শার্শায় মেয়েকে বিষ খাইয়ে মায়ের আত্মহত্যা

প্রকাশিত: ১৮-০৮-২০২১, সময়: ১১:০৬ |
Share This

যশোর প্রতিনিধিঃ যশোর শার্শা উপজেলার ল²ণপুর ইউনিয়নের শুড়ারঘোপ গ্রামে মায়ের ওপর অভিমান করে নিজ মেয়েকে বিষ খাইয়ে হত্যা করে পরে নিজেও আত্মহত্যা করেছেন সুমি খাতুন (৩০) নামে এক নারী। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) রাত দশটার দিকে।সুমি খাতুন (৩০) ওই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে। তার ছয় বছর বয়সী মেয়ের নাম আঁখিমনি। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।প্রতিবেশীরা জানান, প্রায় তিন বছর আগে বিবাহ বিচ্ছেদের পর সুমি খাতুন তার মেয়ে আঁখিমনিকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন। এ নিয়ে সুমির মায়ের সঙ্গে প্রায়ই কথাকাটাকাটি হতো। মঙ্গলবার মা তাকে বকাঝকা করেন। এতে মা-মেয়ের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। এর জেরে মেয়েকে বিষ খাইয়ে হত্যা করে নিজেও একই পথ বেছে নেন সুমি।ল²ণপুর ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোমিনুল হোসেন জানান, সংসারে ঝামেলার কারণে বিচ্ছেদ হয় সুমির। তারপর থেকে মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন সুমি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মায়ের সাথে পারিবারিক বিষয়ে তার কথাকাটাকাটি হয়। এরপর রাত আটটার দিকে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সুমি খাতুন প্রথমে মেয়েকে বিষপান করান। এরপর নিজেও বিষপান করেন। খবর পেয়ে তার পরিবার ও এলাকার লোকজন তাদের উদ্ধার করে প্রথমে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু যশোর জেনারেল হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক আঁখিমনি (৬) মারা গেছে বলে জানান। ডাক্তার সুমি খাতুনকে হাসপাতালে ভর্তি করে নেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত নয়টার দিকে সুমি খাতুন মারা যান।মরদেহ দুটি যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে আছে বলে জানান মেম্বার মোমিনুল।শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম খান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।আপনার মাধ্যমে শুনলাম। আমি এখনই খোঁজ নিচ্ছি।

কেশবপুরের মেয়রের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা
যশোর প্রতিনিধিঃযশোর কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মঙ্গলবার আদালতে মামলা হয়েছে। কেশবপুর উপজেলার ব্রহ্মকাটি গ্রামের খন্দকার রফিকুজ্জামানের ছেলে খন্দকার মফিদুল ইসলাম মামলাটি করেছেন।সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক গৌতম মল্লিক অভিযোগটি আমলে নিয়েছেন। একইসাথে বিচারক অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আদেশ দিয়েছেন।মেয়র রফিকুল ইসলাম ছাড়া মামলার অন্য দুই আসামি হলেন, কেশবপুর উপজেলার বালিয়াডাাঙ্গা গ্রামের নুর আলী খাঁর ছেলে মফিজুর রহমান খাঁ ও কান্তা বাড়ইহাটি গ্রামের আবুবকর সিদ্দিকের ছেলে আলমগীর সিদ্দিক।মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, খন্দকার মফিদুল ইসলাম ‘মিশাল ক্যাবল নেটওয়ার্ক অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক। তিনি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে উপজেলার ব্রহ্মকাটি, বালিয়াডাঙ্গা ও রামচন্দ্রপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে সুনামের সাথে ডিশ ব্যবসা করে আসছেন।চলতি বছরের প্রথম দিকে পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম অপর দুই আসামিকে তার কাছে পাঠিয়ে মোটা টাকা চাঁদা দাবি করেন। ফলে তিনি শান্তিতে ব্যবসার লক্ষ্যে বাধ্য হয়ে আসামি মফিজুর ও আলমগীরকে এক লাখ টাকা চাঁদা দেন। কিন্তু এরপর তিনি তাদের আর কোনো চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করেন।এ ঘটনার পর গত ১৫ জুন তাকে পুরনো বাসস্ট্যান্ডে পেয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন আসামিরা। ৩০ জুলাই আসামিরা দলবল নিয়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে তাকে মারপিট করেন। এ সময় তার কাছে দশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদার টাকা না দিলে তাকে খুন-জখমেরও হুমকি দেওয়া হয়। এরই মধ্যে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা সেখান থেকে চলে যান। কিন্তু এব্যাপারে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। এ কারণে তিনি আদালতে মামলা করেছেন

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে