‘পপসম্রাট’ আজম খানের জন্মদিন আজ

প্রকাশিত: ২৮-০২-২০১৭, সময়: ০৬:১৭ |
খবর > বিনোদন
Share This

‘পপসম্রাট’ বা ‘পপগুরু’ খ্যাত বাংলা সঙ্গীতের সম্রাট আজম খানের জন্মদিন আজ। ১৯৫০ সালের এই দিনটিতে ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পুরো নাম মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান। বাবা আফতাব উদ্দিন খান ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী। মা জোবেদা বেগম সংগীতশিল্পী।

মায়ের অনুপ্রেরণায় শৈশব থেকেই সংগীতে নিয়মিত চর্চা। ১৯৬৬ সালে তিনি সিদ্ধেশ্বরী হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৬৮ সালে টিঅ্যান্ডটি মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাস করেন। ষাটের দশকে পশ্চিমা ধাঁচের পপ গানে দেশজ বিষয়ের সংযোজন ও পরিবেশনার স্বতন্ত্র রীতিতে বাংলা গানে নতুন মাত্রা যোগ করেছিলেন আজম খান।

শ্রোতাদের কাছে তখন এ ধরনের গান ছিল একেবারেই নতুন। এই নতুন ধারার গানের পথিকৃৎ হিসেবে তিনি শ্রোতাদের কাছে ‘পপ সম্রাট’ বা ‘পপ গুরু’ হিসেবে সম্মানিত হন। আজম খানের মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছিল সংগীতের ভিন্নধারা। দেশীয় পপগানের আকাশে এনেছিলেন নতুন সূর্যোদয়।

অপরাজেয় এক মুক্তিযোদ্ধা আজম খান। অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য। জীবন বাজি রেখে ছিনিয়ে এনেছিলেন বিজয়। যুদ্ধোত্তর দেশে সূচনা করেছিলেন আরেক সংগ্রামের। সে সংগ্রাম নতুন ধারার সংগীত সৃষ্টির। সংস্কৃতির অচলায়নে তুমুল আলোড়ন তুলে স্বাধীন দেশে পাশ্চাত্য সংগীতের ধারার সংগীত রচনা ও পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তারুণ্যের দুর্দমনীয় বাঁধভাঙা স্পন্দন বইয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

বাংলাদেশের পপসংগীতের পথিকৃৎ হিসেবে তার গান ঠাঁই করে নেয় দেশের সংগীতপ্রিয় কোটি শ্রোতার হৃদয়ে। উল্লেখ্য, এক বছর ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে ২০১১ সালের ৫ জুন ৬১ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জনপ্রিয় এ সংগীতশিল্পী।

জনপ্রিয় এই শিল্পীর জন্মদিন নিয়ে সাংবাদিক রাকিবুল বাসার তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন , “শুভ জন্মদিন গুরু আযম খান । সারা জীবন তুমি কাটিয়েছো রণাঙ্গনে, কখনো দেশ মাতৃকার ডাকে বন্দুক হাতে আবার কখনো মাইক হাতে সঙ্গীতের রণাঙ্গনে লক্ষ কোটি ভক্ত শ্রোতার ভালবাসার আলিঙ্গনে। দু’হাত ভরে বিলিয়ে দিয়েছো যা ছিলো তোমার কিন্তু বিনিময়ে কিছু পাওয়ার আশা করোনি কখনো।অসীম সাহস বুকে নিয়ে রাইফেল কাঁধে ঝাপিয়ে পরেছো যুদ্ধে, শত্রু শিবির ধ্বংস করে দেশ মাতাকে করেছো মুক্ত। ছিনিয়ে এনেছো একটা নতুন মানচিত্র একটা নতুন সূর্য , নতুন সকাল। কিন্তু কিছু পাওনি তুমি , কিছুই না ।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তুমি যে নতুন শক্তি ও উদ্যম নিয়ে আরেকটা যুদ্ধের সুচনা করেছিলে সেই সঙ্গীতের মঞ্চে, যার ধারাবাহিকতায় আজ কিছু শিল্পী নামের ব্যবসায়ী টাকার পাহাড়ে বসবাস করছেন। সঙ্গীতকে বানিয়েছেন পণ্য বসবাস করছেন বিশাল অট্টালিকায়। সেখানে এই যুদ্ধের অগ্রপথিক বা সেনাপতি হয়েও মৃত্যুর দিন পর্যন্ত কাটিয়ে দিয়েছো কমলাপুরের সেই ছোট্ট জীর্ণ বাড়ীতে, নিরবে নিভৃতে। এতোটা নির্লোভ মানুষ কি করে হতে পারে আমি জানি না। হয়তো এ কারনেই তুমি গুরু , তুমি ক্ষনজন্মা ও ১৬ কোটি বাঙালীর প্রিয় ‘’গুরু’’।

Leave a comment

উপরে