চা বাগানের বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: ২৮-০২-২০১৭, সময়: ০৮:০৫ |
Share This

তানজিল নাফি

পূর্ণ্যভূমি সিলেটের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার বৃহৎ সূতিকাগার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্টান যেখানে গড়ে ওঠেছে একটি স্বতন্ত্রধর্মী চা বাগান।২০১৩ সালে সরকারের একটি প্রজেক্টের আওতায় ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টি টেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.ইফতেখার আহমেদের নিরলস প্রচেষ্টায় যাত্রা শুরু হয় বাগানটির।সেদিনের তিনশ চারা গাছ আজ বড় হয়েছে।এ গাছ গুলো থেকে নিয়মিত পাতা সংগ্রহের মাধ্যমে বিভাগীয় ল্যাবে তৈরি হচ্ছে চা।বিভিন্ন গবেষণার কাজে ব্যপকমাত্রায় ব্যবহৃত হচ্ছে এই বাগানের সতেজ পাতা।যা পরবর্তীতে দেশের চা শিল্প উন্নয়নে ব্যপক ভূমিকা পালন করছে।গবেষণা কিংবা শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরেও বাগানটি হয়ে উঠেছে অবসর কাটানোর অন্যতম মাধ্যম।হাতের কাছে চা বাগান থাকলে কেইবা তার সৌন্দর্য সুধা থেকে বঞ্চিত হতে চায়? প্রতিদিন বিকালবেলা চা বাগানের পাশে আড্ডায় শামিল হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।অনেক ভ্রমণপিপাসুরাও ছুটে আসেন ক্যাম্পাসের ভিতরের এই ব্যতিক্রমধর্মী সবুজের সমারোহ দেখতে।এমনই একজন পর্যটক তানভীর হায়দার এসেছেন ঢাকা থেকে।প্রতিবেদকের কাছে জানাচ্ছিলেন তার অনুভূতির কথা।বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল এলাকার মধ্যেই এমন চা বাগান দেখে তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন ‘আমি ইউরোপ এমেরিকার অনেক জায়গায় গিয়েছি কিন্তু এমন গোছালো এবং পরিপূর্ণ গবেষণাধর্মী চা বাগান কোথাও দেখিনি।বাংলাদেশে এমন শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির জন্য উদ্যেক্তাকে সাধুবাদ জানাই।’ তবে ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা অনেক দর্শনার্থীই চা বাগানের অবস্থান সম্পর্কে অবগত না থাকায় পরিকল্পিত এই চমৎকার সবুজের ০.০১৬ ভূখন্ড দেখার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।এক্ষেত্রে দিক নির্দেশক কোন চিহ্ন না থাকাটাও দায়ী অনেকাংশে।এই বাগানটি থেকে বছরে প্রায় ৩০০ কেজি চা উৎপন্ন হচ্ছে বলে জানান বাগানটির স্বপ্নদ্রষ্টা বাংলাদেশের প্রথিতযশা উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ড.ইফতেখার আহমদ।তিনি ভবিষ্যতে বাগানটি সম্প্রসারনের কথাও জানান।

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে