আইপিও অর্থ লুটপাটের অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই: বিএসইসি

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম.খায়রুল হোসেনের বিরুদ্ধে আইপিও অর্থ আত্মসাৎ বা লুটপাটের অভিযোগে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এমন খবর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। আর প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
আজ ২২ আগস্ট বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো: সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২১ ও ২২ আগস্ট,২০১৯ তারিখে কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদক কর্তৃক অনুসন্ধান সংক্রান্ত প্রতিবেদনের প্রতি কমিশনের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, দুর্বল কোম্পানির অনুমোদন দিয়ে “অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের” অভিযোগে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম.খায়রুল হোসেনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
কোন দেশের পুঁজিবাজারের প্রধান কাজ হচ্ছে দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি পুঁজির সরবরাহ নিশ্চিত করা। আইপিওসহ বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানসমূহ পুঁজিবাজার হতে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করে থাকে। কমিশন নিজ উদ্যোগে যেমন কাউকে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের জন্য বাধ্য করে না। একইভাবে কোন বিনিয়োগকারীকেও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য উদ্বুদ্ধ করে না। আগ্রহী ইস্যুয়ার প্রতিষ্ঠানসমূহ ইস্যু ম্যানেজারের সহায়তায় পাবলিক ইস্যুর জন্য আবেদন করলে কমিশন প্রযোজ্য আইন অনুসারে সকল শর্ত পূরণ করেছে কিনা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি দাখিল করেছে কিনা এবং সকল তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে কিনা তা যাচাই বাছাই করে। বিধি মোতাবেক সকল শর্ত পূরণ সাপেক্ষেই শুধুমাত্র পুঁজি উত্তোলনের অনুমোদন প্রদান করা হয়ে থাকে। ইস্যু অনুমোদনের ক্ষেত্রে কমিশন কোনো মূল্য নির্ধারণ করে না এবং ইস্যুকৃত সিকিউরিটিজের ভবিষ্যত মূল্য কি হবে তার নিশ্চয়তাও প্রদান করে না। সারাবিশ্বের পুঁজিবাজারে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী কমিশন তথ্য প্রকাশ (ডিসক্লোজার) এবং বিদ্যমান আইনের ভিত্তিতে ইস্যু অনুমোদন করে থাকে। চেয়ারম্যান একাকী কোন আইপিও অনুমোদন দেন না।
সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনারের মাধ্যমে চেয়ারম্যানের কাছে সুপারিশ প্রেরণের পরে চেয়ারম্যান উপস্থাপনের নির্দেশনা দিলে কমিশন সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়। কোন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে ঝুঁকির কি সম্ভাবনা আছে যা যাচাই বাছাই করে বিনিয়োগকারগণ জেনে-বুঝে বিনিয়োগ করতে পারেন সে জন্য প্রসপেক্টাসে কোম্পানি এবং এর ব্যবসা সংক্রান্ত সকল তথ্য সন্নিবেশিত হয়। এসকল তথ্য যথাযথ আছে কিনা তা নিশ্চিতকরণের দায়িত্ব ইস্যুয়ার, নিরীক্ষক, ইস্যু ম্যানেজার, ক্রেডিট রেটিং কোম্পানিসহ বিভিন্ন পক্ষের। কোন দেশের কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থাই প্রসপেক্টাসে সন্নিবেশিত তথ্যে সঠিকতা নিরুপণ করে না। দাখিলকৃত কাগজপত্রের ভিত্তিতে প্রসপেক্টাসে সকল তথ্য প্রকাশিত হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কমিশনের।
কমিশন ও এক্সচেঞ্জে আইপিও আবেদনের সাথে সাথেই কোম্পানির ওয়েবসাইটে খসড়া প্রসপেক্টাস প্রকাশ করা হয়ে থাকে যা সকলের জন্য উন্মুক্ত। কোন আইপিওতে বিনিয়োগকারীদের আবেদন যদি ৬৫% এর কম হয়ে থাকে তবে আইপিওটি বাতিল হয়ে যায়। আর ৬৫% এর উপরে কিন্তু ১০০% এর নিচে হলে অবলেখক প্রতিষ্ঠানসমূহ অবশিষ্ট অংশ ক্রয় করে। তবে, বিগত ১০ বছরের আইপিওর আবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় তা ৭৮ গুন (৭৮০০%) পর্যন্ত অধিক হারে জমা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন আইপিও লেনদেনের শুরুর সময় ইস্যু মূল্যের নিম্নে ছিল না, যেখানে অন্যান্য দেশের অনেক কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের শুরুর দিনেই ইস্যু মূল্যের নিচে নেমে যায়। বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে ২০১৭ সালে ২৩% কোম্পানির শেয়ার লেনদেন শুরুর দিনে ইস্যু মূল্যের নিচে ছিল, আর ২০১৮ সালে এর পরিমাণ ছিল ৩৬%। আলিবাবা, ফেসবুক, উবারসহ অন্যান্য অনেক স্বনামধন্য কোম্পানির ক্ষেত্রেই এই ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত ১০ বছরে আইপিও’র মাধ্যমে তালিকাভুক্ত ৮৮টি কোম্পানির মধ্যে ৯টির শেয়ারের বর্তমান বাজারদর অভিহিত মূল্যের নিচে যা এই সময়ে মো ইস্যুর মাত্র ১০%। যেখানে আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে এর পরিমাণ ৬১%। পরবর্তীতে সেকেন্ডারি মার্কেটে কোন শেয়ার দর কি হবে তা নির্ধারিত হয় যোগান এবং চাহিদার ভিত্তিতে। কমিশনের এক্ষেত্রে কিছুই করণীয় নেই। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কমিশনের কাজ বাজারে অনিয়ম বা কারসাজি হলে তা শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যা নিয়মিত ভাবে করা হচ্ছে। কমিশনের চেয়ারম্যান, কমিশনার এবং কর্মচারীদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বা লেনদেন নিষিদ্ধ থাকায় চেয়ারম্যান এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে কোন বিও হিসাব নেই এবং তালিকাভুক্ত বা অ-তালিকাভুক্ত কোন কোম্পানিতে কোন ধরণের বিনিয়োগ নেই। কোম্পানিসমূহ আইপিও’র মাধ্যমে যে অর্থ উত্তোলন করে থাকে তার প্রতিটি টাকা কোন খাতে ব্যয় হবে তা প্রসপেক্টাসে প্রকাশ করা হয়ে থাকে এবং পরবর্তীতে উক্ত অর্থ ব্যবহারের প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করতে হয়। কাজেই আইপিও’র অর্থ আত্মসাৎ বা লুটপাটের অভিযোগের কোনই ভিত্তি নেই।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের পুঁজিবাজার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করে আসছে। কমিশনের কোন চেয়ারম্যান, কমিশনার বা কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী অর্থ বা কোন সুবিধার ভিত্তিতে কোন কাজ করেছে এ ধরণের কোন অভিযোগ কখনই উত্থাপিত হয় নাই। কারো এরুপ কোন অভিযোগ কমিশনে দাখিল করলে কমিশন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে অঙ্গিকারাবদ্ধ।
ড. এম খায়রুল হোসেন একজন্য অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তার বিরুদ্ধে এ ধরণের মিথ্যা, বানোয়াট অভিযোগ উত্থাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার এই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কমিশন তীব্র প্রতিবাদ জানায়। বিশ্ব জুড়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাসমূহকে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। এ ধরণের এক বা একাধিক সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি কোন ভিত্তিহীন অভিযোগ করলেই তা প্রমাণিত বলে ধরে নেয়া যায় না। আর এ ধরণের কল্পিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বহুল প্রচারিত পত্রিকাসমূহে ফলাও করে প্রচার এবং পদত্যাগের দাবী উত্থাপন একদিকে যেমন অনভিপ্রেত এবং দু:খজনক, একই সাথে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চরম ব্যত্যয়। কমিশন সংশ্লিষ্ট সকল মহল থেকে এ জাতীয় সংবেদনশীল বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে।

Comments

comments

সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

© 2011 Allrights reserved to Daily Detectivenews