ষে তালা ঝুলছে। বাহিরে পতাকা উড়ছে। এসময় তহশিলদারের নামে সাংবাদিকদের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ করে স্থানীয় জনগন।এদিকে আব্দুল হামিদ কান্নাজরিত কন্ঠে এ প্রতিবেদক করে বলেন,মোর কিছুই নাই। মুই কোনমতে ওকিনা জমিত থাকোং। এই তহশিলদার মোর কাছে টাকা চাইছোলো দিবার পাং নাই বলে ভয়ভীতি সহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয় এবং তারা মোর বাড়িওয়ালীকে ডাঙ্গাডাঙ্গি করছে। মোর টাকাও নাই। মুই এখন কী করিম?কোটে যাইম! বলতে বলতে হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।সাদেকুল ইসলাম বলেন,আমার ক্রয়কৃত জমি সংশোধনের কথা বলে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়েছে। জমিও সংশোধন করেন না,টাকাও ফেরত দেয় না। উল্টো গালিগালাজ ও অপমান করে। আমি ন্যায় বিচার চাই। অভিযোগ অস্বীকার করে তহশিলদার মজিবর রহমান বলেন,আমি কাজের চাপে মাঝে মাঝে রাতে কাজ করি। কিন্তু দিনে ফুল সময় অফিসের কাজে থাকি। ওই সময় আমরা খেতে গিয়েছিলাম। আমি কারো কাছে টাকা নেই নাই। অভিযোগ বিষয়ে কৈমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবু বলেন,আমার কাছে একাধিক অভিযোগ এসেছে। তদন্তসাক্ষেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করবো।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Comments are closed.

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

ওয়েবসাইট নির্মানে: আইটি হাউজ বাংলাদেশ