মেডিকেলে সুযোগ পাওয়া অদম্য মেধাবী লিটনের পাশে দাঁড়ালেন ডিসি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান

স্বপন বিশ্বাস মাগুরা প্রতিনিধি : দারিদ্রকে হার মানিয়ে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে এ বছর মেডেকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া মাগুরার শ্রীরামপুর গ্রামের অদম্য মেধাবী মো ঃ লিটন হোসেনের পাশে দাঁড়ালেন মাগুরা জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। রবিবার দুপুরে প্রাথমিক খরচ হিসেবে লিটনের হাতে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা তুলে দেন তারা। লিটন মাগুরা সদরের শ্রীরামপুর গ্রামের হতদরিদ্র সিরাজুল ইসলাম ও আলেয়া বেগমের ছেলে। ৫ বছর আগে গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন লিটনের কৃষক পিতা সিরাজুল ইসলাম। পরিবারের বড় ভাই এর সামান্য কৃষি কাজে সংসর চলে না। মা আলেয়া বেগম লোকের কাছে চেয়ে চিন্তে কষ্টেসৃষ্টে ছেলের লেখাপড়া চালিয়ে যান। এ সময় লিটনের মেধার পরিচয় পান সদরের হাজিপুর ইউনিয়নের শ্রীমন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুর। জনাব সবুর মেধাবী লিটনের লেখাপড়ার ভার নেন। তাঁর প্রচেষ্টা ও এলাকার শিক্ষানুরাগী মানুষদের সহায়তায় লিটন পার্শ্ববর্তী হাটগোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ ৫ ও ঝিনাইদহ কেসি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৯২ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। অধ্যবসায়ী লিটন এর অধ্যবসায় আর মেধার গুনে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু মেডিকেলে পড়ার খরচ চালানো তার জন্যে কষ্টকর হওয়ায় লিটন ও তার মা মাগুরার জেলা প্রশাসক আলী আকবর ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পংকজ কুন্ডুর স্মরণাপন্ন হন। তারা দুজনে তাকে প্রাথমিকভাবে ভর্তি ও আনুষাঙ্গিক খরচ বহনের জন্য ২০হাজার টাকা প্রদান করেন। এছাড়া মোরাল প্যারেন্টিং নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লিটনের লেখাপড়ার আংশিক খচর বহনের জন্য সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। লিটন এর মা আলেয়া বেগম বলেন- আমার ছেলে অত্যন্ত মেধাবী ও লেখাপড়ার প্রতি মনযোগী। মেডিকেলে ভর্তির জন্য সুযোগ পাওয়ার খবর শুনে পারিবারিক অনটনের কারণে ওর লেখাপড়া নিয়ে শংকায় ছিলাম। আজ ডিসি সাহেব, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাহেব আমাদের পাশে দাঁড়ালেন। আমরা চিরদিন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবো। লিটনের শিক্ষক আব্দুস সবুর বলেন- লেখাপড়ায় লিটনের মেধার পরিচয় পেয়ে আমরা তাকে সর্বতো সহায়তা দিয়েছি। এখন সে মেডিকেলে পড়েবে। টাকার অভাবে তার লেখাপড়া যেন বাধাগ্রস্থ না হয় সবাই সেদিকে নজর রাখবেন। মাগুরার জেলা প্রশাসক আলী আকবর জানান- লিটনের মত অদম্য মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য জেলা প্রশাসনের দ্বার সব সময় উন্মুক্ত । টাকার অভাবে তার লেখাপড়া যেন বিঘিœত না হয় সেদিকে আমরা সব সময় খেয়াল রাখছি। মাগুরা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা পংকজ কুন্ডু জানান- জননেত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার হিসেবে উন্নত আগামী গঠনে বর্তমান মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে শিক্ষা সহায়তা দেয়া হচ্ছে। গরীব ও মেধাবী লিটন হোসেনের পাশে থাকতে পেরে আমরা গর্বিত। সে যেন একজন ভাল ডাক্তার হতে পারে সেই দোয়া করি। লিটন হোসেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন- পরিবারিক অনটনের কারণে অনেক সময় দুবেলা খেতেও পরিনি। কিন্তু লেখাপড়া কখনো ছেড়ে দিইনি। আর একাজে আমাকে সকল পর্যায়ের শিক্ষকবৃন্দ ও সমাজের দানশীল মানুষ যেভাবে সহযোগিতা করেছেন তাতে আমি ও আমার পরিবার কৃতজ্ঞ। সবাই দোয়া করবেন আমি যেন একজন ভাল চিকিৎসক হয়ে গরীব দুখি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারি।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Leave a Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

ওয়েবসাইট নির্মানে: আইটি হাউজ বাংলাদেশ