দুর্ভিক্ষে সোমালিয়ায় ১১০ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত: ০৫-০৩-২০১৭, সময়: ০৮:৫৪ |
Share This

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রচণ্ড খরার কারণে সৃষ্ট খাদ্যাভাব ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সোমালিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে গত ৪৮ ঘণ্টায় অর্থাৎ দুই দিনে অন্তত ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। শনিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাসান আলী খায়ের এ কথা জানান।

মোগাদিসুতে খরা কমিটির এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে খাদ্যঘাটতি অনেক বেশি। ফলে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা হচ্ছে।এর চার দিন আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহামেদ আব্দুল্লাহি ফারমাজো খরাকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেন।

সিএনএন জানায়, এই খরার কবলে পড়েছে দেশটির ৬২ লাখ অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি মানুষ। খাদ্য তো নেইই, এমনকি নানারকম ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পানিও দূষিত এবং পানের অযোগ্য হয়ে গেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে সবচেয়ে খরাপীড়িত এলাকাগুলোতে বৃষ্টির অভাবে ফসল মরে গেছে, পানির অভাবে মরে গেছে গবাদি পশু।

খাবার পানির অভাবে দূষিত পানি খেয়ে অসুস্থ হয়ে অসংখ্য মানুষ হাসপাতালে ভর্তি। বাইদোয়া রিজিওনাল হসপিটালের মেডিক্যাল কো-অরডিনেটর ডা. আবদুল্লাহ ইউসুফ বলেন, গত বছর এই সময়ে আমরা এর চাইতে অনেক কম রোগী পেয়েছি। কিন্তু এবার খরার কারণে যে রকম পানি পাচ্ছে তা-ই খাচ্ছে আর অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

এর আগে, গত সপ্তাহে জাতিসংঘ হুঁশিয়ার করে দেয়, সোমালিয়ায় একটি দুর্ভিক্ষ আসন্ন। যদি শিগগিরই বৃষ্টি না আসে এবং জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিকভাবে কোনো ব্যবস্থা না নেয়া হয়, তাহলে দেশটিতে ২০১১ সালের দুর্ভিক্ষের পুনরাবৃত্তি হবে, যে দুর্ভিক্ষে আড়াই লাখের বেশি লোকের মৃত্যু হয়।

সাহায্য সংস্থাগুলো উদ্বিগ্ন এই ভেবে যে, সোমালিয়া এখন মানবিক বিপর্যয়ের (পাঁচ বছরের কম বয়সী ৩৬৫,০০০ শিশু তীব্র অপুষ্টির শিকার এবং তাদের ৭১ হাজারের জীবন বাঁচাতে এখনই ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন) মধ্যে আছে, চলমান খরা তাকে আরো খারাপের দিকে টেনে নামাবে। সূত্র: সিএনএন ও আল-জাজিরা

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে