আশুলিয়ায় বাৎসরিক ভাতা না দেওয়ায় ইয়াগী বাংলাদেশ গার্মেন্টস লিমিটেডের শ্রমিকদের কর্মবিরতি পালন

আশুলিয়া প্রতিনিধি : গতকাল সাভারের আশুলিয়ার উত্তর বেরুন এলাকায় ইয়াগী বাংলাদেশ গার্মেন্টস লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার ভেতরে প্রায় ১৭ শত শ্রমিক বাৎসরিক ভাতা না পাওয়ায় এবং নানাবিধ কারনে কর্মবিরতি পালন করেছেন । সোমবার দুপুরে এ ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে ইয়াগী বাংলাদেশ গার্মেন্টস লিমিটেডের এডি শহিদুল জানান প্রায় ৯শত শ্রমিকের বাৎসরিক ছুটির প্রায় ৪০-৫০ লক্ষ টাকা টাকা বকেয়া থাকায় শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছে। এ সময় নাম প্রকাশ না করার শর্তে শ্রমিকরা বলেন কারখানার কতৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে বিনা নোটিসে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করেন। এছাড়া প্রায় প্রতি মাসে বেতন নিয়ে গার্মেন্টস কতৃপক্ষ তাল বাহানা করেন । সরেজমিনে যেয়ে দেখা যায় পোশাক কারখানার ভিতরে শ্রমিকরা কাজ না করে বসে রয়েছে। তারা বলে পহেলা বৈশাখের আগে তাদের বার্ষিক ছুটির টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও কতৃপক্ষ টাকা না দিয়ে তালবাহানা করতে থাকে। ফলে তারা কর্মবিরতি করছে। এছাড়া এই কারখানায় ১৮শত শ্রমিকের জন্য রয়েছে একজন চিকিৎসক তাও আবার আসে সপ্তাহে দুবার কোন কারনে শ্রমিকরা অসুস্থ্য হলে তাদের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রটির রয়েছে বেহাল দশা। দুপুরে কারখানর মধ্যে যেয়ে এক রোগীকে বিছানায় কাতরাতে দেখাযায়। প্রায় তখন বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীটি আরোও বেশী কষ্ট পাচ্ছিল। কারখানার ভিরতে জেনারেটর চলছিল কিন্ত প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র রুগী গরমে আরও অসুস্থ্য হয়ে কাতরাচ্ছে। প্রায় দু ঘন্টা পর এক মহিলা এসে রোগীটাকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়। এমনি অসংখ্য সমস্যার মধ্যে কাজ করতে হয় এ কারখার শ্রমিকদের। উল্লেখ ২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর রবিবার ৬৭ শ্রমিককে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ছাটাই করে এই কারখানার কতৃপক্ষ। ২০১৪ সালে নানা বিধ অভিযোগে ৪৪ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করে। জুলাই মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদ ঐ বছর ১১ আগস্ট সোমবার শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করে। এসময় কারখানাটির একাধিক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, মালিকপক্ষ বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে বিনা নোটিসে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করেন।এছাড়া প্রতিমাসের বেতন পরিশোধ নিয়েও বিভিন্ন সময় নানা তালবাহানা করেন। গত ৫ জানুয়ারি ২০১৯ সন্ধ্যায় ইয়াগী বাংলাদেশ গার্মেন্টস লিমিটেড ছুটির পর ঐ কারখানার শ্রমিক নাজমা বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। এ সময় রহিম তাকে পাশের একটি খালি মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে রহিম এবং ইয়াগী বাংলাদেশ গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানার লাইন চিফ রিপন, স্টাফ ইব্রাহিম খলিল ও শিপনসহ চারজন মিলে নাজমার ওপরে পাশবিক নির্যাতন চালায়। পরে নাজমা অচেতন হয়ে পড়লে তারা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরদিন সকালে নাজমা নিজে আশুলিয়া থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। ৭ জানুয়ারি ২০১৯ সোমবার সকালে নাজমা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আশুলিয়ার নারী ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। গত ১৭ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে সাভারের খাগান এলাকার আমিন মডেল টাউনের ভেতর ঐ কারখানার লাইন চিফ (নাজমা হত্যা মামলার আসামী) রিপনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। এমনি অসখ্যা অভিযোগ রয়েছে এই কারখানাটির বিরুদ্ধে সেই প্রথম থেকেই। বর্তমান সরকারের সময়ে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ও কারখানার ব্যপক উন্নয়ন ঘটেছে। সরকারের এই সুনামকে ক্ষুন্ন করতে এক শ্রেনীর ব্যাবসায়ীরা নানা অজুহাতে বেতন ভাতা না দিয়ে শ্রমিকদের সাথে সরকারে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মনে করেছেন সচেতন সমাজ।

Comments

comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



One response to “আশুলিয়ায় বাৎসরিক ভাতা না দেওয়ায় ইয়াগী বাংলাদেশ গার্মেন্টস লিমিটেডের শ্রমিকদের কর্মবিরতি পালন”

  1. Like!! Really appreciate you sharing this blog post.Really thank you! Keep writing.

Leave a Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

ওয়েবসাইট নির্মানে: আইটি হাউজ বাংলাদেশ