কুষ্টিয়ায় সালিশ বৈঠকে ছুরিকাঘাতে বৃদ্ধ খুন

প্রকাশিত: ২০-০৮-২০২১, সময়: ১৪:০০ |
Share This

মুকুল খসরু, কুষ্টিয়া থেকে : কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সালিশ বৈঠক চলাকালীন সময়ে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে মোক্তার প্রামাণিক (৭০) নামের এক বৃদ্ধকে হত্যা করা হয়েছে। এসময় নিহতের চাচাতো ভাই হোসেন আলী মাষ্টার নামের আরো একজন আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি বুধবার (১৮ আগষ্ট) রাত ৯ টার দিকে উপজেলার চর সাদিপুর ইউনিয়নের ঘোষপুর হঠাৎপাড়া তজিরুননেছা জামে মসজিদ এলাকায় ঘটেছে। আহত হোসেন আলী মাষ্টারকে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা দুজনই হঠাৎপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরের দিকে তজিরুননেছা জামে মসজিদ এলাকার হেলাল উদ্দিনের প্রতিবন্ধী স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করেন নিহতের বোন জামায়। এ নিয়ে দুপুরে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে সন্ধ্যায় সালিশী বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
এরপর সন্ধ্যায় হেলালের বাড়িতে সালিশ বসানো হয়। মোক্তার প্রামাণিক ৮-১০ জনকে সঙ্গে নিয়ে বৈঠকে হাজির হয়। কিন্তু অভিযুক্ত বোন জামায় সালিশ বৈঠকে উপস্থিত না থাকায় হেলালের লোকজন তাঁদের উপর হামলা চালায়। এ সময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে মোক্তার প্রামাণিক ও তার চাচাতো ভাই হোসেন আলী মাস্টার গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোক্তার প্রামাণিককে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে আহত হোসেন আলী মাষ্টারের ছেলে সাখাওয়াত মুঠোফোনে জানান, আমার চাচাতো ফুফা এক মহিলার ঘরে প্রবেশ করেছিলেন। এ নিয়ে সন্ধ্যায় হেলালের বাড়িতে সালিশ বৈঠক চলাকালে আমার ফুফাকে হাজির না করায় ওরা হামলা চালায়। এ সময় আমার চাচা মোক্তার প্রামাণিক ও বাবা হোসেন আলী মাষ্টার ছুরিকাঘাতে আহত হন। দুজনকে উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চাচাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাবা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চর সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জেল হোসেন জানান, মেয়েলি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠক চলাকালে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, সালিশ বৈঠক চলাকালে ছুরিকাঘাতে একজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে তদন্ত শুরু করেছে।

কুষ্টিয়ায় করোনা উপসর্গ নিয়ে ৩ জনের মৃত্যু

মুকুল খসরু, কুষ্টিয়া থেকে : কুষ্টিয়ায় করোনা উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যাও ছিল ৪ জন। তবে এ সময় করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোন রোগী মৃত্যুবরণ করেনি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত চার মাসে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্ত হয়ে একজনও মারা না যাওয়ার এটিই প্রথম ঘটনা। বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো: মেজবাউল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর পাশাপাশি রোগী ভর্তির চাপও আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার বেলা ১০ টা পর্যন্ত ১৫৯ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাই ১১৯ জন। আর উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন আরো ৪০ জন।
এদিকে কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩২৬ টি নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে নতুন করে ৭৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৩১ ভাগ।
জেলায় এ পর্যন্ত মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা হচ্ছে ১৬ হাজার ৯৭৭ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৪ হাজার ১৯৯ জন। এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে জেলায় মারা গেছেন ৬৮৯ জন। নতুন করে শনাক্ত হওয়া ৭৬ জনের মধ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ২৭ জন, কুমারখালী উপজেলায় ১২ জন, দৌলতপুর উপজেলায় ৬ জন. ভেড়ামারা উপজেলায় ২ জন, মিরপুর উপজেলায় ২০ জন এবং খোকসা উপজেলায় ৯ জন। এখন পর্যন্ত জেলায় হাজার ৯৫ হাজার ৩৯৭ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে ৯০ হাজার ৯৪ জনের। বাকিরা নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। বর্তমানে কুষ্টিয়ায় সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ১৬৫ জন। এদের মধ্যে হাসপাতালে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ১৭১ জন। হোম আইসোলেশনে রয়েছেন ১ হাজার ৯৯৪ জন।

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে