একটি ব্রিজ বদলে দিতে পারে চরকিশোরগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৮-০২-২০১৭, সময়: ১৮:৫৭ |
Share This

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার চরকিশোরগঞ্জ গ্রামের ১০ হাজার জনগোষ্ঠীর সরাসরি যোগাযোগে বড় বাধা কালিদাস নদী। গ্রামের উত্তরে ধলেশ্বরী নদী। কিন্তু মাঝপথে কালিদাস নদী চরকিশোরগঞ্জ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। গ্রামবাসীর এ নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি আনেক বছরের। স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও গ্রামের মানুষের দাবি কেউ পূরণ করেননি। বিগত নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মেয়র প্রার্থীরা শুধু প্রতিশ্রুতিই দিয়েছেন। কিন্তু কেউ বাস্তবায়ন করেননি।
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের চরকিশোরগঞ্জ গ্রামের জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদা অপূরণই রয়ে গেছে। শহরে আসার জন্য গ্রামের নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থীকে নৌকায় যাতায়াত করতে হয়। প্রথম শ্রেণির কোনো পৌরসভায় এমন দুর্দশা নিয়ে বসবাসকারী  মানুষের চিত্র অকল্পনীয়। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রোগী, শিক্ষার্থী ও নারী-পুরুষদের নৌকায় পারাপার হয়ে শহরমুখী হতে হয়। এ গ্রামের অধিকাংশ পরিবারই কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় তাদের উৎপাদিত শাকসবজি বাজারে আনতেও বেশ বেগ পেতে হয়। রাতে এলাকার কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে সঠিক সময়ে হাসপাতালে আনা কষ্টকর হয়ে পড়ে। সময় বেশি লাগার কারণে অনেক রোগীর অকাল মৃত্যুও ঘটে। শুষ্ক মৌসুমে কালিদাস নদী পানিশূন্য হয়ে পড়ে। কিন্তু বর্ষা এলেই নদীটি যৌবন ফিরে পানির পরিমাণ বেড়ে যায়।
এ গ্রামটিতে একটিমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। ওই বিদ্যালয়ে ৮ জন শিক্ষক শহর থেকে নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন। মাধ্যমিক ও কলেজ এবং কিন্ডারগার্টেন পড়ুয়া শিশু শিক্ষার্থীদের শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসে পড়াশোনা করতে হয়। নৌকা দিয়ে পারাপারের সময় তাদের প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে।  চরকিশোরগঞ্জ গ্রামবাসীর গ্যাস সুবিধাসহ কোনো পৌর নাগরিক সুবিধা নেই বললেই চলে।
গ্রামবাসীরা জানালেন, ধলেশ্বরীর শাখা নদী কালিদাস নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ হলে শহরের সঙ্গে তাদের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হবে। তবে স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও তাদের সেতুর দাবিটি কোনো সরকারের আমলেই বাস্তবায়ন হয়নি।মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও চরকিশোরগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা
সুলতান বেপারী জানালেন, কালিদাস সাগর নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি দীর্ঘ বছর ধরে তারা করে আসছেন। পৌরসভার চেয়ারম্যান-মেয়র ও কাউন্সিলরা কোনো সময়ই তাদের এ সমস্যার সমাধান দেননি। এলাকার কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে সময়মতো নৌকা না পাওয়া যায় ও নৌকায় যাতায়াতে বেশি সময় লাগায় সুচিকিৎসা সময়মতো দেয়া যায় না। এতে করে হাসপাতালে নেয়ার আগেই অনেক সময় রোগী মারা যায়।
চরকিশোরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফারজানা আশ্রাফী জানান,বছরে ২৫০ দিন তাদের স্কুলে যেতে হয়। খুব কাছে লোকেশন হওয়া সত্ত্বেও বাড়ি থেকে ৩০ মিনিট বেশি সময় নিয়ে স্কুলে রওনা দিতে হয়।
চরকিশোরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সবিতা রানি দাস জানান, চরকিশোরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮ জন শিক্ষকই ওপার অর্থাৎ শহর থেকে আসেন। নৌকায় পারাপার হতে গিয়ে তিনি ২ দিন নৌকা থেকে পড়ে আহত হয়েছেন।
চরকিশোরগঞ্জবাসী সব ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত দাবি করে মুন্সীগঞ্জ  পৌরসভার মেয়র হাজী মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লব বলেন, সেতু নির্মাণ করা-তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। ব্রিজটি নির্মাণের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস জানালেন, পৌরসভা ব্রিজটি নির্মাণের সহযোগিতা চাইলে, নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে সুবিধা হবে। পৌরসভার মধ্যে কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে গেলে সেখানকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সায় না থাকলে অনেকটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় বলে তিনি জানান।যুগান্তর

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে