আব্দুল জলিলের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ০৬-০৩-২০১৭, সময়: ০৯:১২ |
Share This

আজ ৬ মার্চ সোমবার। চার এবছর আগে ঠিক এই দিনে ইহলোকের সকল মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে চলে গেছে দেশবাসীর প্রিয় বর্ষিয়ান নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠত আব্দুল জলিল। তিনি আমাদের মাঝে ফিরে না আসলেও চারিপাশে তার কর্মের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অনেক স্মৃতি। সেজন্য আমরা তাকে আজও ভুলিনি ও ভুলতে পারিনি। আজ সেই মহান নেতার ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। তার আগমনে নওগাঁয় বইছে আনন্দের জোয়ার। শহরের রাস্তাঘাট তোরণে তোরণে ছেয়ে গেছে। শুভেচ্ছা স্বরুপ বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। শহরের নওজোয়ান মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে স্মরণসভাটি অনুষ্ঠিত হবে। উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধূরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি, জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান সরকার এমপি, ইসরাফিল আলম এমপি, ছলিম উদ্দিন তরফদার এমপি, প্রয়াত নেতা আব্দুল জলিলের ছেলে নিজাম উদ্দিন জলিল জনসহ প্রমুখ নেতা।

আব্দুল জলিলের সংক্ষিপ্ত জীবনী: তিনি ১৯৩৯ সালের ২১ জানুয়ারি তৎকালিন নওগাঁ মহকুমার চকপ্রাণ মহল্লায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মাতা জরিনা ফয়েজ। তাঁর দুই স্ত্রী ফাতেমা জলিল ও রেহানা জলিল, দুই মেয়ে ডা. শারমীন জলিল জেসি ও ডা. মৌমিতা জলিল জুলি এবং দুই ছেলে নিজামউদ্দিন জলিল জন ও জুমায়েত জলিল জুম্মা।

বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশের পথে আমৃত্যু পথচলা এক রাজনীতিবিদের নাম জননেতা আব্দুল জলিল। দীর্ঘ ৭৪ বছর জীবনে ছাত্রলীগ থেকে আওয়ামী লীগ- ৫৭ বছর একই আর্দশ পথ হেঁটেছেন। ১৯৫৭ সালে নওগাঁ কেডি হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পাসের পর রাজশাহী কলেজে অধ্যয়ন কালেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। ১৯৫৭-৫৮ সালে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাহিত্য সম্পাদক হন। ১৯৬০ সালে বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েটের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ডাকসুর অতিরিক্ত সেক্রেটারি পদে নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে পর পর দু’বার অর্থাৎ ১৯৬০-৬১ এবং ১৯৬১-৬২ সমিতির সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি অর্নাসসহ মাস্টার্স র্কোস সমাপ্তির পর ব্যারিস্টারি পড়তে লন্ডন যান। বঙ্গবন্ধুর কথায় সাড়া দিয়ে ১৯৬৯ সালে দেশে ফিরে নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেন।

১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ৭ নম্বর সেক্টরে ভারতের বালুরঘাঁট ক্যাম্পে কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কথিত আছে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তার নেতৃত্বে বেশ কয়েক জন মিলে ব্যাংক ডাকাতি করেন এবং সেই টাকা মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজনে ব্যয় করেন। দেশ স্বাধীন হবার পর অবশিষ্ট টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করেন। তিনি ৭২ সালে নওগাঁ পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান, ৭৩ এর নির্বাচনে প্রথম বারের মত সংসদ সদস্য, ৭৫ সালে দেশের এক বিশেষ পরিস্থিতিতে কিছু সময়ের জন্য সব দল মিলে জাতীয়দল বাকশাল গঠন করার পর নওগাঁর গর্ভনর পদে তিনি নিয়োগ পান। একই সঙ্গে বাকশালের যুক্তফ্রন্ট জাতীয় যুব লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য হন তিনি।

৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর দীর্ঘ প্রায় চার বছর বিনা বিচারে কারা নির্যাতন ভোগ করে ১৯৭৯ সালে তিনি মুক্তি পান। ১৯৮৪ সালে কারা নির্যাতিত এই নেতা নওগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ৮৬ এর সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ৮৮ সালে দ্বিতীয় বারের মত নওগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু হত্যার ২১ বছর পর ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ, সরকার গঠন করলে টেকনোক্র্যাট কোটায় ৯৯ সালে মাত্র ১৪ মাস বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে নওগাঁ-৫ সদর আসন থেকে তৃতীয় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি একটানা ১৬ বছর নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

২০০৭ জরুরি অবস্থায় জারি হলে ২৮ মে তিনি গ্রেফতার হন। কারাগারে গিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনেক নির্যাতন ও কষ্টের পর ২০০৮ সালের ২মার্চ পাঁচটি শর্তে একমাসের জন্য প্যারোলে মুক্তি পান এবং চতুর্থ বারের জন্য সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০১৩ সালে ৬মার্চ সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নওগাঁ শহরের বাইপাসে ৭১ ফুট উঁচু ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহনে তার প্রচেষ্টায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়।

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে