কালীগঞ্জে এক নেতার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ৩৫ পরিবার জেলা প্রশাসক নিকট অভিযোগ

প্রকাশিত: ০৩-০৯-২০২১, সময়: ০৪:০৪ |
Share This

ফিরোজ আহম্মেদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : মিজানুর রহমান নামের এক স্বঘোষিত ইউনিয়ন আওয়ামী সেচ্ছাসেবকলীগের নেতার অত্যাচারে অতিষ্ট কালীগঞ্জের আলাইপুর দাস পাড়ার কমপক্ষে ৩৫ সংখ্যালঘু পরিবার। তিনি দাপট দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী পুরুষের উপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। নারী নির্যাতনকারী ওই ব্যক্তির কবল থেকে রেহায় পেতে গ্রামবাসীরা গত মঙ্গলবার ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপারও ইউএনও বরাবর এক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওই গ্রামের সংখ্যালঘু দাস সম্প্রদায়ের ৫ ব্যক্তি স্বাক্ষরিত কপির অনুলিপিটি স্থানীয় প্রেসক্লাবেও দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে একটি পরিবার ভয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। যদিও জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ওই ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবকলীগগের কোন কমিটি নেই। কেউ নিজে এ সংগঠনের নেতা দাবি করে অপরাধমূলক কর্মকান্ড করলে তার দায়ভার সংগঠন বহন করবে না। দেশের প্রচলিত আইন মোতাবেক তার শাস্তি হবে। কেননা বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ সামপ্রদায়িক সম্প্রিতিতে বিশ্বাসী। সংগঠনটির নাম ভাঙিয়ে কোন ব্যক্তি অন্যায় করলে বরদাস্ত করা হবে না। তারাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। আলাইপুর গ্রামের সংখ্যালঘু দাস সম্প্রদায়ের পক্ষে দেবেন দাসসহ ৫ জন স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, তাদের গ্রামে ৩৫ টি সংখ্যালঘু পরিবারে প্রায় ১৫০ জন মানুষ বসবাস করেন। যারা বর্তমানে খুবই খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দিন পার করছেন। উপজেলার সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দাবি করা পাশর্^বতী আলুকদিয়া গ্রামের মিজানুর রহমান নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয়ে সংখ্যালঘু পরিবারের মানুষ গুলোকে অতিষ্ট করে তুলছেন। বিভিন্ন সময়ে তাদের পাড়ায় প্রবেশ করে নানা রকমের অনৈতিক কাজ করে। কেউ কোন অপরাধ করলে অথবা কোন প্রতিবাদ করলেই মারপিট করেন। গ্রামবাসীরা অভিযোগে আরো উল্লেখ করেছেন, আলাইপুর গ্রামের অমরেশ কুমারের বাড়িতে গিয়ে ওই ব্যক্তি অত্যাচার করে। বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দুরত্ব সৃষ্টি হয়। সংসার ভাঙার উপক্রম হয়ে অমরেশের স্ত্রী অনিতা বাবার বাড়ি চলে যান। এ মহল্লায় অত্যাচারের মাত্রা বেড়েই চলে। নিজেকে প্রভাবশালী দাবি করোয় তার বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। দাসপাড়ার বুলু রানী দাস নামে এক নারী বলেন, মিজানুরের ভয়তে আমরা কোন রকম কথা বলতে পারিনা। তার ভয়তে কোন কিছু স্বীকার করতেও পারিনা। মিজানুরের বিরুদ্ধে কথা বললে আমাদের বিটাদের (পুরুষ) তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করবে। আমরা সবাই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরীহ মানুষ। সব সময় আমাদের আতঙ্কে থাকতে হয়।
আলাইপুর গ্রামের দেবেন দাস জানান, এখানে বসবাস করার মতো নেই। মিজানুর রহমানের ভয়ে আমরা কথা বলতে পারি না। আমরা শান্তিতে বসবাস করতে চাই। আলাইপুর গ্রামের বৃদ্ধা গিরিবালা দাস বলেন, তার ছেলেকে বিভিন্ন সময় মারধর করে। একদিন ঠেকাতে গেলে মিজানুর আমাকেও মারধর করে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেরে ফেলার হুমকি দেয় মিজানুর, এই ভয়ে আমরা কোথাও অভিযোগ দিইনা। ঝামেলা এড়িয়ে চলি। কিন্ত এখন আর উপায় নেই। এ ব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে স্বঘোষিত স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা মিজানুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি করা হচ্ছে তা সত্য নহে। স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় প্রতিপক্ষরা আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন মাত্র। তবে অন্যান্য কথা তিনি এড়িয়ে যান। স্থানীয় ইউপি সদস্য তৌহিদুল ইসলাম জানান, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পেয়ে তিনি দাসপাড়ায় গিয়েছিলেন এবং সংখ্যালঘু পরিবারের অভিযোগের অনেক খানি সত্যতা পেয়েছেন। এ দিকে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আহাদুর রহমান খোকন স্বাক্ষরিত পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে সংগঠনটি সব সময় অসম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। মুঠোফোনে তিনি জানান, আমি জানি ওই ইউনিয়নে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কোন কমিটি নেই। কাজেই কেউ দলের নাম ভাঙিয়ে কিছু করলে তার দায় ভার দল বহন করবে না। ওই ব্যক্তি যেহেতু দলের কেউ না ফলে কোন কিছু লিখতে গেলে সংগঠন জড়িয়ে কিছু লেখা শোভনীয় নয়। তিনি বলেন আগামী কাল আমি নিজে গিয়ে ওই মহল্লায় খোঁজ নিয়ে দেখবো। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া জেরিন জানান, একটি অভিযোগপত্র পেয়েছি। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখছেন।

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে