সমুদ্রে মাছের পরিমাণ-অবস্থান জানতে জরিপ কাজ শুরু

প্রকাশিত: ২৮-০২-২০১৭, সময়: ০৪:২৭ |
Share This

দেশের সমুদ্র এলাকায় মাছের পরিমাণ ও অবস্থান জানতে সম্প্রতি জরিপ কাজ শুরু করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। প্রথম ধাপের এ কার্যক্রম চলবে এ বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত। তবে আর ভি মিন সন্ধানী নামক জরিপ জাহাজের মাধ্যমে সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি সমুদ্রে থাকা অন্যান্য মূল্যবান প্রাণী ও উদ্ভিদের জরিপ সম্ভব না হলে আনুষঙ্গিক ব্যয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। অধিদপ্তর বলছে, এই জাহাজে সম্ভব নয়, শুধু মাছ জরিপের জন্যই প্রয়োজন বিভিন্ন আকারের জাহাজ।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে রাশিয়া থেকে নিয়ে আসা একটি জাহাজের মাধ্যমে সমুদ্রে প্রথম মাছ জরিপ শুরু করে বাংলাদেশ। পরে আরও দুটি জাহাজ নিয়ে আসা হলেও সেগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ২০০০ সাল পর্যন্ত জরিপ কার্যক্রম বন্ধ থাকে। প্রায় ১৬ বছর পর আবারো মাছ জরিপে ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মালয়েশিয়া নিয়ে আসা হয় আর ভি মিন সন্ধানী জরিপ জাহাজ। এতো অর্থ ব্যয়ে নিয়ে আসা জাহাজটির মাধ্যমে মাছের পাশাপাশি সমুদ্রের অন্যান্য ক্ষেত্রগুলোরও জরিপের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

সমুদ্র গবেষক অধ্যাপক ড. কাওসার আহমেদ বলেন, ‘আমরা যদি এক ঢিলে ৩-৪ পাখি না মারতে পারি আমাদের এটা খুব ব্যয়বহুল হয়ে যাবে।’ শুধু মাছ জরিপের কাজে জাহাজটি সমুদ্রে অবস্থান করলে অর্থসহ সব ধরনের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে কয়েকগুণ, এমনই বলছেন এই বিশেষজ্ঞ।

মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, আর ভি মিন সন্ধানী জাহাজের মাধ্যমে সমুদ্রে সব অঞ্চলে জরিপ চালানো সম্ভব নয়। দেশের সমুদ্র সীমাতে শুধু মাছ জরিপের জন্যই প্রয়োজন ছোট-বড় আরো কয়েক ধরনের মৎস্য জরিপ জাহাজ। মৎস্য বিভাগ ডিজি সৈয়দ আরিফ আজাদ বলেন, ‘এই জাহাজ দিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিটার গভীরতা আসা যাবে না। আমাদের আরও ছোট জাহাজ লাগবে।’

তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সমুদ্র সীমার বিভিন্ন অঞ্চলে রয়েছে প্রায় সাড়ে ৪’শ প্রজাতির মাছ। জরিপ কাজ শেষে প্রয়োজন অনুযায়ী গভীর সমুদ্রে জরিপের জন্য জাহাজ ভাড়ার করার কথাও জানায় অধিদপ্তর।

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে