বাগেরহাটের দুটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষক সংকট চরমে

বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাট জেলা শহরের দুই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মচারী সংকট চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে তেমনি বিদ্যালয়ের পরিবেশও চরম নোংরা হচ্ছে। এ সংকট কবে নাগাদ শেষ হবে তা বলতে পারেন না বিদ্যালয়ের প্রধানরাও। জানা যায়, বাগেরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও বাগেরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এই দুটিই বাগেরহাট জেলার প্রধান বিদ্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে জেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে শুধু এই দুটি বিদ্যালয়ই সরকারি ছিল। এরফলে জেলার মানুষের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটির প্রতি অন্যরকম আশা-আকাঙ্খাকা ছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে সরকার।
বাগেরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রভাতি ও দিবা দুই শিফটে এক হাজার ৮শত শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন প্রধান শিক্ষক, দুইজন সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ ৫৩ জন শিক্ষকের পদ রয়েছে। এরমধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৩২ জন শিক্ষক। শূন্য রয়েছে ২১ জন শিক্ষকের পদ। এরফলে বেশিরভাগ সময় রুটিনমাফিক শিক্ষার্থীদের পাড়ানো সম্ভব হয় না। নির্ভর করতে হয় প্রাইভেট টিউটরের উপর। এর বাইরে তৃতীয় শ্রেণির দুইটি পদের মধ্যে দুইটি পদই শূন্য রয়েছে বিদ্যালয়টিতে। ৭র্ম শ্রেণির শিক্ষার্থী এস এম ইফাত এ প্রতিবেদককে বলেন, স্যারেরা আমাদের আন্তরিকতার সঙ্গে পড়ালেও শিক্ষক সঙ্কট থাকার জন্য অনেক সময় ঠিকমত ক্লাস হয় না। আমাদের পড়ালেখায় সমস্যা হয়। জটিল বিষয়গুলোতে আমাদের নির্ভর করতে হয় প্রাইভেট টিউটরের ওপর। অন্যদিকে, বাগেরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রভাতি ও দিবা দুই শিফটে এক হাজার ৮ শত ৮৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন প্রধান শিক্ষক, দুইজন সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ ৫৩ জন শিক্ষকের পদ রয়েছে। এরমধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ২৭ জন শিক্ষক। শূন্য রয়েছে ২৬ জন শিক্ষকের পদ। শিক্ষক সংকটের ফলে প্রচন্ড বিড়ম্বনায় পড়তে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। শিক্ষক সংকটের ফলে দুই শিফটের শিক্ষার্থীদের একত্র করেও পাঠদান করছে শিক্ষকরা। শরীরচর্চা বিভাগের শিক্ষক কবির আকন বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। অনেক সময় শ্রেণি শিক্ষকও পাওয়া যায়না। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী না থাকায় বাইরে থেকে লোক ডেকে বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়। এটা খুবই চ্যালেঞ্জিং আমাদের জন্য। বাগেরহাটের সরকারি দুই বিদ্যালয়ের অভিভাবক ফোরামের আহ্বায়ক আহাদ উদ্দিন হায়দার এ প্রতিনিধিকে বলেন, বাগেরহাট শহরের সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে আমরা জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় মনে করি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এখানে শিক্ষক ও কর্মচারী সঙ্কট রয়েছে। এরফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে। আমরা অভিভাবকরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিদ্যালয়ের সভাপতি জেলা প্রপ্রশাসক মহোদয়কেও বিষয়টি জানিয়েছি, তিনি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছেন শিক্ষক সংকট সমাধানের জন্য। বাগেরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তপন কুমার বিশ্বাস এপ্রতিনিধিকে বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়ের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। আমি বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করেছি। সাম্প্রতিক সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের জন্য একটি পরীক্ষা চলছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে আমরা কিছু শিক্ষক পাব। আশাকরি আমাদের শিক্ষক সংকট দ্রুত পূরণ হয়ে যাবে। দুই বিদ্যালয়ের সভাপতি জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ এপ্রতিনিধিকে বলেন, শিক্ষক সংকটের বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। অতিদ্রুত বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট নিরসণ হবে বলে আশা প্রকাশ করি।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Comments are closed.

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

ওয়েবসাইট নির্মানে: আইটি হাউজ বাংলাদেশ