লালমনিরহাটের পাটগ্রামে পানি প্রবাহের নালা বন্ধ : দুর্ভোগে ৫০ পরিবার

প্রকাশিত: ২৭-০৮-২০২১, সময়: ১৩:৩৫ |
Share This

সুমন ইসলাম বাবু,লালমনিরহাট : লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের নবীনগর এলাকায় পানি প্রবাহের রাস্তা; নালা বন্ধ করে দেওয়ায় প্রায় ৭০ বিঘা জমির আমন ধান খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। পঁচন ধরেছে ধান গাছের গোড়ায়। মাথায় হাত; দুঃশ্চিন্তায় পড়েছে ৫০ টি পরিবার। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও দলীয় নেতাদেরকে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পায়নি এলাকাবাসি।
সরেজমিনে ওই ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পানি প্রবাহের নালাটি; রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে প্রায় ৭০ বিঘা জমির ধান খেত, সব্জি খেত, বিভিন্ন গাছের চারার নার্সারী ও চলাচলের সড়ক বৃষ্টির পানি প্রবাহের বাধাপ্রাপ্ত হয়ে প্লাবিত হয়েছে।জানা গেছে, একই এলাকার মৃত মনভোলার ছেলে আবুল হোসেন (৫৫) ২ বছর আগে পানি প্রবাহের রাস্তাটিসহ জমি কিনেন। এক বছর পর জমির মধ্যে পানি প্রবাহের রাস্তাটি মাটি ভরাট করে বন্ধ করে দেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পানি প্রবাহের জমিটির বিনিময়ে নিকটবর্তী জমি কিনে দিতে চাইলেও তিনি রাজি হননি।
বাউরা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড নবীনগর এলাকার দুলালী বেগম (২৬) বলেন, ‘পানি যাওয়ার জায়গা বন্ধ করায় আমাদের বাড়ির ঘর গুলোতে পানি উঠেছে। আমার শ্বশুর চারদিকে মাটি দিয়ে আইল (বাধ) করে দিয়েছে। ছোট সন্তান নিয়ে সমস্যায় আছি। গরীব মানুষের প্রতি এত অন্যায়- অত্যাচার কিভাবে সহ্য করা যায়।’
গ্রীন চন্দ্র (৫০) বলেন, ‘লাগানো আমন খেত তলিয়ে গেছে। দুঃশ্চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারি না। এক সপ্তাহের মধ্যে পানি নিস্কাশন না করলে ধান খেত নষ্ট হবে।’
একই এলাকার ইদ্রিস আলী (৪৫) বলেন, ‘ধান খেত নষ্টের পথে। সন্তান- সন্তদি নিয়ে পথে বসতে হবে। কেউ আমাদের কথা শোনে না।’
একই এলাকার মমিনুর রহমান (৪৬) বলেন, ‘প্রায় ৪৫ শতাংশ জমিতে গড়ে তোলা নার্সারীতে মেহগনি, আম, জাম, পেয়ারা, মাল্টাসহ ফলজ, বনজ গাছের চারা রয়েছে নার্সারীতে। জিদ করে আবুল হোসেন পানি যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছি। বিভিন্ন জনের নিকট গিয়েও কাজ হচ্ছে না।’
বাউরা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আনারুল ইসলাম বলেন, ‘আবুল হোসেনকে অনেকবার বললেও তিনি শোনেন নি। জমি কিনে দিতে চাইলেও তিনি রাজি হন নি। উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউএনও কে জানানো হয়েছে। ব্যাপক ক্ষতির মুখে প্রায় ৫০ টি পরিবার।’
এ বিষয়ে আবুল হোসেন (৫৫) বলেন, ‘আমার কেনা জমিতে বাঁধ দিয়েছি। অন্যের জমিতে তো দেইনি। এ ব্যাপারে বাউরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনিছুর রহমান মিঠু ভালো জানেন।’
পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাইফুর রহমান বলেন, ‘মৌখিকভাবে আমাকে জানানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতিকে বলেছি। দেখি দ্রæত খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে