পেট্রোবাংলা জানেনা শেভরনের সম্পদ কিনতে যাচ্ছে চীন!

প্রকাশিত: ০১-০৩-২০১৭, সময়: ০৬:২০ |
Share This

শেভরন বাংলাদেশের মালিকানাধীন গ্যাসক্ষেত্রগুলো কেনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে উদ্যোগ নেয়া হলেও এখন পর্যন্ত অগ্রগতি নেই বললেই বলে। এ অবস্থায় শেভরনের সম্পদ কেনার বিষয়ে চীনের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে বলে জানা যায়। তবে এ বিষয়ে পেট্রোবাংলা কিছুই জানে না।
এ বিষয়ে শেভরন বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ব্যবস্থাপক শেখ জাহিদুর রহমান জানান, বাংলাদেশে গ্যাসক্ষেত্রের ব্যাপারে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক আলোচনা হয়েছে। তবে চুক্তির বিষয়ে তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, শেভরনের গ্যাসক্ষেত্রগুলো কেনার ব্যাপারে পেট্রোবাংলাই অগ্রাধিকার পাবে। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি অর্থায়নের বিষয়ে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। এ জন্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি উপদেষ্টা উড ম্যাকেঞ্জিকে নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তারা শেভরনের সম্পদ মূল্য নির্ধারণ ও ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখবে।
এদিকে পেট্রোবাংলার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেভরনকে তাদের সম্পদের বিনিময়ে ১০০ কোটি ডলার দেয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে শেভরন তাদের সম্পদের দাম ধরেছে গড়ে ২০০ কোটি ডলার। তিনি জানান, পেট্রোবাংলা এই সম্পদ কিনতে না পারলে শেভরন অন্য কোম্পানির কাছে তাদের সম্পদ বিক্রি করতে পারবে। নয়তো পেট্রোবাংলার কাছেই তাদের সম্পদ বিক্রি করতে হবে। এ ছাড়া চীনের সঙ্গে কোনো চুক্তি যদি শেভরন করে থাকে সে বিষয়েও পেট্রোবাংলাকে অবহিত করতে হবে। তবে তিনি চুক্তির বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক একটি গণমাধ্যমে জানানো হয়, বাংলাদেশে থাকা শেভরনের সম্পদ ২০০ কোটি ডলারে কেনার বিষয়ে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে সই করেছে শেভরন ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ঝেনহুয়া অয়েল। এ বিষয়ে ঝেনহুয়া অয়েলের মুখপাত্র ঝ্যাং শিয়াওদি জানান, পুরো বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। এটি এখন বাণিজ্যিক আলোচনার মধ্যে আছে। কোম্পানির কৌশলগত কারণে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না। জানা যায়, চীনের প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান নরিনকোর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ঝেনহুয়া।
গত বছর অক্টোবর মাসে হঠাৎ করেই বাংলাদেশ থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার কথা জানায় শেভরন। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় লোকসানে পড়ায় তারা বাংলাদেশসহ ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের সম্পদ বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়।বাংলাদেশে বর্তমানে মোট গ্যাসের অর্ধেকের বেশি শেভরন উত্তোলন ও সরবরাহ করে। উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তি (পিএসসি) করে জালালাবাদ, মৌলভীবাজার ও বিবিয়ানা তিনটি গ্যাসক্ষেত্রে পরিচালনা করছে।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, শেভরনের গ্যাসের উৎপাদন গত দুই বছর কমেছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছর শেভরন প্রায় চার হাজার ৬০০ কোটি টাকার গ্যাস পেট্রোবাংলার কাছে বিক্রি করেছে। যা ২০১৫-১৬ সালে এসে কমে হয়েছে চার হাজার কোটি টাকা। এই তিন গ্যাসক্ষেত্রে এক বছরের ব্যবধানে শেভরনের বিনিয়োগ কমেছে ১৯ শতাংশ। এ তিন ক্ষেত্র ২০১৪ সালে শেভরন খরচ করেছে ৪১ কোটি ২৯ লাখ ডলার। ২০১৫ সালে করেছে ৩৩ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। অন্যদিকে ২০১৩ সালে খরচের পরিমাণ ছিল ৪৮ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। এ হিসেবে দুই বছরে বাংলাদেশে শেভরনের বিনিয়োগ কমেছে ২২ কোটি ৮৯ লাখ ডলার।
এদিকে বর্তমানে বাংলাদেশে শেভরনে দুই হাজার জনবল আছে। এর মধ্যে স্থায়ী, অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক জনবল আছে। গত এক বছরে নতুন করে আর চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নবায়ন করেনি শেভরন। এ ছাড়া ঢাকাসহ গ্যাসক্ষেত্রের কার্যালয়গুলোতে খরচ কমানোর বিষয়ে নানা উদ্যোগ নিয়েছে তারা।

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে