৮৯ কম্পানির মধ্যে ৬০টির শেয়ার ইস্যু মূল্যের ওপরেই

ডেস্ক রিপোর্ট : পুঁজিবাজারে ক্রমাগত নিম্নমুখী অবস্থায় মূলধন উত্তোলন করা কম্পানির শেয়ারের দাম ইস্যু মূল্যের নিচে নেমে এসেছে। আর তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্টেকহোল্ডাররা বলছেন, দুর্বল কম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা আস্থা পাচ্ছে না। ব্যাংক খাতে তারল্য সংকটও দায়ী। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী সক্রিয় হতে পারছে না।আইপিওর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বলছে, ইস্যু ম্যানেজারের দেওয়া প্রসপেক্টাসের তথ্য দেখে কম্পানিকে মূলধন উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে শেয়ারের দাম ইস্যু মূল্যের নিচে নেমে গেলে তাদের কিছু করার থাকে না, দায় নিতে হবে ইস্যু ম্যানেজারকে।২০১১ সাল থেকে গত আট বছরে নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের দায়িত্ব নেওয়ার পরে ৯০টি কম্পানি আইপিও অনুমোদন পেয়েছে। দুটি কম্পানি একীভূত হওয়ায় সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯টিতে। পুঁজিবাজার থেকে মূলধন উত্তোলন করা ওই সব কম্পানির গড় ইস্যু মূল্য ২২ টাকা।বর্তমানে এসব কম্পানির গড় ইস্যু মূল্য ৩৪ টাকার ওপরে রয়েছে। কোনো কম্পানির শেয়ারের দাম ইস্যু মূল্যের চেয়ে অনেক নিচে নেমে গেছে আবার কোনোটির শেয়ারের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অর্থাৎ ইস্যু মূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।কমিশন সূত্র জানায়, খায়রুল হোসেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন আট বছরে আইপিও অনুমোদন পাওয়া কম্পানির মধ্যে সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ার, একই গ্রুপের সামিট পাওয়ারের সঙ্গে একীভূত হয়েছে। কাজেই আইপিও অনুমোদন পাওয়া ৮৯টি কম্পানির মধ্যে ৬০টির বা ৬৭.৪২ শতাংশ কম্পানির শেয়ারের দাম ইস্যু মূল্যের ওপরে রয়েছে। আর ২৯টি বা ৩২.৫৮ শতাংশ কম্পানি শেয়ারের দাম ইস্যু মূল্যের নিচে অবস্থান করছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে আইপিওর অবস্থা আরো শোচনীয় বলছেন কমিশনের কর্মকর্তারা।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুঁজিবাজারে মন্দাবস্থার কারণে তালিকাভুক্ত হওয়ার কম্পানির শেয়ারের দাম ইস্যু মূল্যের নিচে নেমেছে। ২৯টি কম্পানির শেয়ারের দাম ইস্যু মূল্যের নিচে নামায় কমিশনের আইপিও অনুমোদন দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।ডিএসইর এক পরিচালক বলেন, ‘দুর্বল কম্পানিতে বিনিয়োগকারী মূলধন বিনিয়োগের সাহস পাচ্ছে না। ভালো কম্পানি অন্তর্ভুক্ত করতে না পারলে বিনিয়োগকারীর আস্থা ফিরবে না।’কমিশন সূত্র জানায়, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত ৫০ কম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২৪টিরই শেয়ারের দাম ইস্যু মূল্যের নিচে নেমেছে। মালয়েশিয়ায় ২০১৮ সালের মার্চ থেকে ২০১৯ সালের মে পর্যন্ত সময়ে তালিকাভুক্ত ২০টি কম্পানির মধ্যে চারটির, পাকিস্তানে ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত তালিকাভুক্ত হওয়া তিনটি কম্পানির মধ্যে দুটি বা ৬৬.৬৭ শতাংশ এবং হংকংয়ে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের মে পর্যন্ত সময়ে ১৬০টি কম্পানির মধ্যে ৮০টির ইস্যু মূল্যের নিচে লেনদেন হচ্ছে।বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, ‘কমিশন পুঁজিবাজারের উন্নয়নে একনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। পুঁজিবাজারের যা প্রয়োজন সব কিছুই করছে। আইনগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কম্পানির আইপিও শেয়ারের দাম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে; কিন্তু কমিশন কোনো কম্পানির শেয়ারের দাম নির্ধারণ করে না। স্থিরমূল্যে মূলধন উত্তোলনে সংশ্লিষ্ট কম্পানি, ইস্যু ম্যানেজার ও নিরীক্ষকের মতামত পাওয়ার পরই অনুমোদন দেওয়া হয়। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রে যোগ্য বিনিয়োগকারী শেয়ারের দাম নির্ধারণ করে।’

Comments

comments

সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

© 2011 Allrights reserved to Daily Detectivenews