সংসদে শেয়ারবাজার ঝড়: বিনিয়োগকারীরা শেষ হয়ে যাচ্ছে

ডেস্ক রিপোর্ট: অব্যাহত দরপতনে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ক্ষুব্ধ হয়েছেন সংসদ সদস্যরা। বুধবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় শেয়ারবাজার নিয়ে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন দুই সাংসদ।
বিএনপির সাংসদ হারুনুর রশীদ জানতে চান বিনিয়োগকারীকে রক্ষার জন্য অর্থমন্ত্রী কী ব্যবস্থা নিয়েছেন। আর শেয়ার বাজার রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ সাংসদ কাজী ফিরোজ রশীদ।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর উদ্ধৃত করে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, শেয়ার বাজার মাটিতে শুয়ে গেছে। বিক্ষোভ করছেন বিনিয়োগকারীরা। বাজারে সুশাসনের অভাবে বিনিয়োগকারীরা ভরসা পাচ্ছেন না। এটা বাজারের জন্য অশনিসংকেত।
কাজী ফিরোজ বলেন, যদি প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করেন তবে বাজার ফিরে আসতে পারে। ইতিমধ্যে শেয়ার মার্কেট ডিমিউচুয়ালাইজেশন হয়ে গেছে। বলা হলো এটা করা হলে আমাদের কাছ থেকে ৭ বছর ট্যাক্স নেওয়া হবে না। দুই বছর পর আমাদের ওপর ট্যাক্স আরোপ করা হচ্ছে। এই যে শেয়ার মার্কেটের অবস্থা একমাত্র কারণ দুর্বল কোম্পানিকে শেয়ার বাজারে লিস্টিং দেওয়া হয়েছে। আমাদের কিছু করার থাকে না। লিস্টিং দেয় সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন। আমরা বারবার বলি এই কোম্পানির লিস্টিং দিতে পারব না। কিছু মার্চেন্ট ব্যাংক, ইস্যু বরোয়ার এসব দুর্বল ও পচা কোম্পানি নিয়ে আসছে বাজারে। বিনিয়োগকারীদের রাস্তায় বসিয়ে দিয়েছে।’
জাপার এই সাংসদ বলেন, দুর্বল কোম্পানির শেয়ার ৭, ৮, ১০ টাকায় নেমে আসে। মূল দামের নিচে চলে আসে। বিনিয়োগকারীরা শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় বসে গেছে। ৩০ বছর ধরে শেয়ারবাজারে যাতায়াত করেন। এখন পায়ে জুতা নেই।
যারা পচা কোম্পানি আনছে, তাদের কারও বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১০টাকার শেয়ার ৩০টাকা প্রিমিয়াম হতে পারে না। ইস্যু ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। মার্চেন্ট ব্যাংককে জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে না।
ফিরোজ রশীদ বলেন, প্রশান্ত হালদার নামে একটা লোক নন-ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান করে ৩ হাজার ৫শ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। এভাবে টাকা চলে যাচ্ছে। কার জবাব কে নেবে, কার জবাব কে দেবে। কোনো জবাবদিহি নেই।
বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে মানুষ শেয়ারবাজারের জন্য রাস্তায় শুয়ে পড়েছে। কান্নায় বিপর্যস্ত। লক্ষ লক্ষ পরিবার ধুলায় মিশে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকার দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রীরা বিপর্যয় দেখতে পান না। তাঁরা বলেন, সংকট নেই। আমরা হতভম্ব হয়ে যাই, বিস্মিত হয়ে যাই।’
বিএনপির এই সাংসদ আরও বলেন, পত্রিকায় খবর এসেছে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা চলে যাচ্ছে অথচ আমরা আজ মুজিব বর্ষ পালন করছি, বলছি দেশে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। এত উন্নতি, চারদিকে বিশাল বিশাল স্থাপনা বানাচ্ছি। অথচ অর্থনীতির কী বিপর্যয় অবস্থা! বিনিয়োগকারীকে রক্ষার জন্য অর্থমন্ত্রী কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Leave a Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

ওয়েবসাইট নির্মানে: আইটি হাউজ বাংলাদেশ