পরিত্যক্ত পলিথিন ও প্লাস্টিক থেকে তেল-গ্যাস উৎপাদন করছেন আসলাম

চম্পক কুমার, জয়পুরহাট : মানুষের যান্ত্রিক জীবনে জায়গা দখল করেছে পলিথিন এবং প্লাস্টিক। পলিথিনের স্থায়ীত্ব বেশি তাই সহজে পচন এবং পুড়িয়ে ফেলা সম্ভব হয় না। অল্প বাজার খুব সহজেই পলিথিনে বহন করা সম্ভব। কিন্তু কাজ শেষে এসবের স্থান হয় ডাস্টবিনে। আর সেই পরিত্যক্ত পলিথিনকে কাজে লাগিয়েছেন জয়পুরহাটের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা আসলাম হোসেন। পলিথিনকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় কাজে লাগিয়ে তা থেকে তৈরি করেছেন জ্বালানি তেল পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাস এবং ফটোকপি মেশিনের কালি। আসলাম হোসেনের বাড়ি সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের পার্বতীপুর গ্রামে। জীবিকা নির্বাহে দর্জির কাজ করতেন তিনি। এ কাজে অল্প আয়ে সংসারের দারিদ্রতা যেন পিছু ছাড়তো না। সে কারণেই সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় এনজিও থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে নিজের মেধা, শ্রম ও কিছু পুঁজি দিয়ে এসব উৎপাদন করছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, আসলামের বাড়ির পাশে জমিতে বড় একটি লোহার ফাঁকা ড্রামের ভিতরে পরিত্যক্ত কুড়ানো পলিথিন ও প্লাস্টিক ভরে প্রায় একঘন্টা ড্রামের নিচে খড়ি ও কয়লা দিয়ে জ্বাল দেন। ড্রাম থেকে নির্গত গ্যাস স্টিলের পাইপের মধ্যে দিয়ে নির্দিষ্ট জায়গাতে জমা হয়ে, সেখানে পাইপটি পানিতে ঠান্ডা হয়ে পেট্রোল এবং ডিজেল ছোট কন্টেইনারে জমা হচ্ছে। এক কেজি পলিথিন থেকে প্রায় ৭০০ গ্রাম জ্বালানী তেল, গ্যাস ও ড্রামের তলাতে প্রিন্টারের কালি বের করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। উৎপাদিত পেট্রোল-ডিজেল মোটরসাইকেল ও শ্যালো মেশিনে ব্যবহার করা হচ্ছে। কালিগুলো ব্যবহার হচ্ছে ফটোকপির মেশিনে। উৎপাদিত গ্যাস ধারণ করার মতো কোন যন্ত্রপাতি অর্থের অভাবে কিনতে পারেননি আসলাম। উদ্যোক্তা আসলাম হোসেন বলেন, প্রথমে আমি নিজের বাড়িতে করি এবং তারপরে স্থানীয় এনজিও থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বাড়ির পাশে ফাঁকা জমিতে মেধা খাটিয়ে এটি তৈরি করেছি। বর্তমানে ২০ লিটার পর্যন্ত পেট্রোল-ডিজেল, তিন দিন পরপর ২ থেকে ৩ কেজি করে ড্রামের কালি ফটোকপি মেশিনে ব্যবহারের জন্য ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অর্থের অভাবে গ্যাস ধারণ করার মতো যন্ত্রপাতি কিনতে পারছি না। সরকার সহযোগিতা করলে এটি আরো উন্নত করতে পারবো।
স্থানীয় মুন্না পারভেজ, মাহবুব আলম বাবু, সাইফুল ইসলামসহ অনেকে বলেন, পরিত্যক্ত পলিথিগুলো ফসলে ক্ষতিসহ পরিবেশের অনেক ক্ষতি করে। এই অভিনব পদ্ধতিতে জ্বালানি আবিষ্কার করায় এলাকার পরিত্যক্ত পলিথিন শূন্য হয়ে পড়েছে। সেগুলো থেকেই এসব উৎপাদন হচ্ছে। এতে আমরা সাধুবাদ জানাই। সেই সাথে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, ঋণ সহায়তা ও প্রশিক্ষণ পেলে আসলাম আরো ভালো কিছু করতে পারবে এবং তার দেখাদেখি এই এলাকার বেকার যুবকরাও এ উদ্যোগ নিবে। এতে বেকাররা স্ববলম্বী হবে। এলাকার কিছুটা হলেও জ্বালানী চাহিদা মিটবে। তাই সরকারের সহযোগিতা করা উচিত। জয়পুরহাট সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র রায় বলেন, সরকারি ভাবে যদি কোন সহযোগিতা করার সুযোগ থাকে তাহলে অবশ্যই দেওয়া হবে। সেই সাথে পরিবেশ বান্ধব হবে। এদিকে জয়পুরহাট বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক আকতারুল আলম চৌধুরী বলেন, এটি একটি ভালো উদ্যেগ। দেশে এমন বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছিল। সরকারের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ, ঋণ সহায়তা পেলেই তাদের দেওয়া হবে এবং আমরা চেষ্টা করবো তাদের সহযোগিতা করার জন্য।

Comments

comments

সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

© 2011 Allrights reserved to Daily Detectivenews