বিনা টাকায় দৃষ্টি ফিরে পেয়ে উচ্ছাসিত ভিক্ষুক সাম্বরী

শঙ্কর জীৎ সমদ্দার ভান্ডারিয়া : সুজলা ,সুফলা,শষ্য শ্যামলা এই বসুন্ধরায় সৃষ্টির সর্ব শ্রেষ্ঠ হল মানুষ। আর মানুষের মানব দেহের প্রত্যেকটা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অতি প্রয়োজনীয়। এর মধ্যে চক্ষু দারা মানুষ এই সুন্দর অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পায়। আর চক্ষু খারাপ থাকলে অন্য সকল অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সতেজ থাকলেও তা অনেকাংশে মূল্যহীন। চলতি মাসের ছয় নভেম্বর উপকূলীয় অঞ্চল পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ডাচ বাংলা ব্যাংকের অর্থায়ণে গ্রামীণ জনপদের গরিব,অস্বচ্ছল মানুষের সেবা প্রদাণের জন্য সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা হয়। আর এই চিকিৎসা সেবা প্রদান করেণ বেসরকারি ইস্পাহানী আই হাসতাপাল বরিশাল বিভাগীয় শাখার দক্ষ্য ডাক্তারগণ। ওই দিন প্রায় আড়াই থেকে তিনশ রোগির সেবা প্রদাণ করে সংস্থাটি। এতে মঠবাড়িয়া,পার্শবর্তী উপজেলা ভান্ডারিয়া ছাড়াও বিভিন্ন এলাকার চক্ষু রোগিরা সেবা নেয়ার জন্য উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে মঠবাড়িয়া উপজেলা থেকে কিছু রোগিকে প্রয়োজনানুযায়ী প্রাথমিক চিকিৎসা এবং ব্যবস্থা পত্র,ওষধ ও চসমা দেয়া হয়। আর ৮৫জন রোগিকে ইস্পাহানী হাসতাপাল বরিশাল বিভাগীয় শাখায় হাসপাতালের নিজস্ব পরিবহনে নিয়ে আসা হয়। এবং তাদের ছানি অপারেশন করা হয়।
৭নভেম্বর বৃহস্পতিবার অপর এক রোগির খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা যায় বরিশালের বগুরা রোডস্থ ইস্পাহানী আই (চক্ষু) হাসতাপালের চতুর্থ তলায় বহু কালো চসমা পড়া নারী-পুরুষ রোগিকে কর্তব্যরত ডাক্তার অপারেশন পরবর্তী অবস্থা পর্যবেক্ষন করে রোগিদের পরবর্তী করনীয় বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছেন। এসময় সেবা নিতে আসা রোগিদের মধ্যে স্বামী,সন্তান হারা ৮৫বছর বৃদ্ধ ভিক্ষুক ডাক্তারের মাথায় পোছা দিয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে তার দীর্ঘায়ূঁর জন্য কেদে কেদে দোয়া করছেন। তখন ওই বৃদ্ধার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,আমার(তার) দুটি চোখই অন্ধ হয়ে গেছে। তার বাড়ি মঠবাড়িয়া উপজেলার পূর্ব টিকিকাটা গ্রামে তিন কুলে তার কেউ নেই। ভিক্ষা করে যা পায় তাই দিয়ে দিনাতিপাত করেন সাম্বরী বেগম!! পাশের বাড়ির এক জন তাকে বিনা মূল্যে চক্ষু দেখানো হয় জানালে সে তাতে রাজি হয়ে ওখানে দেখাতে আসে। তার চোখে ছানি পড়ায় তাকে বরিশাল নিয়ে আসা হয় এবং অপারেশনের পর একটি চক্ষু ভাল হয় এবং দেখতেও পাওয়ায় ডাক্তারকে বলেন বাবা আরটাও ভালো করে দেবেতো? তখন ডাক্তার সাম্বরীরর আকুতি শুনে বলেন মা ভাল করার মালিক মহান আল্লাহতালা আমি শুধু চেষ্টা করি মাত্র। একবারে তো দুটো চোখ অপারেশন করা যায়না তাই অপরা পরে করবো এবং ইনশাল্লাহ্ ভাল হবে। এসময় দেখা যায় ডাক্তার মো. নজরুল ইসলাম রোগিদের পরবর্তী ১মাসে কিকরনীয় সে বিষয় নির্দেশনা প্রদান করছেন এবং কাউন্সিলর খাদিজা আক্তার এবং নার্স তানজিলা আক্তারকে ছানি অপারেশনকৃত রোগিদের কাছে তাদের ব্যবস্থা পত্র বুঝিয়ে দিচ্ছেন। পরে আলাপ হয় ইস্পাহানী আই হাসতাপাল বরিশাল বিভাগীয় চীফ অফ কনসালটেন্ট (কর্তব্যরত ডাক্তার) মো. নজরুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, তার বাড়ি যশোরে এবং এর পূর্বে তিনি ভারতের তামিল নাড়–তে একই বিষয়ে কাজ করতেন। তার কাজের দক্ষতা এবং ব্যবহারে রোগিরা খুশি থাকায় তাকে সেখান থেকে বাংলাদেশে আনা হয়। ২০১৬সালে তিনি বরিশালে যোগদানের পর প্রায় ১হাজারের অধীক চক্ষু ছানি অপারেশন ছাড়াও চক্ষুতে সুনিপুন ভাবে লেন্স বসিয়েছেন। আর এতে বিভিন্ন পর্যায়ে খ্যাতি অর্জনের পাশপাশি সম্মাননা ও সনদ লাভ করেছেন। আরো জানান, ৬ নভেম্বর রাতে তিনি এক দিনে ১১২জন রোগির ছানি অপারেশনের করেছেন অত্যন্ত দক্ষতা ও নিপুনতার সহিত। ভারত ছেড়ে বাংলাদেশে আসা এবং বরিশালেই বা কেন ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এদেশে জন্ম আমার। তা ছাড়া বাবা,মা এখানে একদিকে তাদের সেবা করার সুজোগ থাকায় এই সিদ্ধান্ত। বরিশালের বিষয়ে জানান, গ্রামীণ জনপদের দ্ররিদ্র প্রান্তীক মানুষের পক্ষে ঢাকা বা বিদেশে গিয়ে সেবা নেয়া দুঃসাদ্ধ্য হয়ে পড়ে। তাই আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াসে যদি দরিদ্র,গরিব, অস্বচ্ছল মানুষের কিছু উপকারে আসতে পারি তা হলে মানব জন্ম সার্থক হবে তাই। পরে ওই ১১২ জন রোগিকে ডাচ বাংলা ব্যাংকের পক্ষ থেকে স্ব স্ব গন্ত্যব্যে পৌঁছানোর জন্য পরিবহন খরচ দেয়া হয়।

Comments

comments

সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

© 2011 Allrights reserved to Daily Detectivenews