কারাগারে দেয়া হচ্ছে কর্মমুখী শিক্ষা

প্রকাশিত: ২৮-০২-২০১৭, সময়: ০৪:১৯ |
খবর > ফিচার
Share This

স্বপ্ন। যা মানুষকে বাঁচতে সহায়তা করে। সে মানুষ হোক মুক্ত কিংবা চার দেয়ালের মাঝে বন্দি। তেমনই কারাগারে বসবাস করা মানুষগুলোও স্বপ্ন দেখেন একটি মুক্ত বাতাসে সুশৃঙ্খল জীবনের। সেজন্য কারাগারে তারা নানা কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণ করেন। মুক্তি পেয়ে যাতে পরিবার পরিজন নিয়ে সৎ পথে থেকে দু’ মুঠো খেয়ে বাঁচতে পারেন। তবে কাজ শেখার পাশাপাশি বন্দিদের চাওয়া উন্নত দেশের মতো শ্রমের বিনিময়ে কিছু আর্থিক সুবিধাও।

গভীর মনোযোগ, সতর্ক দৃষ্টি আর নিপুণ হাতের নিখুঁত কর্মযজ্ঞ। বড় কোন কোম্পানির মুক্ত কারখানা নয়, এটি একটি কয়েদখানা। অপরাধের গ্লানি আর দণ্ড মাথায় নিয়েই রুটিন মাফিক কাজ করছেন নিয়তির কাছে হেরে যাওয়া বা একসময়কার অন্ধকার জগতের এসব মানুষ। তারপরও স্বপ্ন দেখেন গ্রীলের ওপারে একটি মুক্ত জীবনের।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদীদের সংশোধনের জন্য এভাবেই প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে নানা আধুনিক কর্মমুখী কাজের। প্রিন্টিং প্রেস থেকে শুরু করে গার্মেন্টস কিংবা আধুনিক বেকারি, যেখানে কাজ শিখে এক সময়ের অপরাধ জগতের বাসিন্দাদের কালো হাত রূপান্তরিত হচ্ছে কর্মমুখী হাতে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশের বিভিন্ন কারাগারের নিজস্ব চাহিদা মিটছে, পাশাপাশি দণ্ড কমে নির্দিষ্ট সময়ের আগে মুক্তির বারতা পাচ্ছেন বন্দিরা।

তবে বন্দিদের অভিযোগ, দণ্ড কমানোর পাশাপাশি ২০১৪ সাল থেকে কাজের বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, জেলকোড অনুযায়ী বন্দিদের কাজের বিনিময়ে চার ভাগের এক ভাগ সাজা কমানো হলেও আর্থিক সুবিধা দেয়ার বিধান নেই। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে হলেও শ্রমের বিপরীতে আর্থিক সুবিধা দেয়া উচিত।

সাবেক ডিআইজি প্রিজন মেজর (অব.) সামসুদ্দিন হায়দার বলেন, ‘বন্দিরা যদি এখানে কাজ করে টাকা রোজগার করে কিছু টাকা তার পরিবারকে দিতে পারে তাহলে তার পরিবার বাইরে যে কষ্টে থাকে সেই কষ্টটা দূর হয়।’

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক বলেন, ‘বন্দিদের কাজের বিনিময়ে যে আর্থিক সুবিধা দেয়ার বিষয়টি এখন পর্যন্ত আইনে প্রচলিত নাই। এ বিষয়ে আমরা একটি নতুন প্রস্তাবনা রেখেছি।’

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে