হঠাৎ চাঙা কূটনীতিকপাড়া

প্রকাশিত: ২৮-০২-২০১৭, সময়: ১৪:৩৯ |
Share This

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফর ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন দেশের রাষ্টদূতের সাথে বৈঠককে কেন্দ্র করে আবারো সরগরম হয়ে উঠেছে কূটনীতিকপাড়া। হঠাৎ করে বিএনপির সাথে বিভিন্ন দেশের রাষ্টদূতের বৈঠক কী বার্তা বহন করছে? তাছাড়া হঠাৎ করে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কূটনৈতিকরা এমন তৎপর কেন? এমন জল্পনা-কল্পনা এখন সর্বত্র।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরকে দুই দেশের মধ্যে কি কি চুক্তি হতে পাড়ে এ বিষয় নিয়েও জোর আলোচনা চলছে কূটনীতিকপাড়ায়।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলেছে কূটনৈতিক মহলে। সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন করার বিষয়ে তৎপর সবাই। গত ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন যেন না হয় সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করছেন। বিএনপির সাথে যেমন আলোচনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব রাজনৈতিক দলের সাথেই আলোচনা হবে। রাজনৈতিক অঙ্গনে সুষ্ঠু ধারা ফিরিয়ে আনতে এই আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলেও সূত্রে জানা গেছে।

কূটনীতিবিদরা বলছেন, গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক দলের সাথে যে কোনো দেশের রাষ্টদূতের বৈঠক স্বাভাবিক ঘটনা। বর্তমান দেশের রাজনৈতিক অবস্থা কী এ বিষয়টি জানতেই মূলত তারা রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা শুরু করেছে। তবে তাদের উচিত সব দলের সাথে আলোচনা করা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘রাষ্টদূতদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা স্বাভাবিক ঘটনা। পৃথিবীর সব দেশেই এমন প্রচলন আছে। তারা হয়তো জানতে চাচ্ছে বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতির কী অবস্থা। তাদের তো রিপোর্ট  লিখতে হয়। সেটা আবার তাদের দেশে পাঠাতে হয়। তারা যে দেশ থেকে বাংলাদেশে এসেছে সেই দেশের কাছে তাদেরতো জবাবদিহিতার বিষয় আছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারি দল, বিরোধী দল বা অন্য যে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে তারা একটা ধারণা করে দেশের কি অবস্থা। দেশের রাজনীতির কী অবস্থা। কিংবা উভয় রাজনৈতিক দল কি ভাবছে?’

তিনি আরো বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আর বেশি দেরি নেই। তাইতো সব রাজনৈতিক দলের মনভাব তারা জনতে চাচ্ছে। বাংলাদেশে কীভাবে নির্বাচন হবে সেটা তারা সেই অর্থে বলতে পারে না। যে কোন বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারে। মূলত তারা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের কী অবস্থা সেটা বোঝার জন্যই বৈঠক করছে। তবে সবার সাথে আলোচনা করা একটা ভালো দিক। আলোচনা করলে অনেক জটিল বিষয়েরও সমাধান বের হয়।’

এদিকে, রাষ্টদূতদের সাথে বৈঠকের পর বিএনপির পক্ষ থেকে অনানুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী নির্বাচন নিয়েই মূলত আলোচনা হয়। তাছাড়াও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার না হলে আগামীতে ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি একতরফা নির্বাচন হতে পারে দলের এমন আশংকার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

প্রসঙ্গত, গতকাল সোমবার বিকাল ৫টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদন।

এর আগে গত বুধবার খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে গিয়ে তার সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট।

যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতায় পালাবদলের পর বুধবারের এই বৈঠকই ছিল বার্নিকাটের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রথম বৈঠক।

বৈঠকের পর বার্নিকাট সাংবাদিকদের বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার অংশ হিসেবেই আমার এই বৈঠক।

তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দেখা করা এবং চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুধাবন করা একজন রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমার দায়িত্ব। এরই ধারাবাহিকতায় আমি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেছি। সম্প্রতি আমি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে দেখা করেছি। ভবিষ্যতে অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সাথেও আমি আলোচনা অব্যাহত রাখব।পরিবর্তন

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে