মঠবাড়িয়ায় আমেনার মৃত্যুর জন্য কে দায়ী ?

জুলফিকার আমীন সোহেল, মঠবাড়িয়া থেকে : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ধুপতি গ্রামের গৃহবধূ আমেনা বেগম (২৫) এর মৃত্যু নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন। তার মৃত্যু কি স্বাভাবিক, না-কি অস্বাভাবিক ? মৃত্যুর জন্য কে দায়ী ? এ নিয়ে প্রকাশ্যে ও গোপনে চলছে ব্যপক আলোচনা। গত ১৬ অক্টোবর বুধবার রাতে মঠবাড়িয়া থানার এস.আই মানিক ও নারী পুলিশ সদস্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আমেনা বেগমের লাশ উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার ময়না তদন্তের জন্য পিরোজপুর মর্গে পাঠান। পরে স্বামীর বাড়ির লোকজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করেন। আড়াই বছরের ১ সন্তানের জননী মৃত. আমেনা বেগম ওই গ্রামের শাহাদাৎ হোসেন সোহেলের স্ত্রী।
শাহাদাৎ হোসেন সোহেলের প্রতিবেশী চাচাতো ভাই ও মৃত. আঃ সালাম তালুকদারের পুত্র মাহাবুর তালুদার জানান, ঘটনার দিন বুধবার সকালে ওই বাড়িতে ব্যপক ছিল্লা-পাল্লা শুনতে পেরে সীমানার বেড়ার পাশে গিয়ে দাড়াই। তখন দেখতে পাই গৃহবধূ আমেনাকে তার স্বামী শাহাদাৎ ও শাশুরী খাদিজা বেগম বকা-ঝকাসহ মারধর করছে। রাতে শুনি ওই বধূ বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। মাহাবুর তালুদারের স্ত্রী সালমা বেগম জানান, সকাল ৯ টার দিকে তিনি পুকুরে থালা-বাসন ধুতে গেলে শুনতে পান ওই বাড়িতে ব্যপক ছিল্লা-পাল্লা চলছে। একই বক্তব্য প্রতিবেশী যুবক রাসেলেরও। নাম প্রকাশ না শর্তে মঠবাড়িয়া পৌর সভার এক কর্মকতার। যার বাড়ি ওই এলাকায়। স্থানীয় যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. মো. শামিম জানান, তিনি বিভিন্ন লোক মুখে জানতে পেরেছেন ওই গৃহবধূ আমেনাকে তার স্বামী ও শাশুরী বকা-ঝকাসহ মারধর করছে। ওই পবিরারের সদস্যরা বিটখিটে স্বভাবের যে কারনে কেহই ওই বাড়িতে সাধারণত আসা-যাওয়া করে না। সে কারনেই কেহ ঝগড়া থামাতে যায় না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ধুপতি গ্রামের হাবিবুর রহমান তালুকদারের পুত্র শাহাদাৎ হোসেন সোহেল প্রায় ৬ বছর আগে আমেনা বেগমের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পরে। এর পর এক ধরনের পারিবারিক সম্মতিতেই তাদের বিয়ে হয়। বেশ ভালই কেটে যাচ্ছিল তাদের দাম্পত্য জীবন। হঠাৎ সম্পত্তি (জমি) আমেনার জন্য কাল হয়ে দাড়াবে যা কেউ ভাবতেই পারেনি। মূলতঃ শাহাদাৎ হোসেন সোহেল আমেনাকে বিয়ে করেছিলো শহরে একটু (ফরায়েজ) জমি পাবার আশায়। ওই জমি যখন আমেনার ভাইয়েরা লিখে নেয়, তখনই আমেনার ওপর নেমে আসে মানসিক ও শাররীক নির্যতন। তারই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন ১৬ অক্টোবর বুধবার সকালে মার খাবার পরে ওই গৃহবধূ বিষপান করে। হাসপাতালে রেজিস্ট্রি অনুযায়ী দুপুর ১২ টা ৫৫ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রোগীর অবস্থার বেগতি দেখে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন ও ছাড়পত্র দেন। এছাড়াও কর্তব্যরত ডাক্তার মৌখিকভাবে রোগীকে বরিশাল নেয়ার অনুরোধ করেন। আমেনা বেগমের স্বামী শাহাদাৎ, দেবর শহিদুল ও ননদের স্বামী জামাল হোসেন কিছুতেই তাকে বরিশাল নিতে রাজি হয়নি। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে মুসলেকা (সহি) দিয়ে এ হাসপাতালেই চিকিৎসা করান। সন্ধ্য সাড়ে ৬ টার দিকে হতভাগী আমেনা বেগম মৃত্যু হয়। এর পর শাহাদাৎ হোসেন সোহেল পালিয়ে যায় বলে রোগীর সাথে থাকা প্রতিবেশী যুবক রাসেল জানান। চিকিৎসার বিষয়টি মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আলী হাসান এ বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে সংবাদ পেয়ে মঠবাড়িয়া থানায় ছুটে আসে বেগম জাহান, নিজাম উদ্দিন, বিপ্লবসহ বেশ কয়েক জন লোক। বেগম জাহানের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি জানান, মৃত আমেনা বেগম তার মেয়ে। সকালে তার মেয়ে তার সাথে মুঠোফোনে কথা বলেছে। কি বলেছে এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে আর কোন কথা বলতে রাজি হয়নি। বিপ্লব থমকে-থমকে জানায় বেগম জাহান তার দাদী হন। মৃত আমেনা বেগম তার ফুপু। তার দাদার নাম মৃত. আলী আহম্মদ, বাসা নং-১৫, বাইবেল এলাকা নবীনগর থানা।
অপরদিকে নিজাম উদ্দিন মুঠোফোনে মৃত আমেনা বেগম কে খালাতো শালি দাবী করে জানান, বেগম জাহান মৃত আমেনা বেগমের পালিত মা। তার মায়ের নাম ফাতিমা বেগম। ছোট বেলায় বোন ফাতিমার কাছথেকে আমেনাকে পুশতে নেন। তার গর্ভের দু‘ছেলের নামে সমস্ত সম্পত্তি লিখে দেয়ার কারনে আমেনা বেগম মানষিকভাবে ভেঙে পরে। এদিকে তার স্বামী শাহাদাৎ হোসেন সোহেল শশুরবাড়ি কিছুই পাবেনা জেনে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। যে কারনে মেয়েটি কঠিন অভিমানে হয়তো বিষপান করেছে। এরপরে চিকিৎসাতেও ব্যপক কারপণ্য করেছে। বেগম জাহান জামাতা শাহাদাৎ হোসেন সোহেলের সাথে মোটা অর্থের বিনিময় পালিত মেয়ের মৃত্যুকে ধামাচাপা দিচ্ছে। নিজের গর্ভের সন্তান হলে এমনটা কিছুতেই করতে পারতেন না। তাছাড়া তার ওই দুই ছেলে সন্ত্রাসী প্রকৃতির। কিছু করতে গেলে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলবে। যে কারনে ওই বাড়ি থেকে আমি অভিমান করে ঢাকায় চলে এসেছি।
বেগম জাহানের কাছে আসল ‘মা’ ও পালিত ‘মা’ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বার-বার বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। শাহাদাৎ হোসেন সোহেল পলাতক থাকায় বারবার চেষ্টা করেও তার সাথে কথা বলা সম্বভ হয়নি।
মঠবাড়িয়া থানার এস.আই মানিক জানান, তিনি জানতে পেরেছেন বেগম জাহান মৃত আমেনা বেগমের আসল ‘মা’ নন।
ওসি (তদন্ত) আঃ হক জানান, প্রাথমিক পর্যায় থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। পোসমটেম রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে। তাছাড়া যদি চিকিৎসায় গড়িমাসি বা অন্য কোন বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Comments

comments

সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

© 2011 Allrights reserved to Daily Detectivenews