আশ্বাস-অঙ্গীকার সত্ত্বেও অনিশ্চিত তিস্তা চুক্তি

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বিবৃতিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সই করার লক্ষ্যে কাজ করার ব্যাপারে ভারতের আশ্বাস থাকলেও খুব শিগগির ওই চুক্তি সই হওয়ার লক্ষণ নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভারতের অবস্থান পরিষ্কার। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি সই করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। কিন্তু এ বিষয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সম্মতি নেই। যত দিন না তারা সম্মত হচ্ছে তত দিন ভারত সেই চুক্তি সই করতে পারছে না।জানা গেছে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের কাছে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গ তুলেছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনো তাতে রাজি নন। ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে শীর্ষ বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন মমতাও। ওই বৈঠকের পর বক্তব্য দেওয়ার সময় নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, তিস্তার পানিবণ্টনের বিষয়টি সুরাহা করতে পারে কেবল তাঁর সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারই। তাঁর ওই বক্তব্যের পর মোদি ও শেখ হাসিনার আগের সরকারের মেয়াদে তিস্তা চুক্তি সই হবে বলে আশা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের জন্যও বিব্রতকর হয়ে ওঠে।গত শনিবার নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত শীর্ষ বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন না। এর পরও তিস্তা প্রসঙ্গ ওঠে এবং দুই দেশ যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি রাখতে সম্মত হয়। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিস্তা চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের জনগণের যে প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন তা ঠাঁই পেয়েছে যৌথ বিবৃতিতে।জানা গেছে, ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। ওই নির্বাচনের আগে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির ব্যাপারে অগ্রগতির সম্ভাবনা কম।২০১১ সালে চূড়ান্ত করা তিস্তা ও ফেনী নদীর পানিবণ্টন চুক্তির খসড়া ধরেই ভবিষ্যতে চুক্তি করার বিষয়টি এবারের যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ আছে। তিস্তা নিয়ে অগ্রগতি না হলেও ঝুলে থাকা ফেনী, মনু, মুহুরি, খোয়াই, গোমতী, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিবণ্টন চুক্তির ব্যাপারে অগ্রগতি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ফেনী নদীর পানিবণ্টন চুক্তি সইয়ের ব্যাপারে ভারতের বা ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের আপত্তি নেই। তা ছাড়া ত্রিপুরার সাবরুম শহরে খাবার পানির সংকট দূর করতে ফেনী নদী থেকে ভারতের ১.৮২ কিউসেক পানি প্রত্যাহার করার বিষয়ে বাংলাদেশ সম্মত হওয়ার বিষয়টি নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে।ওই কর্মকর্তা বলেন, মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ ভারতকে ফেনী নদী থেকে ১.৮২ কিউসেক পানি প্রত্যাহারের যে সুযোগ দিয়েছে তা শুকনো মৌসুমে ওই নদীর গড় পানিপ্রবাহের ০.২৩ (শূন্য দশমিক দুই তিন) শতাংশ। ১.৮২ কিউসেক পানি প্রায় ৫১.৫৪ লিটারের সমান। এটি নদীর পানিপ্রবাহের তুলনায় খুব সামান্য। শুকনো মৌসুমে ফেনী নদীর পানির গড় পরিমাণ ৭৯৪ কিউসেক এবং বার্ষিক গড় পরিমাণ প্রায় ১৮৭৮ কিউসেক। তিনি বলেন, আগামী দু-তিন মাসের মধ্যেই মনু, মুহুরি, খোয়াই, গোমতী, ধরলা ও দুধকুমার নদীর তথ্য-উপাত্ত বিনিময় শেষে চুক্তির জন্য খসড়া তৈরি করা হবে। এরপর শীর্ষ পর্যায়ের কোনো সফরে সে চুক্তিগুলো সই হতে পারে।ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আগামী মার্চে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ঘিরে ওই সফর হতে পারে। তাই সম্ভাব্য ওই সফরকালে চুক্তিগুলো সই করার বিষয়ে উভয় দেশের চেষ্টা থাকবে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে তিস্তা বা অভিন্ন নদ-নদীই একমাত্র ইস্যু নয়। কোনো ইস্যুতে আটকে না থেকে অন্য ইস্যুগুলোতে এগিয়ে যাওয়ার মনোভাব দুই দেশেরই আছে এবং এ ক্ষেত্রে অগ্রগতিও হয়েছে।ভারতের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসামে নাগরিক তালিকার (এনআরসি) সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তুলে ধরায় ভারতের অনেকেই খুশি। তাঁরা চেয়েছিলেন, বাংলাদেশ এ বিষয়টি ভারত সরকারের কাছে তুলে ধরুক। কারণ এ নিয়ে ভারতে, বিশেষ করে আসাম রাজ্যেও বড় ধরনের উদ্বেগ আছে।ভারতের প্রধানমন্ত্রী আসামে এনআরসিকে তাঁর দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেই অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আদালতের নির্দেশে যে এনআরসি চলছে এবং এনআরসিতে বাদ পড়া ব্যক্তিরা যে আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে সে বিষয়টিও তুলে ধরেন।সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, এনআরসি নিয়ে ভারতের জনগণই উদ্বিগ্ন। তারাই এর সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। ১৯৮৫ সালে আসাম চুক্তি সই হলেও পরবর্তী সরকারগুলো এনআরসি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বিষয়টি আদালতে গড়ানোয় আদালতের নির্দেশে সরকার আসামে এনআরসি সম্পন্ন করেছে। এটি রাজনৈতিক ইস্যুও হয়ে উঠেছে। বর্তমানে প্রতিবেশীদের মধ্যে ভারতের সবচেয়ে ভালো ও আস্থার সম্পর্ক বাংলাদেশের সঙ্গে। ভারত এ সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না।

Comments

comments

সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

© 2011 Allrights reserved to Daily Detectivenews