সাংবাদিকতার একটি মানদন্ডের প্রয়োজন

আওরঙ্গজেব কামাল : সাংবাদিকতার একটি মানদন্ডের প্রয়োজন রয়েছে। আর এ দাবী সাংবাদিকদের অতি পুরাতন। নতুন মিডিয়া ও নতুন সাংবাদিক প্রতিনিয়ত তৈরী হচ্ছে কিন্ত আমার মনে হয় খুব কম সংখ্যক সাংবাদিক মানদন্ডের মধ্যে রয়েছে । সাংবাদিকতা পেশা একটি মহৎ পেশা,বর্তমান সময়ে কিছু স্বার্থনেশ্বী মহল টাকার বিনিময়ে সাংবাদিকতা পেশা কে কুলশিত করছে। বাছ বিচার করা নেই, টাকা দিলেই তারা তাদের সুনাম গাইছেন এবং সমাজের কিছু খারাপ স্বার্থনেশ্বী মহল কে সমাজের বড় বড় সম্নানিত আসনে অধিষ্ঠিত করছেন। এতে করে নতুন প্রজন্ম থেকে শুরু করে সমাজের সকলেই সঠিক বিষয়ে জানতে পারছেন না,বরং ভূল তথ্যের কারনে, সকলে বিপথগামী হচ্ছেন।মুষ্টিমেয় দুই একজন অসৎ সাংবাদিকের কারনে আজকে এই মহৎ পেশার সাংবাদিকরা অসন্মানিত হচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে কি আমাদের কি কিছুই করার নেই ? বর্তমানে অনলানে সাংবাদিকতা বেড়েছে,মানুষ মুহর্তের খবর মূহর্তে পেয়ে যাচ্ছে কিন্ত সে টা কতটুকু গ্রহনযোগ্য সেটা এখন আর কেহ দেখছেন না।অনলাইন সাংবাদিকতায় নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বের বিষয়ে লেখার এ পর্যায়ে জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতার প্রতি গুরুত্ব দিতে হয়। তা করতে গিয়ে নীতি নৈতিকতার ওপরই অধিক গুরুত্ব দিতে হয়। ফলে সাংবাদিকতার গুরুত্ব বেড়ে যায়। নৈতিকতা’ একটি আদর্শিক মানদণ্ড। এই মানদণ্ড ভাল-মন্দ, করণীয়-বর্জনীয়,উচিত-অনুচিত, ঠিক-বেঠিক, ন্যায্য-অন্যায্য, মানবীয়-দানবীয় প্রভৃতির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করে দেয়। নৈতিকতা ব্যক্তিকে তাঁর সততা, স্বচ্ছতা, দায়িত্ববোধ এবং অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ধর্ম, সমাজ-সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ, মানবিকতা ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে নৈতিকতা বা নৈতিক মানদণ্ড গড়ে ওঠে। অর্থাৎ নৈতিকতা বা নৈতিক দর্শন সঠিক কাজের দিশা দেয়। অবশ্যই একজন সাংবাদিককে এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।সাংবাদিকতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ জনহিতকর পেশা। সমাজ, সভ্যতা ও মানুষের কল্যাণে এই পেশায় নৈতিকতার শতভাগ চর্চা অপরিহার্য। এক্ষেত্রে নৈতিকতা বলতে মূলত পেশাগত সততা, স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা, নিরপেক্ষতা, ন্যায্যতা, শুদ্ধতা প্রভৃতিকে বোঝায়।
কিন্তু সাংবাদিকতায় অল্প-অর্ধ শিক্ষিত, অনভিজ্ঞ, অদক্ষ, অসৎ সুবিধাবাদী শ্রেণির কতিপয় ব্যক্তির অনুপ্রবেশ ঘটার কারণে সৎ সাংবাদিকতা নেতিবাচক বৈরী পরিবেশ মোকাবেলার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। দুর্বৃত্তায়নের কবলে পড়া বিপথগামী গণমাধ্যমকর্মীর সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসার কাজটি এখনই গুরুত্বের সাথে শুরু হওয়া দরকার। কেননা দীর্ঘ সময় ধরে চলমান এই মানবকল্যাণের পরিপন্থী বিষয়টির লাগাম টেনে না ধরতে পারলে ক্রমেই তা ফ্রাঙ্কেনস্টাইন হয়ে ওঠবে।সংবাদপত্রকে হতে হবে সত্যানুসন্ধানে ও উপস্থাপনে সদা সতর্ক। কারণ একটি ভুল সংবাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্তি থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত মারাত্মক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। ভুল তথ্য, ভুল সংবাদ মানুষকে বিভক্ত করে, মানবতাকে ভূলণ্ঠিত করে- এ রকম দৃষ্টান্ত অনেক রয়েছে। তাই বিবেকবোধ ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন সংবাদপত্রের কাজ।এখন এই অনলাইন সাংবাদিকতার নবতর রূপ হচ্ছে মোজো বা মোবাইল জার্নালিজম। এখন আর লিখিত, ভিডিও বা অডিও নিউজ করার জন্য অফিসে বা মিডিয়া হাউজে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। এখন সাংবাদিকদের স্মার্ট ফোনটিই অফিস। যেকোন দুর্গম স্থান থেকেও ফোনের মাধ্যমে খবর প্রচার করা সম্ভব। তবে, প্রিন্ট বা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের তুলনায় অনলাইন সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ বেশি। এক সেকেন্ড দেরি করা সম্ভব নয়। কারণ, দেরি করলেই অন্যান্য পত্রিকার থেকে পিছিয়ে পড়বে। এখানে প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতা। আর এই প্রতিযোগিতা করতে গিয়েই মাঝে মাঝে অসত্য নিউজ প্রচার করে ফেলে অনলাইন পত্রিকাগুলো। অনলাইন পোর্টালের কোন নীতিমালা নেই, আর যতটুকু রয়েছে, তার যথাযথ প্রয়োগ নেই। অনলাইন পত্রিকাগুলো অনেকটা খেয়াল খুশি মতো চলছে । ভুলভাল সাংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে অনেক। এর হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে একে দায়িত্বশীল করে তোলা দরকার। আর আমরা যে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বলি, সেই স্বাধীনতাও দায়বদ্ধতা দ্বারা সীমাবদ্ধ এ কথাও মনে রাখা দরকার।এই যুগ অনলাইনের। প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার যুগ প্রায় শেষ। এখন এগুলোর হাত, পা গুটানোর সময় চলে আসছে। যান্ত্রিক জীবনে মানুষের অবসরের সময় নেই ঘরে বসে টিভি দেখার, পত্রিকা পড়ার। এখন হাতের স্মার্ট ফোনটিই টিভি, পত্রিকা। এখন সময় অনলাইন মিডিয়াকে সাজানোর। যত তাড়াতাড়ি অনলাইন মিডিয়া একটি আদর্শিক গতিধারায় পরিচালিত হবে, তত তাড়াতাড়ি দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত ও নিরাপদ হবে, দেশের মানুষের সাংবাদিকতার উপর আস্থা থাকবে। তা না হলে এখন যে হ-য-ব-র-ল অবস্থা, সোশ্যাল মিডিয়ার হাতে অনলাইনের ভবিষ্যৎ দুমড়ে মুচড়ে যাবে। ক্ষীণ হয়ে যাবে অনলাইন মিডিয়ার পথচলা। অনেকেই অনলাইন মিডিয়াকে পরগাছা মাধ্যম বলে থাকেন। পরগাছা মাধ্যম বলতে এটি সোশ্যাল মাধ্যম ফেইসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। বর্তমানে মানুষ টিভি ও প্রিন্ট মিডিয়ার চেয়ে অনলাইনই বেশি দেখে। নিরাপত্তার জন্য অনলাইন মিডিয়াগুলোকে একটি প্লাটফর্ম বা কোন সংগঠন তৈরি করা দরকার।
আওরঙ্গজেব কামাল
মহাসচিব
বাংলাদেশ ন্যাশনাল নিউজ ক্লাব

Comments

comments

সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

© 2011 Allrights reserved to Daily Detectivenews