কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেলের বিরুদ্ধে অসামাজিক ব্যবসার অভিযোগ

এস এম আলমগীর হোসেন, কলাপাড়া: পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেলের ব্যবসার অন্তরালে চলছে মাদক, পতিতা ও জুয়ার আসর। প্রশাসন ও স্থানীয় লোকজনকে ফাঁকি দিতে এসব অবৈধ ব্যবসায়ীরা বার বার হোটেলের নাম পরিবর্তন করলেও পরিবর্তন হয়নি ব্যবসার ধরণ। সাংবাদিক,পুলিশ ও স্থাণীয় সরকার দলের নেতাদের নাম ব্যবহার করে সূ-কৌশলে মাদক,জুয়া ও পতিতা ব্যবসা চালিয়ে আসছে অনুমোদনহীন আবাসিক হোটেল যমুনা,হোটেল পাঁচ তারা,ওমর খাঁন সহ নিন্ম মানের কয়েকটি আবাসিক হোটেলে। এসব অনৈতিক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে ফেলছে ছোট ছোট শিশুদেরও। পুলিশ মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে পতিতা ও দালালদের আটক করলেও আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে বেরিয়ে এসে এরা আবার পুনরায় শুরু করে এ ব্যবসা। এসব ব্যবসার মুল হোতারা অধরাই থেকে যাচ্ছে। নিন্মমানের আবাসিক হোটেল থেকে প্রায়ই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদকসহ বিক্রেতাদের আটক করে আইনী ব্যবস্থা নিয়েছেন। তারপরও চলে এসব ব্যবসা।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, সাবেক লাকী হোটেল বর্তমানে নাম পরিবর্তন করে “যমুনা হোটেল” নাম দিয়েছে। গত সোমবার (৯ ডিসেম্বর) বিকেলে যমুনা হোটেল থেকে পতিতার দালাল ইলিয়াস হাওলাদার, হোটেল ম্যানেজার মো: আল আমিন, যৌনকর্মী মিম আক্তার ও মরিয়ম আক্তার কে আটক করেছেন মহিপুর থানা পুলিশ। এর আগে গত ১ সপ্তাহ আগেও ওই হোটেল থেকে ৬ পতিতাকে আটক করে থানা পুলিশ। তবে যমুনা হোটেলের মালিকের আত্মীয়ের পরিচয়ধারী সাইফুল এবং পতিতা ও মাদকের সম্রাট জাহিদকে পুলিশ ধরতে পারেনি। হোটেলের পিছনের দড়জা দিয়ে এরা দুজন পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। সাইফুল ও জাহিদ কুয়াকাটা এলাকার চিহ্নিত পতিতা ব্যবসায়ী। এদের নেতৃত্বে যমুনা হোটেল থেকে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে নারী ও মাদক পাচার করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
কুয়াকাটা ভূইয়া মার্কেটের সভাপতি মোঃ নিজাম হাওলাদার জানান, যমুনা হোটেলের ভাড়াটিয়া মালিক মোঃ সাইফুল ইসলাম,জাহিদ হোসেন মাদক,পতিতা সহ নানা অসামাজিক কাজের সাথে জড়িত রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী সহ তরুন, যুবকদের মাঝে এসব অসামাজিক কর্মকান্ডের প্রভাব পড়ছে।
অপরদিকে কুয়াকাটা ইলিশ পার্ক সড়কে অবস্থিত আবাসিক হোটেল পাঁচ তারা। হোটেলটির নাম পাঁচ তারা হলেও মানের দিক থেকে নিন্ম মানের একটি আবাসিক হোটেল। ওই হোটেলটিতে জুয়া,মাদক ও পতিতা ব্যবসা করার অভিযোগ রয়েছে। ট্যুরিষ্ট পুলিশ ও থানা পুলিশ এর আগে কয়েকবার জটিকা অভিযান চালিয়েছে। মহিপুর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান সতর্কও করে দেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় মানুষ জানান, পাঁচ তারা হোটেলের রয়েছে একাধিক দালাল। এরা কমিশণে হোটেলে কাষ্টমার জোগার করে দেয়। হোটেলটির মালিক আলীপুর মৎস্য বন্দরের একজন প্রভাবশালী মৎস্য ব্যবসায়ী সেই সুবাদে চট্রগ্রাম,কক্সবাজার,ভোলা এলাকার সমুদ্রে মাছধরা ট্রলারের মালিক,মাঝিরা ওই হোটেলে এসে বোর্ডার সেজে উঠে মাদক,নারী,জুয়ার আসর বসায়। হোটেল কর্তৃপক্ষ সরকার দলীয় জনপ্রতিনিধি প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় এসব অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করতে কেউ সাহস পায় না।
যমুনা ও পাঁচ তারা হোটেল ছাড়াও নিন্ম মানের একাধিক আবাসিক হোটেলে মাদক,পতিতা ব্যবসা করার অভিযোগ রয়েছে। এসব আবাসিক হোটেলের নিরানব্বই ভাগই নির্মাণ করা হয়েছে পরিকল্পণাবিহীন বে-আইনী ভাবে। কুয়াকাটা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কোন অনুমোদণ ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে হোটেল গুলো। দ্বিতীয় শ্রেণীর কতিপয় আবাসিক হোটেলের বিরুদ্ধেও রয়েছে মাদক ও জুয়ার আসর বসানোর বিস্তর অভিযোগ।
কুয়াকাটা আবাসিক হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম এ মোতালেব শরীফ সাংবাদিকদের বলেন, নিন্ম মানের কিছু আবাসিক হোটেলে মাদক,নারী সহ অসামাজিক কাজ চলে বলে তাদের কাছে বিভিন্ন সময় অভিযোগ এসেছে। এসব হোটেল গুলো তাদের এসোসিয়েশণের আওতাভূক্ত না হওয়ায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে পারছেন না তারা। মোতালেব শরীফ আরো বলেন, নিন্ম মানের আবাসিক হোটেল গুলোর মালিক ও কর্মচারীরা গাড়ী থেকে নামার সাথে সাথে পর্যটকদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে ওইসব হোটেল গুলোতে নিয়ে যায়। তবে তিনি দাবী করেন ওনার্স এসোসিয়েশণের অর্ন্তভূক্ত কোন হোটেলে অসামাজিক কাজ চলে না।
মহিপুর থানার ওসি মো: সোহেল আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, অসামাজিক কাজের সাথে যেসব আবাসিক হোটেল জরিত রয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরই মধ্যে যমুনা হোটেলে দুই দফায় অভিযান চালানো হয়েছে। অসামাজিক কাজে লিপ্ত ১০ নারী পুরুষকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

কলাপাড়ায় মাদ্রাসা অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

এস এম আলমগীর হোসেন, কলাপাড়া: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নেছার উদ্দীন সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য সহ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত ৩ ডিসেম্বর মাদ্রাসা অধিদপ্তরের ডিজি বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, খেপুপাড়া নেছার উদ্দীন সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ ও লাইব্রেরিয়ান নিয়োগের জন্য সম্প্রতি একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নভেম্বরের ২৯ তারিখ নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে সেই তারিখ পরিবর্তন করে ৩০ নভেম্বর নির্ধারণ করে নিয়োগ বোর্ড। পরিবর্তিত সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ১০টায় ওই নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ করার কথা ছিল। কিন্তু লিখিত পরীক্ষা শুরু হয় বেলা সোয়া ১১টায়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নিয়োগ পরীক্ষার দিন সকাল ১০টায় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়। এর পর নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তথা স্থানীয় এমপির পূর্ব নির্ধারিত অধ্যক্ষ প্রার্থী নাসির উদ্দিনকে সেই প্রশ্নপত্র দিয়ে উত্তর শেখানো হয়। এতে নির্ধারিত সময়ে লিখিত পরীক্ষা শুরু করা যায়নি। একইভাবে লাইব্রেরিয়ান প্রার্থীকেও প্রশ্ন দিয়ে সহায়তা করা হয়।নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, অধ্যক্ষ নিয়োগে লিখিত পরীক্ষায় ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন উপস্থিত ছিলেন। অন্য দুজনকে ‘ম্যানেজ’ করা হয়। যে ৫ জন উপস্থিত ছিলেন এর মধ্যে তিনজন ছিলেন মো. নাসিরের সমর্থনে এবং লিখিত পরীক্ষায় শুধু নাসির উদ্দিনকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়। নিয়োগ বিধি অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষায় কমপক্ষে তিনজন উত্তীর্ণ হতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে সেই বিধান মানা হয়নি। এরআগে ঘুষের টাকায় বোর্ডের সভাপতি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক জিয়াউল আহসানকে নিয়ে বিমানে ঢাকা থেকে বরিশাল যান। সেখান থেকে কুয়াকাটা যান তারা। নিয়োগ পরীক্ষা ৩০ তারিখ হলেও তারা যান একদিন আগেই অর্থাৎ ২৯ নভেম্বর। নিয়োগ বোর্ডে ইসলামিক ইউনিভার্সিটির পক্ষে প্রতিনিধি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগে প্রফেসর মো. আবদুল্লাহ মারুফ ছিলেন। তবে তার কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল না বলে জানা গেছে। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিদর্শক ড. আবুল কালাম আজাদ। মাদ্রাসার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিবের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ’টাকা লেনদেনের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে লিখিত পরীক্ষায় একজন প্রার্থী উত্তীর্ণ হওয়া এবং এ ক্ষেত্রে আইনি জটিলতার বিষয়টি বোর্ডের দৃষ্টিতে আনার কথাও তিনি স্বীকার করেছেন।’ এদিকে একই দিনে মৌখিক পরীক্ষা, পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, পূর্বনির্ধারিত প্রার্থীকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ, রেজুলেশন এবং পরেরদিন যোগদান দেখানো হয়েছে। এক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী, প্রার্থী তার পূর্বের প্রতিষ্ঠান থেকে রিজাইন করা এবং নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগদানে নিয়োগের অফার পাওয়া এসব নিয়ম কিছুই মানা হয়নি। এছাড়া পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মো. আবদুর রাজ্জাক, মো. জসিমউদ্দিন ও মো. নজির আহমেদ এর আবেদন এবং ব্যাংক ড্রাফট কলাপাড়া সোনালী ব্যাংক হতে করা। তাদের বাড়ি এক একজনের একেক এলাকায় হলেও এই তিন প্রার্থী একইদিন একই ব্যাংকে পর পর ড্রাফট করেন। মো. আবদুস শাকুর নামের এক প্রার্থী লিখিত অভিযোগে বলেন, নিয়োগ বিধিতে আছে, কোনো ব্যক্তি এক প্রতিষ্ঠান হতে অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগদান করার পূর্বে পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠান হতে ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু নাসির উদ্দিন ১/১২/১৯ তারিখ সকাল ১০টায় অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেছেন। পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠান হতে নাসির উদ্দিন ছাড়পত্র গ্রহণ করেননি বলেও অভিযোগ তার। নিয়োগপ্রাপ্ত মাদ্রাসা অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন বলেন, টাকা লেনদেন হয়নি। আর নিয়োগ বৈধভাবেই হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। মাদ্রাসা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. জিয়াউল আহসানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, টাকা লেনদেনের বিষয়টি জানেন না। তবে একজন লিখিত পরীক্ষায় পাস করায় তাকে নিয়োগ দেয়া যায় কিনা এমন প্রশ্নে বলেন, বিষয়টি তিনি এমপির সঙ্গে কথা বলে জেনে জানাবেন। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Leave a Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

ওয়েবসাইট নির্মানে: আইটি হাউজ বাংলাদেশ