জবি’র শিক্ষকের পিএইচডি জালিয়াতি

প্রকাশিত: ২৮-০২-২০১৭, সময়: ১৮:৩২ |
Share This

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) নিয়ম ভেঙে তিন বছর মেয়াদি পিএইচডি ডিগ্রি দুই বছরে শেষ করার অভিযোগ উঠেছে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে। শুধু তা-ই নয়, পিএইচডিতে ভর্তির যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ভর্তি হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক মোস্তফা কামাল জবির সহকারী প্রক্টরের দায়িত্বও পালন করছেন। তার পিএইচডি জালিয়াতি নিয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, মোস্তফা কামাল ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। ১৯৯৮-৯৯ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে তিনি ২য় শ্রেণিতে ৫১তম স্থান অধিকার করেন। এ ছাড়া তার ব্যাচের ৯০ শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনি ৭৯তম হয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা না থাকলেও মোস্তফা কামাল জবির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে সরাসরি সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পান। ওই পদে নিয়োগ পেতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপক্ষে ৩ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ থাকলেও তার অভিজ্ঞতা ছিল ১ বছর ৯ মাস। তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার উল্লেখ করেছিলেন।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি নীতিমালা ২-এর (২) উপধারায় বলা হয়েছে, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বিভাগের জন্য পিএইচডি করতে হলে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে। আর গ্রেডিং পদ্ধতিতে ন্যূনতম ৩ দশমিক ২৫ সিজিপিএ থাকতে হবে। কিন্তু ওই শিক্ষকের প্রাপ্ত নম্বর ৪৬ শতাংশ। অথচ তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নিয়ম ভেঙে পিএইচডিতে ভর্তি হয়েছিলেন। পিএইচডির রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত ৪ নম্বর ধারার (বি) নং উপধারায় বলা হয়েছে, রেজিস্ট্রেশনের তারিখ থেকে ৩ বছরের আগে পিএইচডি থিসিসি জমা দেওয়া যাবে না। অথচ তিনি ২ বছরেই তার থিসিস জমা দিয়েছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯তম সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মোস্তফা কামাল পিএইচডি ডিগ্রিতে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন। ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর পিএইচডি গবেষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। আর ডিগ্রি লাভ করেন গত ১১ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯তম একাডেমিক কাউন্সিল মিটিংয়ে। ‘বিভিন্ন ধর্মে নারীর অধিকার : পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণার জন্য তার পিএইচডি ডিগ্রি অনুমোদন দেওয়া হয়। ১৫ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩তম সিন্ডিকেট মিটিংয়ে তা চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। গত ২২ জানুয়ারি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেট মিটিং উভয় ক্ষেত্রেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান নিজ ক্ষমতা প্রয়োগ করে আগের নিয়ম শিথিল করে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া মোস্তফা কামালের পিএইচডি ডিগ্রি অনুমোদন দেন।

অবশ্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান মুঠোফোনে আমাদের সময়কে জানিয়েছেন, মোস্তফা কামালের পিএচডি ডিগ্রি প্রদানে বিভাগীয় কোনো শিক্ষক বা সিন্ডিকেটের কোনো সদস্য লিখিত অভিযোগ করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পছন্দের একজন শিক্ষককে অবৈধ সুযোগ দিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি যে অনৈতিক প্রভাব খাটিয়েছেন তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ভিসি পরিবর্তন হলেই ওই পিএইচডি ডিগ্রি বাতিল হবে বলে মনে করেন তারা। এক্ষেত্রে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নজিরও আছে বলে জানান তারা।

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে