রাখাইনে সমুদ্রবন্দর ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলবে চীন-মিয়ানমার

ডেস্ক রিপোর্ট : সহিংসতাকবলিত রাখাইনে গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনে চীনের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে মিয়ানমার। শনিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মিয়ানমার সফরে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।রয়টার্স জানিয়েছে, ১৯ বছরের মধ্যে কোনো চীনা প্রেসিডেন্টের প্রথম সফরে মিয়ানমার ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ৩৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দু’দিনের মিয়ানমার সফরের শেষ দিন শনিবার রাজধানী নেপিদোতে এসব চুক্তি স্বাক্ষর করেন স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি।রোহিঙ্গা গণহত্যায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড়ের মধ্যেই দেশটিতে দু’দিনের সফরে যান প্রতিবেশী মিত্র দেশের প্রেসিডেন্ট জিনপিং। শুক্রবার সকালে রাজধানী নেপিদোতে পৌঁছান তিনি।১৯ বছরের মধ্যে কোনো চীনা প্রেসিডেন্টের প্রথম সফর এটি। প্রথম দিনেই নেপিদোতে সু চি ও সেনাপ্রধান মিন অং লেইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন শি। সফরে চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরের (সিএমইসি) আওতায় উভয় দেশ বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছিল।রয়টার্স জানায়, শুক্রবার মিয়ানমারে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে উভয় দেশের সম্পর্কের নতুন যুগের কথা ঊর্ধ্বে তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানে সু চি চীনকে আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী ও বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী মহান দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর একে একে প্রায় তিন ডজন চুক্তি স্বাক্ষর করেন সু চি ও জিনপিং।এসব চুক্তির মধ্যে রয়েছে চীন থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, সহিংসতাকবলিত রাখাইনে গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনে একটি নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা।তবে জিনপিংয়ের এ সফরে ৩.৬ বিলিয়ন ডলারের বিতর্কিত বাঁধ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। ২০১১ সাল থেকেই প্রকল্পটির কাজ থেমে আছে।মিয়ানমার টাইমস জানায়, সফরের শেষ দিন শনিবার মিয়ানমারের সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতা, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং প্রভাবশালী ভিক্ষুদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন জিনপিং। এছাড়া চীন-মিয়ানমার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।২০১৭ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যা চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। পরিকল্পিত নিধনযজ্ঞের মুখে ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। একদিকে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে শুরু থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দা ও সমালোচনা হয়েছে। অন্যদিকে জাতিসংঘ ও অন্য সব মঞ্চে সাফাই গেয়ে এসেছেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর সু চি।রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রত্যক্ষ কারণেই রাখাইনে বিনিয়োগ করার প্রশ্নে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে বিশ্বের সব দেশ। কিন্তু অন্যেরা যেখানে বিনিয়োগ করতে রাজি নয়, সেখানেই প্রবল আগ্রহ নিয়ে বিনিয়োগ করছে চীন।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Leave a Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

ওয়েবসাইট নির্মানে: আইটি হাউজ বাংলাদেশ