পিয়াসা-মিশুর অবৈধ অস্ত্রের উৎস সন্ধানে সিআইডি

প্রকাশিত: ১৭-০৮-২০২১, সময়: ১৯:০৭ |
Share This

ডেস্ক রিপোর্ট : কথিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার কাছে থাকা ভয়ংকর সেই অস্ত্রের উৎস খুঁজছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে কথিত মডেল পিয়াসার হাতে দেখা গেছে ভয়ংকর একটি বন্দুক। এ ছবি অনেকটা ভাবিয়ে তুলেছে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের। ওই অস্ত্র পিয়াসার নয় বলে রিমান্ডে থাকাবস্থায় তিনি সিআইডিতে দাবি করেছেন। রিমান্ডে সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেফতারদের কাছ থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য সম্পর্কে জানাতে আগামী সপ্তাহে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে। এদিকে রাজধানীর ভাটারা থানায় অস্ত্র আইনে করা মামলায় গতকাল মিশু হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে অস্ত্রসহ পিয়াসার ছবি সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। ওই অস্ত্রের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তাকে করা হয়। এর আগে সোমবার মিশুর ৯ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে ফের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। এ ছাড়া চার মামলায় ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আজ আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। একই দিন পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় চার দিনের রিমান্ডে থাকা প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ ও তার সহযোগী সবুজ আলীকে আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছে সিআইডি সূত্র। এ ছাড়া ভাটারা থানার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিয়াসাকে আবারও পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। এ আবেদনের ওপর আজ আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে পিয়াসার বিষয়ে তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, তারা ভাইরাল হওয়া ছবিটা দেখছেন। এ ছাড়া পিয়াসার কাছ থেকে পাওয়া তার মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে আরও কিছু ভিডিও এবং ছবি উদ্ধার করেছেন। এ ছাড়া অজ্ঞাত স্থানে মিশু ও জিসানের অস্ত্র প্রশিক্ষণেরও একটি ভিডিও নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন অস্ত্রের ডিলার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অস্ত্র নিবন্ধন সংশ্লিষ্ট দফতরেও তথ্য চাওয়া হয়েছে। রিমান্ডে থাকাকালীন পিয়াসা জানিয়েছেন, ওই অস্ত্র তার না। তবে অস্ত্রটি যার সেই ব্যক্তি তার বন্ধু। তার কাছ থেকে নিয়ে তিনি ছবি তুলেছিলেন। ওই ব্যক্তির নামও পিয়াসা তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে বলেছেন। ওই ব্যক্তির নামে অস্ত্রের কোনো লাইসেন্স রয়েছে কি না এবং দেশের কোনো অস্ত্র আমদানিকারকের কাছ থেকে কেনা হয়েছে কি না, সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখছে সিআইডির কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে বৈধ অস্ত্রের অবৈধ কোনো ব্যবহার হয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পিয়াসা স্বীকার করেছেন অস্ত্রটি অন্যের, কিন্তু অন্যের লাইসেন্স করা অস্ত্র নিজের কাছে রাখাতেও অভিযুক্ত হতে পারেন তিনি। কারণ যার নামে অস্ত্রের লাইসেন্স, তার কাছে না থেকে অন্যের হাতে থাকলেই সেটিকে অবৈধ ব্যবহারের অভিযোগে আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত করা যায়।
সিআইডি সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে চিত্রনায়িকা পরীমণি, ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরসহ সাতজনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) মাধ্যমে চাওয়া হয়েছে। কিছু তথ্য এসেছে, বাকিগুলো আসতে সপ্তাহখানেক সময় লাগতে পারে। ওই সাতজনের মধ্যে কথিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌ এবং প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজও রয়েছেন। বাকি দুজন হলেন সালেহ চৌধুরী ওরফে কার্লোস ও মিশু হাসান। এসব তথ্য নিয়ে যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে যে আসামিদের বৈধ উপায়ে উপার্জিত সম্পদের পরিমাণ। এ ছাড়া অবৈধ সম্পদের তথ্য রয়েছে।

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে